ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও শ্রেষ্ঠতম ৩ বলার

0
308

ক্রিকেটের বিবর্তন প্রক্রিয়ায় অভ্যুদয় ঘটেছে ভয়ঙ্কর সব বোলারের। মাঠে তাদের উপস্থিতি ভীতির সঞ্চার করেছে ব্যাটসম্যানদের হৃদয়ে। মাঠের বাইরে তারা প্রকাশ্যে প্রশংসাও করেন জন্মগত প্রতিভার অধিকারী ওইসব বোলারের। ২২ গজের উইকেটে একক নৈপুণ্যে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়ায় ক্রিকেটের ‘অতুলনীয়’ বোলার খ্যাতিও গেছে তাদের দখলে। কখনো গতি কখনো বাউন্সার আবার ক্ষেত্রবিশেষ ঘূর্ণিবলের মায়াবী জাদুর ফাঁদে আটকে তারা হতবিহ্বল করেছেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যানদেরও। বল হাতে বিশেষায়িত এসব তারকাদের কারিশমায় বিশেষ গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বোলিং ইউনিটে। ক্রিকেটের ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে তাদের অবিস্মরণীয় ৬ বলের এক ওভারের ম্যাজিক দর্শনে। ভদ্রলোকের খেলা হিসেবে পরিচিত ক্রিকেটের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও শ্রেষ্ঠতম ৩ বোলিং স্পেল নিয়েই এই প্রতিবেদন

শোয়েব আকতার
২৮ মার্চ, ২০০০ সাল। ভেনু শারজা স্টেডিয়াম। ত্রিদেশীয় সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুখোমুখি পাকিস্তান। এশিয়ার দেশটির ১৬৮ রানের সংগ্রহ চেজ করতে নেমে জয় হাতের মুঠোয় টেনে নিতে সক্ষম হয় আফ্রিকা। হার্শেল গিবসের দৃঢ়তায় ১ উইকেটেই তাদের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৭৪-এ। হার একপ্রকার নিশ্চিতের ম্যাচে প্রথম ৩ ওভারে উইকেটশূন্য শোয়েব আখতারের হাতে বল তুলে দিয়ে সবাইকেই চমকে দেয় পাকিস্তান। তবে দৃশ্যপট দখলে নেয়ার দ্বিতীয় সুযোগ হারাতে রাজি হননি রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত পেসার।

ওভারের প্রথম বলেই শোয়েবের গতি ও বাউন্সারে পরাস্ত মার্ক বাউচার। ক্রিজে পা রেখে কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকিস্তানি পেসারের দ্বিতীয় বলে উইকেট বিলিয়ে দিতে বাধ্য হন বেকেস্টেইন। ওভারের শেষ বলে শোয়েবের বুলেট গতির ডেলিভারিতে ছত্রখান ল্যান্স ক্লুজনারের উইকেট। পাকিস্তানি পেসারের ৬ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট শিকারের ধাক্কা সামলে নিতে পারেনি দ: আফ্রিকা। ১০১ রানেই গুটিয়ে যায় দলটির ইনিংস।

চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট
৫০ ওভারের ফরম্যাটের ‘শ্রেষ্ঠ শেষ ওভার’ হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডিয়াম পেসার ল্যাঙ্গাভেল্টের স্মরণীয় বোলিং। ২০০৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আফ্রিকার ওয়ানডে সিরিজের লড়াই। বার্বাডোজে ২৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে জয়ের দ্বারপ্রান্তে স্বাগতিক উইন্ডিজ। শেষ ওভারে তাদের প্রয়োজন ৪ রান। হাতে তিন উইকেট। বল হাতে এগিয়ে এলেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। ব্যাটিংয়ে ইয়ান ব্র্যাডশ ও ডোয়াইন ব্র্যাভো। প্রথম ২ বল থেকে দুই সিঙ্গেল সংগ্রহে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে তারা বসিয়ে দেন স্বাগতিকদের।

শেষ চার বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন দাঁড়ায় ২ রান। হাতে তখনো ৩ উইকেট। নিশ্চিত পরাজয়ের বাড়তি চাপ কাঁধে রেখেই ওয়ানডে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ হ্যাটট্রিক উপহার দেন ল্যাঙ্গাভেল্ট। তৃতীয় বলে আউট ব্র্যাডশ। আফ্রিকান বোলারদের চতুর্থ ডেলিভারিতে সাজঘরে সদ্য ক্রিজে পা রাখা কলিন পাওয়েল। অসাধারণ এক ইনসুইংয়ে তৃতীয় বলে কলিমোরের স্টাম্প উড়িয়ে ল্যাঙ্গাভেল্ট ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের সমাপ্তি টানেন ব্যক্তিগত হ্যাটট্রিকে।


মাইকেল হোল্ডিং
১৯৮১ সাল। ইংল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দল দুটির মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট। প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রানে অলআউট উইন্ডিজ। স্বাগতিকদের পক্ষে ওপেনিং করেন গ্রাহাম গুচ ও জিওফ বয়কট। নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের সূচনা বলে বয়কটকে চমকে দেন কিংবদন্তি হোল্ডিং। তবে ক্যাচ ড্রপে প্রথম বলে বঞ্চিত হন উইকেট থেকে। হোল্ডিংয়ের দ্বিতীয় ডেলিভারি বুঝতেই পারেননি বয়কট। ক্যারিবীয় পেসারের দুর্দান্ত গতির তৃতীয় বলে আঘাতপ্রাপ্ত হন ঊরুতে ইংলিশ তারকা। পরের দুই বল থেকে তিনি নিজেকে আত্মরক্ষায় সাফল্য পেলেও শেষ হাসি দেখা মিলেছে হোল্ডিংয়ের মুখাবয়বে। ওভারের শেষ বলে কিংবদন্তি গুঁড়িয়ে দেন বয়কটের অফ স্ট্যাম্প। ৩৫ বছর পুরনো মাইকেল হোল্ডিংয়ের ৬ বলের ওভারটির দখলেই গেছে ‘ওভার অব দ্য সেঞ্চুরির’ খ্যাতি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here