একটি মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারাল ডিফেন্স।

0
68
একটি মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারাল ডিফেন্স।

একটি মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারাল ডিফেন্স। তারই ফায়দা নিয়ে ফিলিপাইনের গোল, সেই এক গোলে ম্যাচটিও জিতে বেরোল তারা। বাংলাদেশ দলের জন্য থাকল লড়াই। এশিয়ার অন্যতম সেরা একটি দলকে ভয়ার্ত করে ফেলার ছবি।

একটি মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারাল ডিফেন্স। তারই ফায়দা নিয়ে ফিলিপাইনের গোল, সেই এক গোলে ম্যাচটিও জিতে বেরোল তারা। বাংলাদেশ দলের জন্য থাকল লড়াই। এশিয়ার অন্যতম সেরা একটি দলকে ভয়ার্ত করে ফেলার ছবি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই ছবি দেখে হাততালি দিতে দিতেই ঘরে ফিরেছে সিলেটের দর্শকরা। সেমিফাইনালের জন্য কক্সবাজারের বিমানের ওঠার বাংলাদেশ দলের জন্য সেটাও কম প্রাপ্তি নয়।

ম্যাচের শুরুটাই তো হয়েছিল বাংলাদেশ দলের গোলের সম্ভাবনায় আর তীব্র আফসোসে। বাঁ প্রান্ত থেকে রহমতের থ্রো-ইনে পরিকল্পনামতো তপু বর্মণের ব্যাকহেড। ফিলিপাইন গোলরক্ষক সেই বল কোনো রকমে ফেরালেন, বিপদ দূর করতে পারলেন না। ফিরতি বলে পোস্টের খুব কাছে দাঁড়িয়ে নেওয়া নাবিব নেওয়াজের হেড ফিরে এলো ক্রসবারে লেগে। কী হতো, বলটা যদি ইঞ্চিখানেক নিচ দিয়ে যেত। পুরো ম্যাচের ছবিটাই হয়তো বদলে যেত তাতে। এর পরও যা হলো কম কী। ২৩ মিনিটে ফিলিপাইন অধিনায়ক মিসাগ বাহাদুরানের একটি মুভে বোকা বনে গেলেন তপু বর্মণ। মিসাগ বেরিয়ে গিয়েই থ্রু বাড়ালেন উইঙ্গার মাইকেল ডেনিয়েলসকে। তপু নিজেকে ফিরে পেয়ে দৌড়ে এসেও পুরোপুরি কাভার দিতে পারলেন না। ডেনিয়েলসের শট তাঁর পায়ে লেগেই প্রথম পোস্ট দিয়ে জালে। দারুণ উত্তেজনায় শুরু হওয়া ম্যাচে অকস্মাৎ এই গোল থমকে দেয় স্বাগতিক দর্শকদের। ৪-৪-২ ফরমেশনেই নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রত্যাশামতো দলে পাঁচটি পরিবর্তন। সেটা অবশ্য ম্যাচের আগে দেওয়া খেলোয়াড় তালিকায়। দল মাঠে নামতেই দেখা গেল সেখানে মামুনুল ইসলাম নেই। মিডফিল্ডে মাশুক মিয়া জায়গাটা ধরে রেখেছেন। মামুনুল নেই তো নেই, সাবস্টিটিউট বেঞ্চেও নেই অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়। জামাল ভুঁইয়ার বদলে ইমন মাহমুদ ছিলেন এদিন মাঠে। স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম মাহবুবুর রহমানের জায়গায়। আর দুই ফুল ব্যাকে রহমত মিয়া ও সুশান্ত ত্রিপুরা। মামুনুল, জামাল কেউ না থাকায় অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড পরলেন তপু। সাফে দারুণ খেলা এই স্টপার ওই এক ভুলের পর ঠিকই দুর্গ বানিয়ে ফেলেছিলেন ডিফেন্স। ১১৪ র‍্যাংকিংধারী ফিলিপাইন এরপর সেই অর্থে আর সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। তবে পিছিয়ে পড়ায় দলের ওপর চাপ পড়ে। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় অন্তত খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় তা স্পষ্ট ছিল। এই অর্ধে রহমতের লম্বা থ্রো-ইনেই যা কয়েকবার ভীতি ছড়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে। কিন্তু প্রথম মিনিটের মতো পরিস্কার সুযোগ আর আসেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে সেই বাংলাদেশই খেলে উজ্জীবিত ফুটবল। জেমি ডের দলের সামনে তখন দুটি চ্যালেঞ্জ। গোল করতে হবে, পাশাপাশি বাকি ৪৫ মিনিট আবার সামলাতেও হবে ফিলিপিনোদের ব্যবধান বাড়ানো থেকে। সেই লক্ষ্যের শুরুতেই নাবিবের একটা ‘রান’ উত্তেজনা ছড়ায়। ডান প্রান্তে দুই ফিলিপিনোর প্রহরা এড়িয়ে ইনসাইড কাট করে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। বক্সের ওপর থেকে তাঁর বাঁ পায়ের জোরালো একটি শট যেখানে প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে দুর্বল পাস বাড়িয়ে বলটা কিনা তিনি নষ্ট করলেন। এই নাবিবই আরো একবার সহজতম সুযোগ নষ্ট করেছেন তৌহিদের ক্রসে। ডান দিক থেকে তৌহিদের সেই ক্রস ছিল মাপা, নাবিব সেই বলে যে হেড নিয়েছিলেন তা শুধু পোস্টে রাখতে পারলেই হতো। কিন্তু তাঁর জোরালো সেই হেডটাই হলো কিনা বলটা ক্লিয়ার করার মতো। গোলরক্ষককে আশ্বস্ত রেখে বল পাঠিয়েছেন তিনি পোস্টের বেশ বাইরে দিয়ে। পরের মুহূর্তে তৌহিদই বক্সের ভেতর জটলায় বল পেয়ে সুযোগ নষ্ট করেছেন, সেটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই ভয়ংকর হয়ে ওঠে গোলের জন্য। বাঁ প্রান্তে রবিউল হাসানকে তুলে নিয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে নামান জেমি ডে। আগের ম্যাচে বদলি নেমে আক্রমণে ধার বাড়িয়েছিলেন এই উইঙ্গার। কাল সেই প্রত্যাশাতেই তাঁকে নামানো এবং এদিনও গতিময় মুভমেন্টে তিনি ডান উইংয়ে সত্যি ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন। মতিনের সঙ্গে ওয়ান টু খেলে শেষ দিকে যে ক্রসটা তিনি ফেলেছিলেন, তাতে জাবেদের হেডটা জোরালো হলে কিছু হতেও পারত। তার আগে কোচ ফ্যান ফেভারিট মতিন মিয়াকেও নামিয়েছেন সবুজের জায়গায়। দ্রুত জায়গা বদল এবং উইথ দ্য বল রানিংয়ে তিনিও ফিলিপাইন ডিফেন্সকে ত্রস্ত করে ফেলেছিলেন। যার ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনায় ফাটে সিলেটের গ্যালারি। ইনজুরি সময়ে কর্নার থেকে গোলের সম্ভাবনা। গ্যালারির দর্শকদের তখন আর কেউ বসে নেই। ফুটবল ম্যাচ তো এমনই হয়। এই তো সৌন্দর্য। সমতাসূচক গোলটা পাওয়া না হলেও সেই তৃপ্তি ঠিকই বাংলাদেশ দলের সঙ্গী।

বাংলাদেশ দল : আশরাফুল; রহমত, তপু, বাদশা, সুশান্ত; মাশুক (জাবেদ), ইমন, রবিউল (ইব্রাহিম), বিপলু; নাবিব, তৌহিদ (মতিন)।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here