কাকরাইলে ফ্ল্যাটে মা ও ছেলে হত্যা

0
57
রাজধানীর কাকরাইলে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় একটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মা ও সিঁড়িতে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। দু’জনকেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনিরা। কারা কি উদ্দেশ্যে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন। ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো প্রস্তুতি চলছিল।
কাকরাইলের রাজমণি-ইশা খাঁ হোটেলের বিপরীত পাশে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম গলির ষষ্ট তলা একটি ভবনের ৫ তলায় থাকতেন তারা। ৭৯/১, মায়াকানন নামের বাড়িটির মালিক আব্দুল করিম। তার স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৫) ও ছেলে শাওন করিম (১৮) এই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। এক বছর আগে আব্দুল করিম আরেকটি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি অন্য ভবনে থাকেন। এই এলাকায় আব্দুল করিমের তিনটি ভবন। বাড়িটির নিচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত সবগুলো ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া। চতুর্থ তলায় একটা ল’ চেম্বারও আছে। নিচ তলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসও রয়েছে। অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকেন। ষষ্ঠ তলায়ও ভাড়া দেয়া।
ওই বাড়ির গৃহকর্মী রাশিদা  বলেন, ‘এক মাস আগে আমি এই বাড়িতে কাজ যোগ দিয়েছি। অন্যদিনের মতো বুধবারও সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে প্রবেশ করি। খালা (করিমের স্ত্রী) দরোজা খুলে দেয়ার পর সোজা রান্নাঘরে গিয়ে রান্নার প্রস্তুতি নেই। ১০/১৫ মিনিট পরে দেখি রান্নাঘরের দরোজা বাইরে থেকে বন্ধ। তখন মনে করেছি খালা হয়ত বাইরে থেকে বন্ধ করে রেখেছেন। কিছুক্ষন পরই খালার চিত্কার শুনতে পাই। তিনি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করছিলেন। আমি তখন রান্নাঘরের জানালা দিয়ে চিত্কার করতে থাকি। এর কিছুক্ষন পর দারোয়ান নোমান এসে দরোজা খুলে আমাকে বের করেন। তখন আমি দেখি খালা ও মামার লাশ পড়ে আছে।’
দারোয়ান নোমান বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি নিচে ডিউটি করছিলাম, হঠাত্ একজন ভাড়াটিয়া নিচে নামার সময় আমাকে বলেন ৫ তলায় কারা যেন গোলমাল করছে। আমি তখন উপরে উঠে সিঁড়িতে দেখি শাওন (১৮) রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। ভেতরে তার মাকে ডাকতে গিয়ে দেখি একটা কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনিও পড়ে আছেন। এ সময় আমি চিত্কার করে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনি। এর কিছুক্ষনের মধ্যে পুলিশ আসে।’ বাড়ি থেকে অপরিচিত কেউ বের হয়ে গেছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দেখিনি।’
জানা গেছে, বাড়ি মালিক আব্দুল করিম একসময় সিনেমার ব্যবসা করতেন। এখন তিনি বীজ, পেয়াজ, রসুন আদার আমদানিকারক। শ্যামবাজারে তার আড়ত্ আছে। ওইখানে পাশাপাশি তার তিনটি বাড়ি রয়েছে। তার তিন ছেলে। বড় ছেলে  মুন্না লন্ডন প্রবাসী। মেঝ ছেলে অনিক কানাডায় থাকে। আর ছোট ছেলে শাওন মায়ের কাছে থেকে পড়াশোনা করে। সে এ লেভেলে পড়ে। তবে তাত্ক্ষনিকভাবে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম জানা যায়নি। শামসুন্নাহার খুবই ধর্মভীরু। তিনি বোরখা পড়েন। চোখ ছাড়া আর সবকিছু ঢেকে চলাফেরা করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ডাকাতি বলে মনে হচ্ছে না। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। গৃহকর্মীর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছাড়াও পেটে ও হাতে মুখে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ৪ তলার সিড়িতে পড়ে থাকা শাওনের বুক থেকে পেট পর্যন্ত একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। শাওনের মাথার কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, তাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গৃহকর্মী রাশিদা এক মাস আগে এই বাসায় কাজে যোগ দিয়েছে। তার স্বামী আব্দুল গনি দুদকের পাশে টিনশেড বস্তিতে থাকে। ময়মনংসিহে তাদের গ্রামের বাড়ি। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাশিদা ও নোমানকে আটক করেছে।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here