কুড়িগ্রামে ৫৭ ধারায় সাংবাদিক আনিছুর রহমান গ্রেফতার

0
57

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৫৭ ধারা মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দৈনিক সংবাদের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কর্ত্তিমারী বাজার থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে বুধবার তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। সাংবাদিক আনিছুর রহমান উপজেলার কর্তিমারী বাজারপাড়ার ইসরাফিল হকের ছেলে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ক্ষমতাশীন দলের ‘ভূমিদস্যু’ নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে সাংবাদিক আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতি করে সুমন মিয়া নামে এক যুবক তার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। সাংবাদিক আনিছুর রহমান তার মোবাইলে ছবিটি স্ক্রিন শর্ট নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহ কামালকে দেখান। পরে সুমন মিয়াকে আসামি করে রৌমারী থানায় একটি অভিযোগ করেন শাহ কামাল। এ ঘটনার প্রায় দেড় মাস পার হলেও পুলিশ সুমন মিয়াকে আটক করতে পারেনি।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান বিষয়টি নিয়ে ভিন্নভাবে মাতামাতি শুরু করেন। ওই ঘটনায় তিনি সাংবাদিক আনিছুর রহমানকেই আসামি করে নতুন করে অভিযোগ দিতে বাধ্য করেন শাহ কামালকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে আটকের পর ৫৭ ধারায় মামলা রুজুর পর বুধবার সকালে জেল হাজতে পাঠায়।

সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম সমকাল বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগ পেলে আমরা আইজিপি’র অনুমতির জন্য পাঠাই। অনুমতি পাওয়ার পর মামলা করা হয়েছে। সাংবাদিক আনিছুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিক আনিছুরের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি রুহুল আমিনসহ অনেকে। এর প্রতিবাদে রৌমারী প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসে আব্দুর রহমানসহ বেশ ক’জন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ উঠলে সংবাদ প্রকাশ করেন আনিছুর রহমান। তখন থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান। ভূমিদস্যুতা ছাড়াও তার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here