এস কে সিনহার বিবৃতি বাংলাদেশের আইনসঙ্গত নয়

0
92

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিদেশ যাওয়ার আগ মুহূর্তে বিবৃতিতে প্রশাসনিক পরিবর্তন সম্পর্কে যা বলে গেছেন সেটা আইনসঙ্গত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। একইসঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে তিনি নিজেকে সুস্থ বলে দাবি করায় হতভম্ব হয়েছেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

আজ রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এস কে সিনহা অসুস্থতার কথা বলে রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটি চেয়েছেন। আর ঢাকা ছাড়ার আগমুহূর্তে তিনি নিজেকে সুস্থ দাবি করেছেন। বিষয়টি বিষ্ময়কর। আইনমন্ত্রী বলেন, দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে যে চিঠি প্রধান বিচারপতি প্রকাশ করেছেন সেটি আসলেই তার চিঠি কি না, আমি জানি না। তবে একটা লিখিত জিনিস… আমি অবশ্যই এতে হতভম্ব। অসুস্থতার কথা বলে বিচারপতি এস কে সিনহা চিঠি দিয়েছেন। তখন ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর দরকার ছিল। যেহেতু করা হয় নাই তো এ নিয়ে কিছু বলতে পারবো না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অসুস্থতার কথা বর্ণনা করে চিঠি দেওয়ার সাত দিন পর প্রধান বিচারপতি আবার জানালেন তিনি সুস্থ। কিন্তু অসুস্থতার কথা বলে তিনি যে চিঠি দিয়েছেন সে তারিখেই দেশ ত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছিল না। যাদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হাসিল হয় নাই তাদের এ মায়াকান্না।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, তার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এর সদুত্তর না পেলে যেহেতু আপীল বিভাগের অপর পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সাথে একই বেঞ্চে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে চান না, তাই তিনি বিদেশ থেকে ফিরে এলেও প্রধান বিচারপতির আসনে বসতে পারবেন বলে মনে হয় না।

আনিসুল হক বলেন, এস কে সিনহা এখনও দেশের প্রধান বিচারপতি। একজন প্রধান বিচারপতি একটি প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ আইনী প্রক্রিয়া মেনেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধে নয়, এস কে সিনহা বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে আইনে যেভাবে বলা আছে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান বিচারপতির ইস্যু নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি ছুটি চেয়েছেন। ছুটি মঞ্জুর হলে তিনি বিদেশ গেছেন। এটা নিয়ে রাজনীতির কিছু নেই। কোনো কোনো রাজনৈতিক মহলের কাছে ইস্যু না থাকায় প্রধান বিচারপতির ছুটি ও বিদেশ যাওয়াকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।

সম্মেলনের শুরুতে প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা নিয়ে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে চালাচালি হওয়া একাধিক চিঠি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক পড়ে শোনান। চিঠির উদ্ধৃতি দিয়েই আনিসুল হক বলেন, অবসরের সময় নিকবর্তী হওয়ায় প্রধান বিচারপতি মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। অবসাদ দূর করার জন্যই তিনি এক মাস আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণের মনস্থির করেছেন। প্রধান বিচারপতির এ ছুটির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। আর সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ মেনেই জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়াকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here