খাবার আনার জন্য বাবার কাছে টাকা চাওয়ায় মেয়েকে হত্যা

0
81

সকালে মা কাজে চলে যান পোশাক কারখানায়। আগের রাতে বাবার সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় কোনো রান্না করে যাননি। ঘুম থেকে উঠে ক্ষুধার তাড়নায় নাশতা আনার জন্য বাবার কাছে টাকা চায় দশ বছরের শিশু উম্মে সালমা রীমা। টাকার পরিবর্তে শিশুকন্যাকে সর্বশক্তি দিয়ে লাথি মারে বাবা মো. আলী ওরফে খোরশেদ। লাথির ধকল সইতে পারেনি রীমার ছোট্ট শরীর। এক লাথিতেই মৃত্যু হয় তার। এর পর শিশুটির দেহ বাসার আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় খোরশেদ। ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা এলাকায়। ঘটনার পর পার হয়েছে দুই বছর। একের পর এক পরিবর্তন হয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। অবশেষে শিশু খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্দ্বীপ উপজেলা এলাকা থেকে ঘাতক বাবাকে গ্রেফতার করে তারা। গ্রেফতার মো. আলী ওরফে খোরশেদ (৩৩) ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ফারুক আহাম্মদের ছেলে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এএএম হুমায়ুন কবীর সমকালকে বলেন, ‘শিশুটির মৃত্যুর পর কোনো সূত্র ছিল না। প্রথমে আত্মহত্যা বিবেচনায় নিয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর পর একে একে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন। কেউ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি। অষ্টম তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি নিয়ে লেগে ছিলেন। অবশেষে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। আসামিও গ্রেফতার হয়েছে।’

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আবু ছালেক সমকালকে বলেন, ‘মামলার খোঁজখবর নিতে গিয়ে আসামির দ্বিতীয় বিয়ের খবর পাই। মেয়ের মৃত্যুর পরও ফিরে না আসার বিষয়টি জানতে পেরে তার ওপর সন্দেহ হয়। তার বাড়ির খোঁজ নিয়ে সেখানে যাই। বিস্তারিত ঠিকানা পাওয়ার পর রাজমিস্ত্রির কাজ যারা করেন তাদের মাধ্যমে খোঁজ নিতে থাকি। একপর্যায়ে খবর পাই, সে কুমিল্লায় চলে গেছে। সেখানে খবর নিয়ে পরে জানতে পারি, সে সন্দ্বীপে আছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হলে সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজ মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here