কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত

0
98

সেই ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের পাতায় আমরা পড়ে এসেছি যে মানুষ সামাজিক জীব। আর এই সামাজিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা। আমাদের নিজ পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের জগৎ কিংবা কর্মক্ষেত্র—সবখানেই কিছু রীতি মেনে চলি; যাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল অ্যাটিকেট’। এমন নয় যে এই নিয়ম, রীতি ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়; বরং একটি শিশু যখন বেড়ে ওঠে, তখন থেকেই সে বুঝতে শেখে কোথায় কী ধরনের আচরণ করা প্রয়োজন।

আমরা নিজেরা কি মেনে চলছি?

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার মনে করেন, ‘ছোট শিশুরা যখন কোনো নিষেধ উপেক্ষা করে, তখন আমরা তাদের শাসন করি। কিন্তু আমরা বয়োজ্যেষ্ঠরা কি সব নিয়ম বা ভালোমন্দ মেনে চলি?’ ধরুন, কোথাও হয়তো স্পষ্ট করেই লেখা আছে, এখানে নবজাতক বা ছোট শিশু না আনাই ভালো। তারপরও হয়তো আপনি এই ব্যাপারটিতে ভ্রুক্ষেপই করলেন না। সব নিষেধ উপেক্ষা করেই চললেন। কিন্তু এর ফলে আপনার নিজ আচরণ সম্পর্কেই একটি নেতিবাচকতা তৈরি হয়। আর ভেবে দেখার চেষ্টা করুন, কেন সেই অনুষ্ঠানটিতে শিশুদের উপস্থিতি ‘না’ করা হয়েছে।

 হয়তো নিমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা আছে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা। কিন্তু সেটা উপেক্ষা করেই দ্বিগুণসংখ্যক অতিথি হাজির। আর এদিকে যত ঝামেলা আয়োজক পক্ষের। কিন্তু ঠিক উল্টোটাই যদি হতো? ধরুন, আপনি আয়োজক হিসেবে আছেন, আর আপনার অনুষ্ঠানে এমন সংখ্যক অতিথি উপস্থিত!

 তাই এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা আয়োজনে উপস্থিত হোন।

মেনে চলা প্রয়োজন যে বিষয়গুলো

 মেখলা সরকার বেশ কিছু বিষয়ের উল্লেখ করেন, যা আমাদের সবারই মেনে চলা প্রয়োজন।

অন্যের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন

আপনি হয়তো কোনো কিছু না ভেবেই এমন কিছু আচরণ করে বসলেন। কিন্তু বোঝার চেষ্টা করুন, এমনটি করার ফলে অন্যের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। আপনি নিজেও বা আপনার পরিবারের সদস্যরাও হয়তো এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

 একটু মেনে চলুন

আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা নিয়মগুলো মেনে চলুন। কার্ডে হয়তো লেখা আছে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকার। আর আপনি ব্যাপারটিকে অত গুরুত্ব দিলেন না। এতে কিন্তু আপনি এবং আয়োজক পক্ষ উভয়কেই সমস্যায় পড়তে হয়। তাই সতর্কতার সঙ্গে উল্লিখিত নিয়মগুলো পড়ে দেখুন।

আগেভাগে জানিয়ে রাখা

যদি নিতান্তই আপনার কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে আগে থেকে জানিয়ে রাখাই ভালো। মেখলা সরকার বলেন, ‘এমন অনেকেই আছেন যে কাউকে অপেক্ষা করার কথা বলে নিজেই উপস্থিত হন না। এমনটি কিন্তু খুবই নেতিবাচক। আপনি তাকে আগেই জানিয়ে রাখুন। আপনি সেখানে উপস্থিত হতে না পারলেও সুন্দর করে তাকে জানিয়ে দিন।’

অফিস, প্রতিবেশী কিংবা যেকোনো সামাজিক দাওয়াত হোক না কেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেশ কিছু ভিন্ন রীতি থাকে। আর সেভাবেই আমাদের আচরণ করাটা সৌজন্যমূলক। নিশ্চয়ই আপনি বন্ধুমহলে যে আচরণটি করবেন, সেই একই আচরণ কর্মক্ষেত্রে করবেন না।

যেকোনো কথা আলোচনার সময়ে পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে কথা বলুন। অন্যের কথা শেষ হলে নিজ মতামত প্রকাশ করুন। কার সঙ্গে কথা বলছেন, সে বিষয়টিও খেয়াল রাখুন। তিনি কি আপনার থেকে বয়সে বড়, নাকি সমবয়সী। আর অবশ্যই সেটি বলতে হবে গুছিয়ে।

মনে রাখুন, সামাজিক এই বিভিন্ন রীতি মেনে চলার মধ্য দিয়ে আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here