কেন খিদে পায় না

0
73

খিদে পেলেই বুঝতে হবে শরীর কিছু চাইছে। গাড়ি চলতে যেমন জ্বালানি চাই, শরীরেরও তেমনি লাগে রসদ। এ অনুভূতির পেছনে একসঙ্গে কাজ করে মস্তিষ্ক আর পেট। মস্তিষ্ক থেকে সংকেত আসে—খেতে হবে। পেটের নাড়িভুঁড়ি বলে—খেয়ে নাও। পেট ঠান্ডা তো শরীর ঠিক। কাজেই কারও যদি খিদে না লাগে, বুঝতে হবে যে শরীরের কোথাও গড়বড় হয়েছে। এমন অবস্থা ছোট-বড় যে-কারও হতে পারে। জানা যাক, কেন খিদে পায় না।

মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা
আপনি যখন মানসিক চাপে থাকেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে অ্যাড্রেনালিনসহ নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসৃত হয়। এতে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় এবং হজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে ক্ষুধার প্রবৃত্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে এই অবস্থা বেশি সময় থাকে না। মানসিক চাপ দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে কিন্তু আবার উল্টোটা হয়। এ সময় করটিসল নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন উচ্চ ক্যালরির খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। অন্যদিকে, বিষণ্নতার কারণে অন্য সবকিছুর মতো খাবারের প্রতিও আগ্রহ কমে যায়। বিষণ্নতা অতিরিক্ত মাত্রায় পৌঁছালে অনেক সময় খাবার রান্নার প্রতিও বিতৃষ্ণা জন্মে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো অরুচি তৈরি করে। তখন খেতে ইচ্ছা করে না। বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাংগাল ও মাংসপেশি শিথিল করার ওষুধে সাধারণত এই ক্ষুধামান্দ্য তৈরি হয়। মানসিক অবসাদ, মাইগ্রেন ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধেও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে। যদি একদমই খেতে না পারেন, তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

শারীরিক অসুস্থতা
যখন আপনি অসুস্থ থাকেন, তখন শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধের কাজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এ সময় সাইটোকিনস নামের একটি রাসায়নিক উপাদান নিঃসৃত হয়, যা অসুস্থ ব্যক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এর কারণেই ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। সাধারণ সর্দি-জ্বরেও সাইটোকিনস নিঃসৃত হয়। এ সময় খেতে খুব একটা ইচ্ছে করে না। তবে মনে রাখতে হবে, অল্প খাবারও আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

থাইরয়েডজনিত সমস্যা
মানুষের শরীরে খাদ্য কীভাবে শক্তিতে রূপান্তরিত হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে থাইরয়েড হরমোনগুলো। যখন থাইরয়েড গ্রন্থি প্রচুর পরিমাণে হরমোন তৈরি করতে পারে না, তখন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়। এর ফলে আপনি কম শক্তি ব্যবহার করেন এবং খিদেও কমে যায়। তবে কম শক্তি ব্যবহারের কারণে আদতে শরীরের ওজন বাড়তে থাকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হরমোন থেরাপি নিতে হবে।

মাইগ্রেন
কেউ যদি মাইগ্রেনের ব্যথায় আক্রান্ত হন, তবে তাঁর ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে। মাইগ্রেনের কারণে বমি বমি ভাবও দেখা দেয়। ব্যথা কমে যাওয়ার পরও অনেক সময় খেতে ইচ্ছে করে না। সাধারণত মাইগ্রেনের ব্যথা কমে যাওয়ার দিন কয়েক পরও ক্ষুধামান্দ্য থেকে যায়।

রক্তস্বল্পতা ও ক্যানসার
শরীরে যখন পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় না, তখনই রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। লোহিত রক্তকণিকার কাজ হচ্ছে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করা। কারও শরীরে যদি লোহিত রক্তকণিকার অভাব হয়, তবে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হবে। এতে খিদে কমে যায় আশঙ্কাজনক হারে। কর্কট রোগেও অন্যতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ক্ষুধামান্দ্য। ক্যানসারের চিকিৎসা-পদ্ধতিও এর জন্য দায়ী। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির কারণে শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাবও দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে একবারের বেশি খাবার খাওয়ার পরিবর্তে অল্প পরিমাণে সাত-আটবার খাওয়া যেতে পারে।

বেশি বয়স ও ডায়াবেটিস
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩০ শতাংশ মানুষের খিদে কমে যায়। নানা কারণেই এটি হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের গন্ধ শোঁকা, স্বাদ ও দৃষ্টির সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে। এতে খাবারের প্রতি আকর্ষণও কমে যায়। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের অনেক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর পেশি নিয়ন্ত্রণ করা স্নায়ুরও ক্ষতি হয়। এতে খাবারের পরিপাকে সময় বেশি লাগে। এটিও খিদে কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

ওয়েবএমডি অবলম্বনে অর্ণব সান্যাল

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here