একরামুল হককে ‘হত্যা’ করানো হয়েছে।

0
173
একরামুল হককে ‘হত্যা’ করানো হয়েছে।

প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘হত্যা’ করানো হয়েছে। এ বক্তব্য কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর। গতকাল সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক খোলা চিঠিতে এ কথা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। মাহবুবুর রহমান কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গত শনিবার (২৭ মে) দিবাগত রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন। র‍্যাবের দাবি, একরামুল তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

খোলা চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র প্রধানমন্ত্রীকে মা সম্বোধন করেছেন। তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘…. সারা দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানকে যখন দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা স্বাগত জানিয়েছেন। ঠিক তখনই আপনার এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একাত্তরের দোসররা। তারা ইয়াবাবিরোধী অভিযানের দোহাই দিয়ে আপনার সন্তানকে হত্যা করেছে। প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে আজন্ম আওয়ামী লীগ পরিবারের অহংকার টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পরপর তিন বার নির্বাচিত কাউন্সিলর একরামকে হত্যা করা হয়েছে। মাগো এমন চলতে থাকলে আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ নিঃশেষ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।’ প্রসঙ্গত, একরামুল ১২ বছর উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

চিঠি প্রসঙ্গে মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, দায়িত্ববোধ থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠিটি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ই-মেইল ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত আইডি থেকে তিনি ফেসবুকে এটি প্রচার করেছেন। তাঁর সঙ্গে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী, দলীয় সমর্থক একমত পোষণ করেছেন। আরেক একরামকে বাঁচাতে গিয়ে কাউন্সিলর একরামকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তাঁর এই খোলা চিঠি বলে জানান তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের ক্ষোভ

কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। গতকাল সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, আবদুর রহমান বদি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, একরাম একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এমন কোনো তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চান তাঁরা।

সভা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, সভায় একরাম নিহতের ঘটনা আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেবে জেলা আওয়ামী লীগ।

একরামের জানাজা

গতকাল রাতে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একরামুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান (বদি)। একরাম ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন না বলে সাংসদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

একরামের স্মৃতির উদ্দেশে চিঠি লেখে তার দুই মেয়ে। রোববার রাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়।

প্রিয় বাবার জন্য খোলা চিঠি দুই কন্যা-তাহিয়াত ও নাহিয়ান

আমাদের পুরো পৃথিবীটা যে তোমাকে ঘিরেই ছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে তোমার কাজ ছিল তোমার রাজকন্যাদের রেডি করা। মোটরসাইকেলে করে প্রাইভেট পড়তে নিয়ে যাওয়া। স্কুলে পৌঁছে দেওয়া।

হয়তো ঈদের পর থেকে আমাদের স্কুলের বাস নিয়ে যাতায়াত করতে হবে। সে সময় তোমাকে অনেক মিস করব। তোমার শরীরে থেকে বাবার একটা ঘ্রাণ আসত, খুব মিস করব সে ঘ্রাণ।

তোমার গানের গলা যথেষ্ট প্রশংসনীয় ছিল, আমাদের আবদারে সব গান গেয়ে শোনাতে। মিস করব সে দরাজ ভরা কণ্ঠের গান।

তোমার ভালো মানের চশমা ও মোটরসাইকেলের প্রতি লোভ ছিল, তোমার রেখে যাওয়া সে সব চশমাটি আমাদের দিকে জ্বলজ্বল করে নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এই কিশোর বয়সে হারিয়ে ফেলব তা কল্পনাতীত ছিল। কিন্তু আল্লাহ্ তোমাকে নিয়ে গেলেন, হয়তো উনি তোমাকে আমাদের চাইতে বেশি ভালোবাসেন।

বাবা, তোমার অসমাপ্ত স্বপ্ন আমরা পুরণ করব, তোমার দেখিয়ে দেওয়া পথে আমরা আজীবন চলব। তোমাকে কথা দিলাম, আমরা তোমার সত্যিকার রাজকন্যা হয়ে তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। ওপরে অনেক ভালো থেকো বাবা। তবে চিৎকার করে বলছি, আমরা বাবা ডাকব কারে?

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here