কুয়াতে আটকে পড়া চিতাবাঘের ছবি পুরস্কার পেলেন আনন্দ বোরা

0
83

২০১২ সালের ১৯ জুলাই। আনন্দ বোরা ফোনে খবর পান, কাছের একটি গ্রামের কুয়াতে পড়ে গেছে একটি চিতাবাঘ। তা শুনেই আটকে পড়া চিতাবাঘের ছবি তুলতে ক্যামেরা নিয়ে আনন্দ ছুটলেন সেখানে। সেই ঘটনার তোলা ছবিই পাঁচ বছর পরে পুরস্কার পেয়েছে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে থাকেন আনন্দ বোরা। তিনি পেশায় শিক্ষক। আর তাঁর নেশা হলো বন্য প্রাণীদের ছবি তোলা। বিশেষ করে বন কর্মকর্তারা যখন আটকে পড়া কোনো বন্য প্রাণীকে উদ্ধার করেন, সেই ঘটনার ছবি তোলেন তিনি।

পাঁচ বছর আগে কুয়ায় পড়ে যাওয়া সেই চিতাবাঘকে উদ্ধারের ঘটনায় আনন্দের তোলা ছবি গত সপ্তাহে স্যাংচুয়ারি ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছে। ভারতের পরিবেশবিষয়ক ম্যাগাজিন স্যাংচুয়ারি এশিয়া এই পুরস্কারের আয়োজন করে। পুরস্কার পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, চিতাবাঘটিকে তোলার চেষ্টা করছেন বন কর্মকর্তারা। আর উদ্ধারকর্মীদের দিকে চেয়ে আছে চিতাবাঘটি। এখন এই ছবি তোলার পেছনের গল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পুরস্কার পাওয়া নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আনন্দ বোরা। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রের বুবালি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করা হয়। পুরো উদ্ধারকাজের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ছবি তোলেন আনন্দ।

আনন্দ বোরা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শতাধিক উদ্ধার অভিযানের ছবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘যখন চিতাবাঘটি আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছিল, তখন তার মুখে ভয়ের চিহ্ন ছিল না। সে বুঝতে পেরেছিল যে আমরা তাকে সাহায্য করতে এসেছি।’

বন কর্মকর্তারা পৌঁছানোর আগে প্রায় ২৫ ঘণ্টা সাঁতরে বেঁচে ছিল চিতাবাঘটি। পরে কাঠের মাচা বানিয়ে কুয়োতে নামানো হয়। তাতে করেই উঠিয়ে আনা হয় চিতাবাঘটিকে।

মহারাষ্ট্রে প্রায়ই বুনো শেয়াল, হায়েনা বা চিতাবাঘ স্থানীয় আখখেতে চলে আসে। মূলত শিকার ও সুপেয় পানির খোঁজে এরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। অনেক সময় মানুষের পাতা ফাঁদে এরা আটকে যায়। কিছু বন্য প্রাণী আবার পড়ে যায় কুয়োতে। আনন্দ বোরার তোলা ছবির চিতাবাঘটিও এভাবেই কুয়োতে পড়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here