এ নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন ৪৪ জন।

0
146
এ নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন ৪৪ জন।

সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও পাঁচ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসায়ী বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া ও ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।

বিভিন্ন জেলায় গত নয় দিনে এ নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন ৪৪ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তাঁদের ৩৮ জন মাদক ব্যবসায়ী।

গতকাল রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুষ্টিয়ায় দুজন, কুমিল্লায় একজন, গাইবান্ধায় একজন ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন নিহত হন।

গত শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরকার মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অবলম্বন করেছে।

এর আগে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ১৪ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মাদক কেনাবেচায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলেছে, বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডই তারা সমর্থন করে না।

কুষ্টিয়ায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার দুই উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত হন। গতকাল রাতে কুমারখালী ও ভেড়ামারা উপজেলায় কথিত এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত দুজন হলেন কুমারখালী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড এলঙ্গীপাড়ার মৃত ওসমান গণির ছেলে ফটিক ওরফে গাফ্ফার (৩৮) ও ভেড়ামারা পৌরসভার নওদাপাড়ার এলাকার মৃত গোলজার হোসেনের ছেলে লিটন হোসেন (৪২)। দুটি লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, দুজনই মাদক ব্যবসায়ী। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল খালেক বলেন, রাতে থানার পুলিশ অভিযানে বের হয়। তারা জানতে পারে, একদল মাদক ব্যবসায়ী লাহিনীপাড়া এলাকায় গড়াই নদের রেল সেতুর পাশে মেহগনিবাগানে মাদক কেনাবেচা করছে। ওই সংবাদ পেয়ে সেখানে দিবাগত রাত একটার দিকে অভিযানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি খালেক আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটারগান, একটি গুলি, ৭০০ ইয়াবা বড়ি ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে। ফটিক মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ভেড়ামারা থানার ওসি আমিনুল ইসলামের ভাষ্যমতে, রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান বের হয়। তাঁরা গোপন তথ্য পান, মাদক ব্যবসায়ীরা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের হাওয়াখালী মাঠে এক ইটভাটার পাশে আছে। পুলিশ সেখানে রাত দুইটায় অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আমিনুল আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, তিনটি গুলি, ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করেছে। লিটন হোসেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গতকাল রাতে বনবাড়ি এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম আকতাবুল (৩৮)। তাঁর বাড়ি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ি ইউনিয়নের পারুয়া গ্রামে।

পুলিশের ভাষ্য, গত সোমবার রাতে পারুয়া গ্রাম থেকে আকতাবুলকে গ্রেপ্তার করে বালিয়াডাঙ্গী থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকতাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়। সে সময় তিনি ওই ফেনসিডিলের বোতলগুলো পীরগঞ্জের এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনে এনেছেন বলে স্বীকার করেন। এই তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশের একটি দল আকতাবুলকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনার জন্য পীরগঞ্জের ওই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ির দিকে রওনা হয়। গতকাল সাড়ে তিনটার দিকে বনবাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সে সময় পুলিশও গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই আকতাবুল নিহত হন। এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গীর থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম ও এসআই মো. খায়রুজ্জামান আহত হন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, আকতাবুল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর নামে পুলিশের ওপর হামলা, গরু চুরি ও মাদকের ১৯টি মামলা রয়েছে। ঘটনার স্থান থেকে পাঁচটি ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আকতাবুলের লাশ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here