ইউরেশিয়া অঞ্চলে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ

0
66

বাংলাদেশি রফতানিপণ্যের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা (জিএসপি) পাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইউরেশিয়া অঞ্চলে। এর অন্তর্ভুক্ত দেশ রাশিয়া, বেলারুশ, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। দেশগুলোর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংগঠন ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশন (ইইসি) এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এরই মধ্যে ইইসির সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর্যায়ে রয়েছে। যার খসড়াও চূড়ান্ত। ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে কমিশনের সঙ্গে এ স্মারক সই হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) পেলে ইউরেশিয়া অঞ্চলে তৈরি পোশাক ছাড়াও অনেক অপ্রচলিত পণ্যের বিরাট রফতানি বাজার গড়ে ওঠতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, রফতানি বাজারের নতুন গন্তব্য দেশ হতে যাচ্ছে ইউরেশিয়া অঞ্চল। আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও রাশিয়ান ফেডারেশনের সমন্বয়ে গঠিত ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (ইইইউ) সঙ্গে এ বিষয়ে আমার বৈঠক হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে ইইসি’র (ইইইউ’র বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংগঠন) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা যায়, চার বছর আগে আমেরিকায় রফতানিপণ্যের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা (জিএসপি) হারিয়েছে বাংলাদেশ। শত চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত তা পুনরুদ্ধার করা যায়নি। এরই মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে রফতানি আয়ের বড় গন্তব্য অঞ্চল ইউরোপের জিএসপিতেও। যেখানে ইইউর ২৭টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ মোট রফতানি বাণিজ্যের ৬১ ভাগ লেনদেন হয়। ইউরেশিয়া অঞ্চলে জিএসপি পেলে অন্তত মার্কিন বাজারের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের শুরুতে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি আন্তঃসরকার কমিশন গঠন করা হবে। এজন্য আলাদা একটি চুক্তির খসড়াও চূড়ান্ত করেছে সরকার। দু’দেশের বাণিজ্যবিষয়ক সুবিধা-অসুবিধা, পারস্পরিক অর্থ লেনদেনসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা, দ্বৈত করারোপ, কৃষিপণ্যে ব্যাকটেরিয়া ব্যবস্থাপনা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে এ কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশন গঠনের এ চুক্তিটিও একই সময় স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইইসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই ও রাশিয়ার সঙ্গে আন্তঃসরকার কমিশন গঠনের প্রস্তুতি নিতে ১১ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সভা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, রাশিয়াসহ পাঁচটি দেশের মধ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ইইসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এক মাসের মধ্যে তা স্বাক্ষরের বিষয়ে কমিশন থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সমঝোতা স্মারকটি ঢাকায় মন্ত্রী পর্যায়ে স্বাক্ষরিত হবে।

খসড়া সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, কমিশনের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। উভয়পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নে একে অপরের পরিবহন, জ্বালানি, কৃষি শিল্প, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস, সেবা খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি, সরকারি ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে। এ ছাড়া পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে, যেখানে বাংলাদেশ ও ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশন থেকে দু’জন কো-চেয়ারম্যান থাকবেন। এ ওয়ার্কিং গ্রুপ বছরে একবার করে বৈঠক করবে।

আর রাশিয়ার সঙ্গে যে আন্তঃসরকার কমিশন গঠন করা হবে, তার খসড়ায় বলা হয়েছে, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও কারিগরি ক্ষেত্রে বিস্তৃত সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুতে এ কমিশন কাজ করবে। উভয়পক্ষ কমিশনে চেয়ারম্যান, ডেপুটি চেয়ারম্যান, নির্বাহী সচিব ও সদস্য নিযুক্ত করবে। তবে কমিশনের সদস্য সংখ্যা ২০ জনের বেশি হবে না। কমিশন প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে মস্কো ও ঢাকায় বৈঠক করবে। বৈঠক শুরুর আগেই দু’পক্ষের আলোচ্য বিষয়গুলোর নির্ধারণ করা হবে পরস্পরের সম্মতি সাপেক্ষে। কমিশন নিজ নিজ পক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান, কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তার ক্ষেত্র নির্বাচন করবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করবে। পরস্পরের মধ্যে রফতানি বাড়াতে বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করবে। এ ছাড়া শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে কাজ করবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here