আরেক পরিমল এনামুল কবির রিপন

0
167

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ছনটেক এলাকার অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির রিপনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

স্কুলের ১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এনামুল কবির রিপনের বিরুদ্ধে ডিসি অফিস, স্কুল পরিদর্শক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে গেলে সম্প্রতি লতা (ছদ্মনাম) নামের ওই ছাত্রী এবং পাতা (ছদ্মনাম) নামের এক তরুনী অভিভাবক তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে।
এছাড়া এনামুল কবির রিপনের বিরুদ্ধে ডিসি অফিস, স্কুল পরিদর্শক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করে জীবনের নিরপত্তাহীনতায় ভুগছে অভিযোগকারী শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা।

এই বিষয়ে ১৯ জন শিক্ষক এবং শিক্ষিকা সম্মিলিতভাবে গতকাল রবিবার (সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে) যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি নং-৬০৩,তারিখ- ১০-০৯-২০১৭ ইং) করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জিডির একটি কপিও এই প্রতিবেদকের কাছে আছে। জিডিতেও অভিযোগকারী শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা এনামুল কবির রিপনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি এবং তাঁদেরকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছে।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আঃ আওয়াল অভিযোগটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নির্যাতিতা মিম জানায়, সে রিপনের স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়তো। এতে রিপন স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করতো। এমন ঘটনায় রিপন একবার স্ত্রীর কাছে ধরাও খেয়েছে।
মিম বলে, ‘স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরত, আমি ছাড়াতে পারতাম না। তারপর স্যার আমাকে শরীরের বিভিন্ন জায়গা স্পর্শ করত। আমি বাধা দিলে, স্যার বলত কেন তুমি কিছু বুঝ না? একদিন স্যারের স্ত্রীর কাছে ধরা পরে যান তিনি। পরে তিনি তার স্ত্রীকে বলে মিম ভয় পেয়েছে তাই জড়িয়ে ধরেছি।’
মিম আরও জানায়, ২০১৬ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়েও স্যার শ্রেণিকক্ষে আমার সাথে বিব্রতকর আচরণ করতো।
মিম বলে, ‘একদিন কোচিং এ অংক ক্লাসে আমি পেছনের বেঞ্চে বসে ছিলাম। ওই সময় তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমি অংক করতে পারা সত্ত্বেও, বুঝানোর উসিলা করে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আমি বাধা দিলে তিনি আমাকে বলেন তুমি কিছু বুঝ না? পরে আমার আম্মু স্যারের বাসায় বিচার নিয়া গেলে সে কোরআন শরীফ ধরে এ কথা অস্বীকার করে।’
এদিকে একাধিকবার এনামুল কবিরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায়, স্কুল এমপিও ভুক্ত করে দিবে এই শর্তে সম্প্রতি একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে একজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষিকা তার বিরুদ্বে বানোয়াট অভিযোগ করছে গত পনেরদিন ধরে।
যদিও সেই সময় নতুন নিয়োগ পাওয়া উক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অলিউর রহমান নিজেই এনামুল কবিরের বিরুদ্বে ছাত্রী এবং ছাত্রদের নারী অভিভাবককে যৌন হয়রাণীর চারটি ভিডিও ক্লিপস নিয়ে এই প্রতিবেদকের সামনে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের এক শিক্ষিকা জানান, এনামুল কবির তার স্কুলের একাধিক ছাত্রীকে এমন লাঞ্ছনা করেছেন। এ কারণে অনেকে স্কুল ছেড়ে চলে গিয়েছে। শুধু তাই নয় তার বিকৃত যৌন আক্রোশ থেকে রেহাই পায়নি স্কুলের একাধিক নারী শিক্ষক ও নারী অভিভাবক।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here