উবার-পাঠাও বন্ধের দাবিতে সিএনজি ধর্মঘট : পাঠক প্রতিক্রিয়া

0
223

উবার, পাঠাওসহ অ্যাপভিত্তিক গণপরিবহনসেবা বন্ধসহ আট দফা দাবিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক-শ্রমিকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এ বিষয়ে পাঠকের মন্তব্য চাওয়া হয় প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পাঠক সেখানে তাঁদের মতামত জানান, হাজারের ওপর মন্তব্য পড়ে।

প্রতিটি মন্তব্যে ঝরে পড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের প্রতি পাঠকের ক্ষোভ আর অভিযোগ। কাপাসিয়া পরিক্রমার মতো অনেকেই এই ধর্মঘটের দীর্ঘমেয়াদ কামনা করেছেন। ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, যাত্রীবান্ধব এ ধরনের ধর্মঘট যেন প্রত্যাহার করা না হয়। আর ধর্মঘটের দাবিগুলোকে হাস্যকর বলছেন রাইসুল ইসলাম।

উবার, পাঠাওকে সিএনজিচালকদের হাত থেকে যাত্রীদের মুক্তিদাতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জিয়াউর রহমানসহ অনেকেই। মাহফুজ আহমেদের মতে, এ ধরনের সার্ভিসের কারণে সিএনজিচালকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। এ ধরনের সার্ভিস অব্যাহত থাকলে কিছুদিন পর সিএনজিওয়ালারা যাত্রীসংকটে ভুগবেন বলে তাঁরা এ ধরনের ধর্মঘট করছেন বলে জানান তালহা জাবির।

ওয়াসি এ ধর্মঘটকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের ধর্মঘট চললে রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম কমবে, পাশাপাশি যাঁরা এখনো উবার, পাঠাও সুবিধা নেননি, তাঁরাও তা নিতে উৎসাহিত হবেন। লিখেছেন, ‘উবার আসার আগে সিএনজিচালকেরা আমাদের বহু ভোগান্তিতে ফেলেছেন। এর শেষ আমরা এই ধর্মঘটের মাধ্যমেই দেখতে চাই।’

রবিউল আলম লেখেন, ‘সিএনজি অটোরিকশাচালকেরা আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিন জিম্মি করে রেখেছিল। উবার, পাঠাও এসে সিএনজিওয়ালাদের যন্ত্রণা থেকে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের মুক্তি দিয়েছে।’

মোহাম্মদ ইসকান্দার মির্জা নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমি সদরঘাট থেকে মতিঝিলের কথা এখনো ভুলিনি, ৩৫০ টাকা ভাড়া নিয়েছিল। মিটারে মাত্র ১৪০ টাকা উঠছিল।’

সিএনজি সার্ভিস বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সাইদ মো. ফিরোজ, আশরাফ আল আলমসহ অনেকেই।

মাকসুদুর রহমান বেশ মজা করে বলেছেন, ‘এমন হলে তো আর কিছুদিন পর যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা শপিং মলগুলো বন্ধের আওয়াজ উঠবে, হকার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে।’

মাহামুদুল হাসানের মতে, মিটার ব্যতীত সিএনজি জব্দ করার এখনই সময়।

শারমিন জাফর নিপা দারুণ এক মন্তব্য করেছেন। বলা যায় নতুন এক আইডিয়া শেয়ার করেছেন। লিখেছেন, ‘উবার, পাঠাওয়ের মতো আরও সার্ভিস পারলে চালু হোক। তবে পাঠাও সার্ভিসে মেয়েদের স্বস্তিতে বসার ব্যাপারে চালকদের ব্যাগপ্যাকসহ জ্যাকেট পরিধানের নিয়ম করা উচিত। কারণ, বাইকে কোনো কিছু না ধরে যাতায়াত করাটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধরে বসা যায়—এমন ব্যবস্থাসমেত জ্যাকেট পরিধান করলে এবং পিছে ব্যাগপ্যাক থাকলে মেয়েরা স্বচ্ছন্দে বসে যেতে পারবে।’

ইমরান হোসেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাকেও উবার, পাঠাও সার্ভিসের আওতায় আনার কথা বলছেন। ইমরান হোসেইন মাসুম, মানজুরুর রহিম এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।

যাঁরা এখনো ইন্টারনেট সেবার বাইরে থাকার কারণে উবার, পাঠাও ব্যবহার করতে পারছেন না, তাঁদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন সানজান প্রিয়।

উবার, পাঠাওয়ের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ুক—এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইব্রাহিম সৈকত। এ ধরনের সার্ভিসের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মোহিতুল ইসলাম বাপ্পি।

সিএনজিচালকদের সুপরামর্শ দিয়ে জুবায়ের রহমান বলেন, ‘নিজেরা ভালো সার্ভিস দেন, মানুষ এমনিতেই উবার ছেড়ে আপনার গাড়িতে চড়বে।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here