এফটিপি দেখলে বাংলাদেশের দর্শকেরা খুশিই হবেন।

0
84
এফটিপি দেখলে বাংলাদেশের দর্শকেরা খুশিই হবেন।

২০১৮ মে থেকে ২০২৩ বিশ্বকাপ—পাঁচ বছরে পূর্ণ সদস্য ১২ দল ও সহযোগী একটি দলের সফরসূচি (এফটিপি) ঘোষণা করেছে আইসিসি। আইসিসি প্রস্তাবিত হোম-অ্যাওয়ে লিগভিত্তিক টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়ে যাবে এই এফটিপি দিয়ে। পাশাপাশি ওয়ানডে লিগও। ওয়ানডে লিগে ১৩ দল খেলবে বলে হল্যান্ডকেও রাখা হয়েছে এই এফটিপিতে।

এফটিপি দেখলে বাংলাদেশের দর্শকেরা খুশিই হবেন। আগামী পাঁচ বছরে টেস্ট খেলবে ৪৫টি। ২৪টি টেস্টই বিদেশের মাঠে, ২১টি দেশে। ওয়ানডে খেলবে অন্তত ৭২টি, দেশের বাইরে ৪৫, ঘরের মাঠে ২৭টি। টি-টোয়েন্টি পাবে অন্তত ৫৮টি। এফটিপিতে অবশ্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে সদ্যই ৩-০তে হেরে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজটিও রাখা হয়েছে হিসাবে। এফটিপিতে বাংলাদেশের মোট টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা আসলে তাই ৬০ ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশের পরবর্তী টি-টোয়েন্টিগুলো ৩৪টি বিদেশের মাটিতে, ২৪টি দেশে। দ্বিপক্ষীয়-ত্রিদেশীয় সিরিজের সঙ্গে বাংলাদেশের সুযোগ থাকছে দুটি বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টেও খেলার সুযোগ।

এফটিপি দেখলে মনে হবে, বাংলাদেশের শুধু খেলা আর খেলা! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব-তামিমদের রাজ্যের ব্যস্ততা যেমন থাকবে, থাকবে চ্যালেঞ্জও। এই পাঁচ বছরে পরবর্তী যে ১৬২ ম্যাচের কথা বলা হচ্ছে, ১০৩টিই খেলতে হবে বিদেশের মাটিতে। অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ ম্যাচই দেশের বাইরে। ব্যস্ততা এরই মধ্যে শুরুও হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের সিরিজটি ভারতে গিয়ে খেলে দেশে ফিরে কদিনের ছুটি আর অনুশীলন সেরে বাংলাদেশ যাচ্ছে ক্যারিবীয় সফরে। সে সফর শেষে বাংলাদেশ যাবে আরব আমিরাতে, এশিয়া কাপ খেলতে।

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেহেতু এই বছর বিপিএল হচ্ছে না, ফাঁকা সময়ে বিসিবি আয়োজন করতে পারবে নতুন সিরিজও। এফটিপির বাইরে ফাঁকা সময়ে দুই বোর্ডের সমঝোতায় বাংলাদেশ আরও ম্যাচের আয়োজন করতেই পারে। এই সুযোগ সব বোর্ডেরই আছে।

এফটিপি নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিদেশীয় সিরিজের বাইরে বাংলাদেশ খেলবে বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট। ২০২০ এশিয়া কাপ, ২০২০ ও ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২২ এশিয়া কাপ ও ২০২৩ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা হলে ম্যাচের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশের একের পর এক বিদেশ সফর। এফটিপিতে যে আটটি টুর্নামেন্টের কথা বলা হয়েছে, পাঁচটিই বিদেশের মাটিতে। এর মধ্যে আছে ইংল্যান্ডে ২০১৯ বিশ্বকাপও। আগামী বছরের নভেম্বরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ২টি টেস্ট খেলতে ভারতে যাবে বাংলাদেশ। সঙ্গে ৩টি টি-টোয়েন্টিও খেলবে তারা। ২০২০ সালেও বাংলাদেশকে বেশির ভাগ সিরিজ খেলতে হবে বিদেশের মাটিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে সেপ্টেম্বরে আছে এশিয়া কাপও।

বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পারবে কি না, বলা কঠিন। যদি কঠিন এ কাজটা সফল করতেই পারে, তবে সেটি খেলার সুযোগ থাকছে ২০২১ সালে। একই বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ খেলবে আরও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে আবারও এশিয়া কাপ। এই সূচি শেষ হচ্ছে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ওয়ানডে বিশ্বকাপ দিয়ে।

২০১৮   হোম/অ্যাওয়ে টেস্ট ওয়ানডে টি–২০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জুলাই অ্যাওয়ে
এশিয়া কাপ অ্যাওয়ে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ডিসেম্বর হোম
 
২০১৯ জিম্বাবুয়ে, জানুয়ারি হোম  
নিউজিল্যান্ড, ফেব্রুয়ারি অ্যাওয়ে  
আয়ারল্যান্ড, মে      
আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, মে অ্যাওয়ে    
বিশ্বকাপ, জুন অ্যাওয়ে
অস্ট্রেলিয়া, অক্টোবর হোম    
আফগানিস্তান, অক্টোবর হোম  
ভারত, নভেম্বর অ্যাওয়ে  
শ্রীলঙ্কা, ডিসেম্বর অ্যাওয়ে    
 
২০২০ পাকিস্তান, জানুয়ারি অ্যাওয়ে  
অস্ট্রেলিয়া, ফেব্রুয়ারি হোম    
জিম্বাবুয়ে, মার্চ হোম  
আয়ারল্যান্ড, মে অ্যাওয়ে
শ্রীলঙ্কা, জুলাই অ্যাওয়ে    
নিউজিল্যান্ড, আগস্ট হোম    
এশিয়া কাপ, সেপ্টেম্বর অ্যাওয়ে
নিউজিল্যান্ড, অক্টোবর অ্যাওয়ে    
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, অক্টোবর অ্যাওয়ে
শ্রীলঙ্কা, ডিসেম্বর হোম    
 
২০২১ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জানুয়ারি হোম
নিউজিল্যান্ড, ফেব্রুয়ারি অ্যাওয়ে  
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল অ্যাওয়ে
জিম্বাবুয়ে, জুন অ্যাওয়ে
ইংল্যান্ড, অক্টোবর হোম  
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, অক্টোবর অ্যাওয়ে
পাকিস্তান, নভেম্বর হোম  
শ্রীলঙ্কা, ডিসেম্বর হোম    
নিউজিল্যান্ড, ডিসেম্বর অ্যাওয়ে  
 
২০২২ আফগানিস্তান, ফেব্রুয়ারি হোম  
দক্ষিণ আফ্রিকা অ্যাওয়ে  
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জুন অ্যাওয়ে
জিম্বাবুয়ে, জুলাই অ্যাওয়ে
এশিয়া কাপ, সেপ্টেম্বর অ্যাওয়ে
আয়ারল্যান্ড, অক্টোবর হোম
ভারত, নভেম্বর হোম  
 
২০২৩ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জানুয়ারি হোম    
ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ফেব্রুয়ারি অ্যাওয়ে
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here