অবশেষে কিমকে আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

0
54

হুমকি-পাল্টা হুমকির চাপা উদ্বেগের মধ্যেই অবশেষে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উনকে আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ট্রাম্প বললেন, গোটা মানবজাতির স্বার্থেই এবার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করা উচিত কিমের। ঈশ্বর করুন, আমাদের যেন সত্যিই সেনা নামাতে না হয়!

তা হলে কি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আপাতত যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে চাইছে ওয়াশিংটন? আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলের একাংশ কিন্তু এখনই এতটা আশাবাদী হতে পারছে না। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তিনি যে আলোচনায় বসতে পারেন, ট্রাম্প নিজেও কাল পর্যন্ত তেমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং জাপান থেকে কিমকে কার্যত যুদ্ধের হুমকিই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পেন্টাগনও জানিয়ে দিয়েছিল, পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু ভাণ্ডার ধ্বংস করতে যুদ্ধই একমাত্র পথ।

‘রকেট ম্যান’ কিমের বিরুদ্ধে বুধবার ট্রাম্পের সুর নরম করা নিয়ে তাই জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ‘শত্রুশিবিরের’ দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন বলেই কি ট্রাম্প এতখানি সংযত? দিনটা কিন্তু একেবারেই ‘ট্রাম্পোচিত’ ভাবে শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

জাপান সফর সেরে বুধবার সকালে স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে পা রাখেন ট্রাম্প। সামরিক মর্যাদা দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানায় সিউল।

আর তার ঠিক পর-পরই হেলিকপ্টারে করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড়ে যান ক্যাম্প হামফ্রেজ বিমানঘাঁটিতে। যেখানে দক্ষিণ কোরীয় সেনার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মহড়া চালিয়ে আসছে মার্কিন সেনা। আছে জাপানি সেনারাও।

এই মুহূর্তে সব ঘাঁটি মিলিয়ে ৩০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তাই অনেকেরই দাবি, মুখে আলোচনার কথা বললেও বেপরোয়া কিমকে শিক্ষা দিতে ট্রাম্প আদতে সামরিক সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-র সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তার একটা ইঙ্গিতও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বলেন, আলোচনায় সব মিটে গেলে তো ভালই। আমার বিশ্বাস, পরিস্থিতির উন্নতির দিকে আমরা ভালো ভাবেই এগোচ্ছি। এখন দেখা যাক এর পরে কী হয়! কিমকে ঠেকাতে এ দিন চীন এবং রাশিয়াকে আরও চাপ বাড়ানোর আহবান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পিয়ংইয়ংয়ের তরফে ধেয়ে আসা ধারাবাহিক হুমকি সামাল দিতে ট্রাম্প নিজেদের দিক থেকেও আটঘাট বেঁধে রাখতে চাইছেন। এশিয়া সফর শুরুর আগেই এ জন্য প্রতিরক্ষা খাতে আরো ৪০০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব তিনি দিয়ে এসেছেন মার্কিন কংগ্রেসে। আর এই সফরে তিনি যে আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসাও চাঙা করতে চাইছেন, তা-ও এ দিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here