কুপির আলোতেই রাত জেগে পড়ালেখা করে সাফল্যের দেখা পেয়েছে।

0
99
কুপির আলোতেই রাত জেগে পড়ালেখা করে সাফল্যের দেখা পেয়েছে।

প্রতিদিন হাড়ভাঙা খাটুনি। রাজমিস্ত্রির জোগালের (শ্রমিক) কাজ করে সারাদিনের ক্লান্তি। ঘরে বিদ্যুতের আলো নেই। তবুও থেমে থাকেনি নুরুজ্জামান শেখ। কুপির আলোতেই রাত জেগে পড়ালেখা করে সাফল্যের দেখা পেয়েছে। সে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের তালতলা গোরস্থান পাড়ার লোকমান শেখের ছেলে নূরুজ্জামান শেখ। তালতলা গ্রামের কবরস্থান থেকে মেঠোপথ ধরে এগিয়ে মাঠের মধ্যে তিনটি পরিবারের বসবাস।

সেখানেই নূরুজ্জামানের বাড়ি। পাটকাঠির বেড়া টিনের ছাউনি দেয়া তিনটি ঘর। দরজাবিহীন ঘরের একটি তার। সেখানে চলত তার পড়ালেখা।

তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় নূরুজ্জামান। বড় ভাই মাহমুদ বনপাড়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। অপর ছোট ভাই নুরুন্নবী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বাবা লোকমান শেখ নিজেও একজন দিনমজুর।

তিন সন্তানকে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাতে না পারলেও পড়ালেখা করে বড় হওয়া যায় এমন স্বপ্ন দেখাতেন। বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নূরুজ্জামান শেখ কোনো ঘাটতি রাখেনি।

ছোট থেকে বাবার কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেও অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করত। একটু বড় হয়ে বেছে নেয় রাজমিস্ত্রির কাজ। এমনকি রেজাল্টের দিনও রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যস্ত থাকায় বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে তার ফলাফল জেনেছে।

সে পরীক্ষার পর থেকে ঢাকার সাভারে নবীনগরের খুরগাঁও এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। কষ্টের মধ্য দিয়ে প্রাইমারি শেষ করে সে উপজেলার মিশ্রিপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

প্রত্যেক শ্রেণিতেই ভালো ফলাফল করত সে। এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায় নূরুজ্জামান। তার স্বপ্ন ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার। কিন্তু তার সে পথের একমাত্র বাধা দারিদ্র্য। তবু দৃঢ়প্রত্যয়ী নুরুজ্জামান কখনোই পড়ালেখা বন্ধ করতে চায় না।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. ওয়াহাব জানান, নূরুজ্জামান খুবই মেধাবী ছাত্র। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here