শনিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২১
Home Blog

মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে কয়েক দফায় সংঘর্ষ!

0

ফরহাদ হোসেন রানা, ষ্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর মিরপুরে পুরো সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে আসছিল কয়েকটি সুবিধাবাদী সিন্ডিকেট মহল। সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) অভিযান চালাতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এ.এস.এম আজম ও পুলিশের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকর্তারা সহযোগীতা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, উত্তরের স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি ইসহাক হোসেন ইসহাক, এজাজ আহমেদ স্বপন, আবদুল ওয়ালিদ সুজন, ফরহাদ হোসেনসহ রাজনৈতিক অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাও কঠোর ভুমিকা পালন করেন।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর আহতের খবর পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ইটপাটকেল ছুড়ছলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও পরে রাবার বুলেট ছুড়েন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরো পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়। উচ্ছেদের আগে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে নোটিশ করা হলেও তারা কোনো কর্নপাত করেনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মিরপুর ১১-এর এভিনিউ-৪ (পল্লবীতে) অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামে ডিএনসিসি। সেখানে নিউ সোসাইটি মার্কেট ও মোহাম্মদীয়া মার্কেটের সামনে পুরো সড়ক জুড়ে থাকা অবৈধ দোকানপাট ভাঙতে চায় ডিএনসিসি।

অবৈধভাবে মুল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হাজার হাজার দোকান বসে। ফলে ভাষানী মোড়ে সব সময়ই তিব্র যানজট লেগেই থাকতো। সড়ক থাকলেও যানবাহন চলাচল ওই সড়কে বন্ধ ছিলো। অবৈধ স্থাপনার কারনে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হতো পথচারিদের। দৈনিক লাখ লাখ টাকার চাঁদা কালেশন হতো ওই দোকানগুলো থেকে। বিহারীদের নেতারা এই সড়ক ও ফুটপাত পরিচালিত করে বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতো। আজ বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।

একপর্যায়ে অবৈধ দখলদাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফুটপাতের ওপর থাকা একটি টিনশেড দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলে দখলদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে অভিযান টিমের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা ঢিল ছুড়তে থাকলে পুলিশসহ উচ্ছেদ অভিযানে থাকা লোকবল পিছু হটে।

পরে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে চাইলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এভাবে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ২-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শফিউল আজম অভিযানে নেতৃত্ব দেন। স্থানীয়রা বলেন, এই সড়ক দখল মুক্ত হলে হাজার মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। চুরি ছিনতাই কমবে সকল ধরনের যানবাহন ও চলতে পারবে। এখানে বড় একটা মাদকের সিন্ডিকেটের আখড়াও ধ্বংস হয়েছে বলে জানা যায়।

ঝিনাইদহের সাবেক দুই সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

0
ঝিনাইদহের সাবেক দুই সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইদহে একজনের জমি অন্যজনের
নামে রেকর্ড দেওয়ার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে একজনের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের সাবেক দুই সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জমি উদ্ধার ও মালিকানা ফিরে পেতে প্রকৃত জমির মালিকরা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের হামদহ মৌজার ১৬৮৮ ডিপি খতিয়ানে মাঠ জরিপে যথাক্রমে ৩৭৪৮, ৩৭২৫, ৩৭২৪, ৩৭১৭ ও ৩৭০৮ দাগে সর্বমোট ১০৬.৮৬ শতক জমি রেকর্ড হয় হামদহ এলাকার মরহুম মকবুল হোসেনের নামে। মাঠ জরিপের পর ঝিনাইদহ সেটেলমেন্ট অফিসে ৩০ ও ৩১ ধারা শুরু হলে ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতি, হামদহ ও কালিকাপুরের কতিপয় ভুমিদস্যু ও প্রভাবশালীরা উক্ত জমির রেকর্ড কেটে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সুত্রমতে তৎকালীন ঝিনাইদহ সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ৩৭২৫ দাগে ৩৩ শতক জমির মধ্যে ৩ শতক কালিকাপুরের আব্দুল গনি জোয়ারদারের ছেলে বাবুল জোয়ারদার নিজ নামে শুনানী কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এরমধ্যে ৩৭১৭ দাগের ১৬.৫০ শতক জমি বিনা নোটিশে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মোঃ মতিয়ার রহমান ভুটিয়ারগাতি গ্রামের আনসার আলী জোয়ারদারের ছেলে আবুল কালাম, আলমগীর কবীর, নজরুল ইসলাম ও ফিরোজ কবীরের নামে রেকর্ড করে দেন। এই মামলায় মকবুল হোসেনের ওয়ারেশ হিসেবে জনৈক বাবু নাকে এক ব্যক্তিকে বিবাদী দেখানো হয়েছে। ২০০৬ সালের ১৭ মে তারিখে ঝিনাইদহ পৌরসভা থেকে ১৭০৫ নং স্মারকে মকবুল হোসেনের যে ১২ জনের নামে ওয়ারেশ কায়েম সাটিফিকেট ¤েওয়া হয়েছে তাতে বাবু নামে কেও নেই। এখন প্রশ্ন উঠেছে কে এই বাবু ? ২০১৫ সালের ১৮ মে তারিখে ৫টি হাল দাগের জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করেন মকবুল হোসেনের ওয়ারেশগন। ৩১ ধারায় ৩৭২৫ সহ বেশ কিছু দাগের জমি ফিরে পায় মকবুল হোসেনের ওয়ারেশগন। একই ভাবে ৩৭০৮ দাগের ১৬.৩৭ শতক জমির মধ্যে ৩ শতক কেটে হামদহ এলাকার শাহিনুরের স্ত্রী স্মৃতি খাতুন ও ওলিয়ারের স্ত্রী রিনা খাতুনের নামে রেকর্ড করে দেন, যার বাটা দাগ ৩৮১৬ ও ৩৮১৭। সবচে জালিয়াতির কান্ড ঘটানো হয়েছে ৩৭২১ দাগের ৩.৭৫ শতক জমি নিয়ে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে এই দাগের জমি জনৈক জাবেদ আলী মাঠ জরিপের আগে ৩ জনের কাছে বিক্রি করে যান। আর খাসে থাকে ৩.৭৫ শতক জমি। জবেদ আলীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশগন হাল ৩৭২১ দাগ থেকে উক্ত জমি রিনা ও খালেদার কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু ৩১ ধারায় রিনা ও খালেদার জমির রেকর্ড দেওয়া হচ্ছে মকবুল হোসেনের হাল ২১০৮ দাগ থেকে ৬ শতক। ৩১ ধারায় মকবুল হোসেনের ওয়ারেশগন উক্ত জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করলে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মোঃ মতিয়ার রহমান ও বায়োজিদ মোস্তফা সব কেসগুলো আমলে নিয়ে নিস্পত্তি করলেও একটি কেস ০৩/০৯/২০১৫ তারিখে ভুমি মন্ত্রনায়ের চিঠির বরাত দিয়ে খারজি করে দেন। অথচ মকবুল হোসেনের পক্ষে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করা হয় ১৮/০৬/২০১৫। এদিকে মকবুল হোসেনের ওয়ারেশ হিসেবে তার সন্তান নজরুল ইসলাম ঝিনাইদহ সেটেলমেন্ট অফিসে ন্যায় বিচার পাবেন না আঁচ করতে পেরে আগেই তার মামলাগুলো যশোরের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে স্থানান্তর করার জন্য আবেদন করেন। একই সাথে তিনি দুদকে আবেদন করেন। বিষয়টি ব্যাপক ভাবে জানাজানি হয়ে পড়লে সে সময় জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা এমডি আব্দুস সালাম জবাব চেয়ে ১০৭১ স্মারকে ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টম্বর তারেিখ পত্র দেন ঝিনাইদহ সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মতিয়ার রহমানের কাছে। নোটিশ দেন শুনানীর জন্য। শুনানীতে উভয় পক্ষ উপস্থিত হন। তবে রহস্যজনক কারণে শুনানীও করা হয়না। এদিকে সেটেলমেন্ট অফিসার মতিয়ার রহমান জোনাল অফিসের চিঠির জবাব না দিয়ে বিচারের নামে প্রহসন করেন। মকবুল হোসেনের জমি কেটে অন্যের নামে দিয়ে যান। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দিয়ে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যাবহার ও সেচ্ছেচারিতার নজীর স্থাপন করেন। এই মহাজালিয়াতির মাধ্যমে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করিয়ে দেওয়া হলেও ওই দুই সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে তৎকালীন ঝিনাইদহ সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা (বর্তমান অবসরে) মোস্তফা কামাল মুঠোফোনে জানান, আমিসহ অন্যান্য অফিসারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়। সঠিক কাগজপত্র দেখেই আমরা রায় দিয়েছি। এখানে কোন স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি করা হয়নি।

অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়ের নামে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে চম্পট!

0

স্টাফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ নিউজ২৪
‘অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন রানার গ্রেফতার ও সঞ্চয়ের টাকা ফেরতের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনের সদস্য ও প্রতারণার শিকার কর্মচারীরা সকাল ১০টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ রোডে এ কর্মসূচী পালন করে। সমাবেশে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন ফাউন্ডেশনের নামে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সমস্ত অফিস গুটিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা পরিচালকের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও সমাজসেবার নামে কথিত ‘অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশন’ ঝিনাইদহের শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডুসহ ৩ জেলা থেকে ৫ কোটির বেশী টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গাছের চারা বিতরণ, সেলাই প্রশিক্ষন ও প্রশিক্ষন শেষে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরন আর স্বল্প সূদে দীর্ঘ মেয়াদী লোন এবং বয়স্ক ভাতার কথা বলে ইউনিয়নে ইউনিয়নে সদস্য সংগ্রহ আর সঞ্চয় নেয়া হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে তথ্য ভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানানো হলেও এখনো অধোরা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালকসহ কর্মকর্তারা। উল্টো এই চক্রের হোতারা ফাউন্ডেশনের সদস্য ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি ও অভিযোগ করছে। নিবন্ধন বিহীন কথিত অরণ্য কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আনোয়ার হোসেন রানা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। উল্লেখ্য সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন ওরফে রানা মন্ডল ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মান্দিয়া গ্রামের মৃত আইজুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় পৃথক স্থানে নিহত ২ আহত অন্তত: ২১ জন।

0
ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় পৃথক স্থানে নিহত ২ আহত অন্তত: ২১ জন।

স্টাফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ নিউজ২৪
পৃথক পৃথক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের দুইজন নিহত হয়েছে। যশোরে যাত্রীবাহী বাস উল্টে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১জন। শনিবার বিকেলে ৩টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কে হুদোরাজাপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার বিয়াশপুর গ্রামের শারাফাত হোসেনের ছেলে শাহীন (১৫) ও মণিরামপুরের সিংড়া ইসমাইল হোসেনের ছেলে মাহাদী হাসান (১৮)। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫জনের অবস্থা আংশকাজনক। যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- যশোরের তামিম হোসেন (২৫), শিমুল (৩২), আবদুল গফুর (৬০), আরাফাত হোসেন (৩), ইশান (৪), মনোয়ারা বেগম (৩৪), মাগুরার রবিউল ইসলাম (৪৫), আজিজ হোসেন (৫৭), নবীরুন নেছা (৪৪), রবীন্দ্রনাথ (২৮), আকিদুল (২৮), ভানু (৫৪)। যশোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লোকাল বাসটি মাগুরা থেকে যশোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটি সদর উপজেলার হুদোরাজাপুর নামকস্থানে পৌঁচ্ছালে অপর একটি গাড়িকে পাশ দিতে গিয়ে রাস্তার নিচে নেমে যায়। এরপর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি উল্টে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। স্থানীয়দের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। বাসটিতে ৩০ থেকে ৩৫জন যাত্রী ছিল। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এনাম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসাধীন আছে। পাঁচজনের অবস্থা আশংকাজনক। এদিকে বগুড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সাগর (৪৫) নামের একজন ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে বগুড়া শহরতলীর ফুলদীঘি নামক স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাগর ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বার বাজার মদনপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, সাগর ট্রাক নিয়ে বগুড়ার ফুলদীঘিতে গতকাল বৃহস্পতিবার মালামাল নিতে আসেন। মালামাল পেতে দেরি হওয়ায় হেলপারসহ তিনি মহাসড়কের পার্শ্বে ট্রাক সাইড করে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাগর ট্রাকে চালকের আসন থেকে নিচে নামছিলেন। তিনি মহাসড়কে নামার সঙ্গে সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মহাসড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টায় তিনি মারা যান। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক হোসাইন (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল (ছিলিমপুর) পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজ মন্ডল বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে রাখা হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের কাছে সংবাদ পাঠানো হয়েছে।

শৈলকুপায় ৭ দিন পর কৃষকের লাশ মিলল বাড়ির পাশে!

0
শৈলকুপায় ৭ দিন পর কৃষকের লাশ মিলল বাড়ির পাশে!

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ

শৈলকুপার রিপন নিখোঁজের পর তার মেজ ভাই পলাতক কেন?
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চররূপদাহ গ্রামে রিপন হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি বাড়ির পাশের একটি ডোবায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বুধবার সকালে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপনের মেজ ভাবি ফরিদা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পলাতক রয়েছে মেজ ভাই নাননুু। নিহত রিপন হোসেন নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের চররূপদাহ গ্রামের মৃত বারিক বিশ্বাসের ছেলে। গ্রামবাসি জানায়, বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় লাশের হাত দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অর্ধ-গলিত রিপনের লাশ উদ্ধার করে। হত্যার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ধারনা করছে, রিপনের মেজ ভাবি ফরিদার সঙ্গে তার পরোকিয়া থাকতে পারে। এ কারণে মেজ ভাই নাননু তাকে হত্যা করতে পারে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মাঠের ধান পাহারা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রিপন। মাঠেই পড়ে ছিল মোবাইল ও গায়ের চাদর। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের দুলাভাই পদ্মনগর গ্রামের নজরুল ইসলাম শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। রিপন নিখোঁজ হওয়ার পর দিন থেকেই মেজ ভাই নাননু গাঢাকা দেয়। দুলাভাই নজরুল ইসলাম জানান, তার শ্যালক রিপন দীর্ঘদিন মালেশিয়ায় ছিল। দুই বছর আগে দেশে ফিরে চাষাবাদ শুরু করেন। গত বুধবার জমির ধান পাহারা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তার জমিতে মোবাইল ফোন ও চাদর পড়ে থাকতে দেখে আমরা থানায় জিডি করি। সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম জানান, হত্যার ক্লু-উদঘাটন ও এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ চলছে। আশাকরি দ্রæতই দোষিরা গ্রেফতার হবে।

বিজয় দিবসে ঝিনাইদহ স্মৃতি সৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্প মাল্য অর্পণ।

0
বিজয় দিবসে ঝিনাইদহ স্মৃতি সৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্প মাল্য অর্পণ।

জাহিদুর রহমান তারিক, ষ্টাফ রিপোর্টার,
ঝিনাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টায় প্রেরনা একাত্তর চত্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের সাথে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। এরপর স্মৃতি সৌধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে পুষ্প মাল্য অর্পণ করা হয়। এছাড়াও দিন ব্যাপী বিজয় দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল সহ নানা কর্মসুচি পালিত হচ্ছে।

১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন প্রধানমন্ত্রী

0
১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন প্রধানমন্ত্রী

আবির, রিপোর্টার, বাংলাদেশ নিউজ২৪

১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। ইতিহাসে এমন স্বাধীনতার গল্প আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাঙালীদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে পরাধীনতায় রাখতে চেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু তারা সফল হতে পারে নি। আর সফল হওয়া সম্ভব না। কারন বাঙালী জাতি বীরের জাতি। তারা কখনই নিজের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করতে শিখেনি। স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষার্থে জীবন আর রক্ত দিতে সদা সর্বদা প্রস্তুত। এই স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করতে হয়েছে বীর বাঙালীদের। যা মুক্তিযুদ্ধ নামে ইতিহাসে পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। এই মুক্তিযুদ্ধে দিতে হয়েছে হাজারও রক্ত, হাজার জীবন, হাজারও মা বোনের সম্ভ্রম। বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা ত্রিশ লক্ষ প্রাণের ও পাঁচ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। আজ বিজয় দিবসে সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের অংগসংগঠন, একাডেমি, সোনালী ব্যাংক, ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান ও বিজয় দিবস উজ্জাপন করেন। সম্মান প্রদর্শনের পর তারা বিবৃতিতে বলেন মুক্তযোদ্ধারা তাদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন তা ভোলার নয়। তাই আমরা এই স্বাধীনতা ধরে রাখতে প্রানপন চেষ্টা করে যাব। আবার গণসংহতি থেকে বিবৃতিতে বলেন এই স্বাধীন বাংলাদেশে গনতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক ব্যাবস্থার পরিবর্তন আনা দরকার। সরকার নির্বাচনে যে জবাবদিহিতা থাকা দরকদর তা কমে গেছে। আর গনসংহতি সে দিকেই আন্দোলন সংগ্রাম করে চলছে।

দুদকের জালে আঁটকা পড়লেন কালীগঞ্জের দলিল লেখক নাসির সাথে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সেই মহাদুনীর্তিবাজ দলিল লেখক নাসির উদ্দীন চৌধুরী এখন দদুদকের জালে। পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া মাত্র ০৪ শতক জমি থেকে এখন মাঠে প্রায় ৬০ বিঘা জমি। ব্যংকে কোটি কোটি টাকা। আলিশান বাড়ি। স্ত্রী থাকার পরও শ্যালিকা বিয়ে করে তাদেরও সম্পদ দিয়ে ভরপুর করেছেন। গল্পটি শুনতে আবাক হলেও পেশায় একজন দলিল লেখকের এই অঢেল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অর্থ আর রাজনৈতিক ক্ষমতায় হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। চলাফেরা করেন দাপটের সঙ্গে। হত্যাসহ একাধিক মামলা ছিল। ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের নাসির চৌধুরী নামের এই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি টাকার অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্যনের অভিযোগে দুদুক মামলা করেছেন। দুদকের যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাঃ মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে আগামী বছরের ৩ জানুয়ারী প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। নাসির চৌধুরী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সিমলা-রোকন পুরইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের জামসের আলী চৌধুরীর ছেলে। তিনি বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক হিসেবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি কালীগঞ্জের সিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, দুদুক সম্মনিত জেলা কার্যালয় যশোরের সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম মোড়ল নাসির চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ গুলোর তদন্ত করেন। তদন্তকালে দেখা যায় আসামী নাসির চৌধুরী তার নিজ নামে ব্র্যাক ব্যাংক লিঃ যশোর শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব ও ১২ টিএফডিআর হিসাব খোলেন। এগুলোতে তিনি বিভন্নি সময়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঞ্চয়ী হিসাব থেকে টাকা স্থানন্তর করে অন্য এফডিআর এ জমা করা হয়েছে। সর্বপরি সকল ক্ষেত্রে এফডিআর হতে হস্তান্তর করে মূল সঞ্চয়ী হিসাবে এনে আবার সেখান থেকে উত্তোলন করেন। নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ২০১২ সালের ৭ ফেব্রয়ারি ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৭ টিএফডিআর এ ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। যা থেকে তিনি ০১/১১/২০১৫ তারিখে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোল করে একই ব্যাংকে স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে সঞ্চয়ী হিসাবে হস্থান্তর করেন। এছাড়া তিনি ওই শাখায় স্ত্রী খাদিজা বেগমের নামে একটি সঞ্চয়ী ও ৫ টিএফডিআর খুলে লেনদেন করেন। যার মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাবটি এখনও চলমান রয়েছে। ০৪/০২/২০১৩ তারিখ থেকে ০৭/১১/২০১৯ তারিখে ওই ৬টি সঞ্চয়ী ও এফডিআরের মাধ্যমে বিপুর পরিমান টাকা লেনদেন করেন। তিনি স্ত্রীর নামের এই সকল এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ১ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৪১৬ টাকা উত্তোলন পূর্বক স্থানন্তর করেন। অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তার শালিকা (দ্বিতীয় স্ত্রী) মোছাঃ মাহফুজা খাতুনের নামে যশোরের ব্র্যাক ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব ও ৪ টিএফডিআর খুলে দেলদেন করেন। যার মধ্যে বর্তমানে একটিও চলমান নেই। ওই ৫টি হিসাব পর্যালোচনা করে দুদক নিশ্চিত হয়েছেন অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা জমা করে সেখান থেকে এফডিআর হিসাবে জমা করেছেন। যেখান থেকে আবার সঞ্চয়ী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত ০২/০২/২০১৪ তারিখ থেকে ১৪/০৫/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৮ টাকা উত্তোলন পূর্বক স্থানন্তর করেছেন। নাসির উদ্দিন চৌধুরী তার শ্যালক মোঃ জিয়াকুব আলীর নামে একই ব্র্যাক ব্যাংক ও যশোরের এবি ব্যাংকে এফডিআর ও এম.আই.ডি.এস হিসাব খুলে ৮০ লাখ টাকা জমা করেছিলেন। যা সম্পূর্ণ উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানন্তর করেন। তার শ্যালক তদন্তকারী সংস্থাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কলেজ পড়য়া ছেলে মোঃ মারুফ হোসেন রিয়াজের নামে রুপালী ব্যাংক লিঃ কালীগঞ্জ শাখায় আর.এস.এস হিসাব খুলে সেখানে ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন চৌধুরী অবৈধ পন্থায় দূর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৭০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪ টাকা অর্জন করেছেন। তিনি নিজ নামে, প্রথম স্ত্রী খোদেজা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মাহফুজা খাতুন, শ্যালক জিয়াকুব আলী ও ছেলে মারুফ হোসেন রিয়াজের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআরে জমা করেন। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে অন্যত্র স্থানন্তর করেন। আর এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ধারায় সিনিয়র স্পোশাল জজ আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। আদালত সুত্রে জানাগেছে, গত ২৪ নভেম্বর দুদুক কর্মকর্তা ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি নথিভুক্ত করার আবেদন করেন। আদালত শুনানী শেষে ৩০ নভেম্বর আদেশের দিন ধার্য্য করেন। ধার্য্য তারিখে মামলা নথিভুক্ত করে আগামী ৩ জানুয়ারীর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মামলার তদন্তকারী দুদুক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে দুদক যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ নাজমুস সাদাত জানান, তারা দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমতি পেয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত ও পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত চলছে, এখনও আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। এ বিষয়ে দলিল লেখক নাসির উদ্দীন চৌধুরী জানান, মামলা দায়েরের খবর তিনি জানেন না। তাই এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান নি। উল্লেখ্য দুর্নীতিবাজ নাসিরের কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়ায় ৩টি আলীশান বাড়ি, নদীপাড়ায় একটি ও কুল্লোপাড়ায় বাগান বাড়ি রয়েছে। দলিল লেখক নাসির চৌধুরীর জমিজাতি আছে অঢেল। গ্রামে তার কারণে কেও উচ্চমুল্যে জমি কিনতে পারে না। তার কাছে জমি বিক্রি না করলে বাড়ি হামলা করা হয়। গ্রামের কোন বিবাহিত মেয়ে পিতামাতার ফারাজ বিক্রি করতে চাইলে কম টাকায় সেই জমি কিনে নেন নাসির। পিতার ৪ শতক জমি থেকে নাসির চৌধুরী শত কোটি টাকার জমি কিনেছেন। সর্বশেষ তথ্য মতে নাসিরের নামে ৫৯.২৭ বিঘা জমির সন্ধান মিলেছে। কালীগঞ্জের বাবরা, পকুরিয়া, তিল্লা, ডাকাতিয়া, এ্যাড়েখাল, মনোহরপুর, সিমলাসহ বিভিন্ন মাঠে এই জমি রয়েছে। এ নিয়ে ২০১৯ সালে বিভিন্ন গনমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য গত ২৩ নভেম্বর যশোর দুর্ণীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কর্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ নাজমুচ্ছায়াদাত মামলাটি রুজু করেন।

হরিণাকুন্ড দারিয়াপুর গ্রামে ব্রিজ না থাকায় হাজারো মানুষের চরম ভোগান্তি

0

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ
ব্রিজটি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাঁখারীদহ বাজার সংযোগ সড়কের দারিয়াপুর গ্রামে একটি ব্রিজ না থাকায় হাজারো মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। তবুও টনক নড়ে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান বাজার থেকে শত শত মানুষ ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রায় এক বছর ধরে নির্মানের অভাবে এভাবেই পড়ে রয়েছে। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষদের। চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। জীবিকার তাগিদে গ্রামের মানুষ এই পথ দিয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলাসহ জেলা শহরে যাতায়াত করছে। এই পথে চলাচল করতে গিয়ে সবচে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রিক্সা, ইজিবাইক ও নছিমন চালকরা। তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। এলাকাবাসী জানান, আম্ফান ঝড়ের পরের দিন ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে যায়। কিন্তু এখনো কোন কাজ হয়নি। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তবে ব্রিজটি নির্মাণকারী সংস্থা এলজিইডি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবহিত আছেন। এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপ সহকারি প্রকৌশলী লিয়াকত আলী জানান, ব্রিজটি দ্রæত নির্মান করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি করা হবে।

দুর্নীতি-অনিয়ম করায় মধুহাটী ইউপির চেয়ারম্যানসহ ৫ মেম্বর সাময়িক বরখাস্ত

0
দুর্নীতি-অনিয়ম করায় মধুহাটী ইউপির চেয়ারম্যানসহ ৫ মেম্বর সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে দুর্নীতি-অনিয়ম ও সরকারি কাজে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২ নং মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েলসহ ৫ জন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (যার স্মারক নং ১৩৫৫) এ তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে ১৩৬৫ নং স্মারকে কেন উল্লেখিত ৬ জনকে চুড়ান্ত ভাবে অপসারণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত অন্যান্যরা হলেন, মধুহাটী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য চোরকোল গ্রামের আশরাফুল ইসলাম,২ নং ওয়ার্ডের সদস্য শ্রীপুর গ্রামের শ্রী শান্তি বিশ্বাস, ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য নওদাপাড়া গ্রামের মোঃ আঃ মজিদ, ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য কুবিরখালী গ্রামের মোঃ গোলাম রসুল এবং ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য বেড়াশুলা গ্রামের মোঃ রসুল। প্রজ্ঞাপনের চিঠিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে সাময়িক বহিস্কার করে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ৪ এর (খ) ও (ছ) ধারা অনুযায়ী কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না জানতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে সরকারের ১০ টাকা কেজি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম ধরা পড়ে মধুহাটী ইউনিয়নে। পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল ইউপি সদস্যদের সাথে যোগসাজশে একই জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে প্রায় ৪০টি কার্ড করে চাল আত্মহসাত করে আসছিলেন। এই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০টি কার্ডে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এই বিষয়ে অত্র দৈনিকে তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্তে অনিয়মের চিত্রটি ধরা পড়ে। প্রথমে দুইজন ডিলার মহামায়া গ্রামের জানেব মন্ডলের ছেলে জিয়াউর রহমান নয়ন ও নওদাপাড়া গ্রামের সবদার আলীর ছেলে ইমদাদুল হককে বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফ উজ জামান চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েলসহ ৭ জন ইউপি সদস্যকে বহিস্কারের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ সাময়িক বরখাস্তের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ঝিনাইদহের মধুহাটী ইউপির চেয়ারম্যানসহ ৫ মেম্বর সাময়িক বরখাস্ত
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে দুর্নীতি-অনিয়ম ও সরকারি কাজে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২ নং মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েলসহ ৫ জন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (যার স্মারক নং ১৩৫৫) এ তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে ১৩৬৫ নং স্মারকে কেন উল্লেখিত ৬ জনকে চুড়ান্ত ভাবে অপসারণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত অন্যান্যরা হলেন, মধুহাটী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য চোরকোল গ্রামের আশরাফুল ইসলাম,২ নং ওয়ার্ডের সদস্য শ্রীপুর গ্রামের শ্রী শান্তি বিশ্বাস, ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য নওদাপাড়া গ্রামের মোঃ আঃ মজিদ, ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য কুবিরখালী গ্রামের মোঃ গোলাম রসুল এবং ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য বেড়াশুলা গ্রামের মোঃ রসুল। প্রজ্ঞাপনের চিঠিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে সাময়িক বহিস্কার করে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ৪ এর (খ) ও (ছ) ধারা অনুযায়ী কেন চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না জানতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে সরকারের ১০ টাকা কেজি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম ধরা পড়ে মধুহাটী ইউনিয়নে। পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল ইউপি সদস্যদের সাথে যোগসাজশে একই জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে প্রায় ৪০টি কার্ড করে চাল আত্মহসাত করে আসছিলেন। এই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০টি কার্ডে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এই বিষয়ে অত্র দৈনিকে তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্তে অনিয়মের চিত্রটি ধরা পড়ে। প্রথমে দুইজন ডিলার মহামায়া গ্রামের জানেব মন্ডলের ছেলে জিয়াউর রহমান নয়ন ও নওদাপাড়া গ্রামের সবদার আলীর ছেলে ইমদাদুল হককে বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফ উজ জামান চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েলসহ ৭ জন ইউপি সদস্যকে বহিস্কারের সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ সাময়িক বরখাস্তের খবরটি নিশ্চিত করেছে।