কাটাখাঁলি শ্বশুড়বাড়িতে জামাইয়ের হামলা : আহত ৫

0
15
কাটাখাঁলি শ্বশুড়বাড়িতে জামাইয়ের হামলা : আহত ৫

আবু সাঈদ সজল, রাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশনিউজ২৪
রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানাধীন কাপাশিয়া হাটপাড়া এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রায়হান (২৮) নামের এক যুবক তার শ্বশুড়বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে শ্বশুড়-শাশুড়িসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলো: ওই এলাকার আনিসুর রহমান (৫৫), আদুরি বেগম (৪৫), সুমি (২৫), রুমি (২২) ও রুম্পা (১৯)। আহতদের মধ্যে বর্তমানে সুমি, রুমি ও রুম্পা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৪০নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওই পরিবারের জামাই বিদ্যুত জানায়, গত দুই বছর পূর্বে নগরীর কাটাখাঁলি থানাধীন সাহাপুর এলাকার আক্কাসের ছেলে রায়হানের সাথে রুম্পার বিবাহ্ হয়। বিবাহের ৬ মাস অতিবাহিত না হতেই মাদকাসক্ত রায়হান দেড় লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী রুম্পাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়। এতে রুম্পা অতিষ্ঠ হয়ে তার বাবার বাড়ি চলে আসে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটাখাঁলি এলাকায় জনৈক আ’লীগ নেতা মাসুদ রানা, মোঃ মুন্তাহাজ, মোঃ জামাল মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা একটি আপোষ মিমাংষা করে দেন। আপোষ মিমাংসায় সিদ্ধান্ত হয়। অন্তঃসত্ত্বা রুম্পা তার বাবার বাড়িতে থাকবে এবং জামাই রায়হান প্রত্যেক সপ্তাহে এক হাজার টাকা খরচ দিবে। কিন্তু ছেলে পক্ষ শালিসি বৈঠকে কোনো কথা না বললেও পরবর্তীতে তারা এ বিচার মানে না বলে জানায়।
পরে গত ১৫ এপ্রিল ২০১৮ইং তারিখে রুম্পা বাদি হয়ে আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গত ১৫ এপ্রিল উভয় পক্ষে বিজ্ঞ আদালতে হাজিরা তারিখ ধার্য্য ছিল। ওই দিন বিজ্ঞ আদালতে বিচারক উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ মিমাংসা অথবা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। এবং পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করেন ২২ মে ২০১৮ইং তারিখে। এর আগেই বিবাদি মামা কায়দার (৪৫) নেতৃত্বে রায়হান ও তার ভাই তুহিন শ্বশুড়বাড়িতে হামলা চালিয়ে শ্বশুড়-শাশুড়িসহ ৫ জনকে আহত করে।

হামলার ঘটনায় কায়দাকে আটক করে পুলিশ। পরে আনিসুর রহমানের জামাই ২য় মেয়ের স্বামী ইয়াদুল্লা কাটাখাঁলি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকেও আটক করে পুলিশ। গতকাল শনিবার আনিসুর রহমানের স্ত্রী আদুরি বেগম জামাইকে ছাড়াতে থানায় গেলে তাকেও আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাটাখাঁলি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, উভয় পক্ষই থানায় মামলা করেছে। উভয় পক্ষের মামলায় উভয় পক্ষের ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভুগি পরিবারের অভিভাবক আনিসুর রহমান জানান, আমার জামাই রায়হান ১৪-১৫জনের একটি দল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় রায়হানের ভাই তুহিন আমার ছোট মেয়ে রুম্পার বুকের উপরে বসে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে। মেয়েকে বাচাতে আমি তুহিনকে ইট দিয়ে আঘাত করি। এতে তারা আমার স্ত্রী জামাইসহ সকলের বিরুদ্ধে মামলা করে। জামাই বিদ্যুতের অভিযোগ, বিবাদিরা ভয়ংকর অপরাধ করার পরেও স্থানীয় কাউন্সিলর আসাদ, আ’লীগ নেতা মাসুদ রানা এ ঘটনায় পক্ষপাতিত্ব করে আমাদেরকে মামলা দিয়ে ফাসিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো তুহিন আমার শ্বশুড়বাড়িতে মারতে এসে মার খেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গত এক বছর পূর্বে রায়হানের একটি গাভী আমার ভাইরা ইয়াদুল্লার নিকট ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। বর্তমানে সে গাভীটিও তারা নিজের বলে দাবি করছে এবং মামলার হুমকি দিচ্ছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here