আয়কর মেলায় উপচেপড়া ভিড়, শেষ হচ্ছে আজ

0
97
আয়কর মেলার ষষ্ঠ দিনে গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্মাণাধীন রাজস্ব ভবনে করদাতা ও সেবা প্রার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অত্যধিক জনসমাগমের কারণে মেলার সময় আটটায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মেলায় আসা করদাতাদের উল্লেখযোগ্য অংশই তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া কর সনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নেওয়ার মাধ্যমে নতুন করে আয়করের খাতায়ও নাম লিখিয়েছেন অনেকে।
রিটার্ন প্রদান শেষে এনবিআরের দেওয়া ‘ইনকাম ট্যাক্স আইডি কার্ড’ পেতে দীর্ঘ লাইনও চোখে পড়েছে। চলতি বছর নতুন করে এটি চালু করেছে এনবিআর। ট্যাক্স আইডি কার্ড পেয়ে সন্তুষ্টির পাশাপাশি উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও এনবিআর চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এই আইডি কার্ডের ছবি প্রদর্শন করছেন। তবে করদাতারা আরো প্রশস্ত পরিসরে মেলা আয়োজন করার দাবি জানিয়েছেন। মেলা প্রাঙ্গণে অত্যধিক ভিড়ের কারণে সেবা পেতে বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে গত বুধবার শুরু হওয়া মেলা শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। শেষদিকে এসে মেলার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি করেছেন অনেকে। কিন্তু মেলার সময়সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন এনবিআর সদস্য ও মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময় বাড়িয়ে রাত আটটা বা দশটা পর্যন্ত করছি। কিন্তু সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। এর পর যারা বাকী থাকবেন নভেম্বর মাসব্যাপী আয়কর অফিসে গিয়ে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এছাড়া আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর সপ্তাহ পালন করা হবে। ওই সময়ও উত্সবমুখর পরিবেশে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন করদাতারা।
রাজধানীর উত্তরায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সৈয়দ আতিক আহমেদ মেলায় এসে প্রথমবারের মত তার আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অপেক্ষাকৃত তরুণ এ ব্যবসায়ী লাইনে দাঁড়িয়ে ট্যাক্স আইডি কার্ডও নিয়েছেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রথমবার হওয়ায় কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল। তবে কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় রিটার্ন ফরম পূরণ করে জমা দিতে পেরেছি। আগামীতে নিজেই নিজের রিটার্ন ফরম পূরত করতে পারব।
এবারের আয়কর রিটার্ন ফরমকে দুর্বোধ্যও মনে করছেন কেউ কেউ। আমজাদ হোসেন নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী বলেন, আয়কর রিটার্ন ফরম আরো সহজ ও ছোট হওয়া দরকার। মেলা প্রাঙ্গণ আরো প্রশস্ত পরিসরে হলে ভালো হয়। বেশি মানুষের ভিড়ে ঠিকমত কাজ করাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিল। তবে প্রণিধানযোগ্য একটি কথা বললেন দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে আয়কর দিয়ে আসা এই প্রবীণ করদাতা। তিনি বলেন, মেলার মত সহযোগিতামূলক পরিবেশ কর অফিসের লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া যায়না। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে সেখানে কে কত বেশি হয়রানি করে বা ঠেকিয়ে করদাতার কাছ থেকে বাড়তি পয়সা আদায় করতে পারবে, সেই চেষ্টা করেন। কর দেওয়ার ব্যবস্থা সহজ করলে ও এবং আয়করের হার যৌক্তিক করলে জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামেও অনেক মানুষ কর প্রদানে আগ্রহী হবেন। মানুষ এখনো মনে করে, করের জালে একবার ঢুকলেই বিপদ। এ জন্য যতদিন এ জালের বাইরে থাকা যায়, সেই চেষ্টাই করে। এ মনোভাব দূর করতে এনবিআরকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন আমজাদ হোসেন ।
এদিকে গতকালও মেলা প্রাঙ্গনে ভিড়ের কারণে অনেক করদাতাকে চেয়ার-টেবিল না পেয়ে মেঝেতে বসেই আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ করতে দেখা যায়। রিটার্ন ফরম পূরণকারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ আবার শূন্য রিটার্ন। অর্থাত্ আয়-ব্যয়ের হিসাব শেষে তাদের মোট আয় আড়াই লাখ টাকার নিচে। সাধারণ করদাতাদের মোট আয় দুই লাখ টাকার নিচে হলে কর প্রদান করতে হয়না। মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্দ্ধে বয়সী ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার করমুক্ত আয়ের সীমা সোয়া চার লাখ টাকা। এর উপরে গেরে আয়কর দিতে হবে। সাধারণ করদাতাদের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকার উপরে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ১০ শতাংশ। এর পরবর্ত ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর করহার ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২০ শতাংশ এবং এর পরবর্তী যে কোন পরিমাণ আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাত্ বছরে কারো মোট আয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এছাড়া এবার নতুন করে কিছু খাতের আয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাত্ তামাকজাতীয় পণ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশে অনিবাসী শ্রেনিভুক্ত ব্যক্তির করদায় ৩০ শতাংশ এবং নিবন্ধিত সমবায় সমিতির আয়ের উপর করের হার ১৫ শতাংশ।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here