কোকেন এর বিকল্প এখন চেতনানাশক ওষুধ কেটামিন

0
78

চেতনানাশক কেটামিন ওষুধ এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নেশায়। নেশার জগতে নতুন এই ক্রেজি ড্রাগস কিংবা পার্টি ড্রাগস ব্যবহৃত হচ্ছে আরেক মরণ নেশা ‘কোকেন’-এর বিকল্প হিসেবে।

তবে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, এই মরণ নেশা বিদেশে পাচার হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির এই ওষুধ বিভিন্ন উপায়ে সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের দেশ স্পেনে পাচার করছিল দেশি-বিদেশি একটি সিন্ডিকেট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং সি-ব্লকের ১৮৭ নম্বর বাড়ি থেকে এক সিন্ডিকেটের তিনজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১-এর একটি দল। তারা হলেন মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী), মাহমুদুল হাসান ওরফে চয়ন ও হাবিবুল্লাহ খান। এর মধ্যে চয়ন প্রিমিয়ার ডিভিশন ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১.৪৫০ লিটার জি কেটামিন, ৩৪টি সাদা তোয়ালে, ১৮০টি জি কেটামিনের খালি বোতল, ৫টি তোয়ালে ও অন্যান্য সামগ্রী।

র‍্যাব জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ৩৪টি কেটামিনযুক্ত তোয়ালের মধ্যে ১৮টি উদ্ধার করা হয় একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে। গতকাল দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ জানান, এ চক্রটি চার-পাঁচ মাস ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও শুল্ক গোয়েন্দার চোখ ফাঁকি দিয়ে ইউরোপে কেটামিন পাচার করে আসছিল। এদের মধ্যে মীর মঞ্জুর মোর্শেদ ইউনিটের দলনেতা। যদিও পেশায় তিনি একজন খামার ব্যবসায়ী। তিনি ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। বাকি দুজনই একটি বেসরকারি ব্যাংকের মার্কেটিং শাখায় কর্মরত, তবে এর পাশাপাশি নিয়মিত ক্রিকেট খেলেন। মূলত স্পেনে অবস্থানরত মোর্শেদের বড় ভাই মাহাদী মঞ্জুর মান্না এবং স্প্যানিশ নাগরিক আরামডো গনজালের কাছেই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কেটামিন পাচার করা হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের মাদকসেবীদের কাছে কেটামিন খুব জনপ্রিয়। কোকেনের বিকল্প হিসেবে প্রতি গ্রাম মাদক ২০ থেকে ৩০ পাউন্ডে বিক্রি হয়। এ চক্রটি ইতিমধ্যে চারটি চালান নামকরা একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

র‍্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘মান্না চার মাস আগে বাজার যাচাই করতে বাংলাদেশ আসেন। পাচার হয় যেভাবে : জি কেটামিন নামক নিষিদ্ধ এই মাদকটি দেশের বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে তারা ১০ মিলির ১০০টি বোতলের ছিপি খুলে রেখে দিতেন যাতে বিষাক্ত গ্যাসটি বের হয়ে যায়। পরে তারা স্টিলের হাঁড়িতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত জি কেটামিন ইনজেকশনটি উত্তপ্ত করেন, যাতে দ্রব্যটি ঘন হয়ে আসে। এ অবস্থাতেই উত্তপ্ত মাদকটি পরিষ্কার সাদা তোয়ালের এক পাশে স্প্রে করে শুকানোর জন্য রাখা হয়।

সবশেষে তোয়ালেগুলো ভাঁজ করে সুরক্ষিতভাবে প্যাকেটের ভিতরে সিল করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে স্পেনের লা-কেরোনার ঠিকানায় পাঠানো হতো।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here