খালেদা জিয়ার কক্সবাজারে যাচ্ছেন আগামীকাল

0
42

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কক্সবাজারে আসার খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গত রবিবার রাত থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে জেলা বিএনপি কার্যালয়। রবিবার থেকে প্রতিদিন কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর। ওই দিন সড়ক পথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

গত ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ তিনমাসের সফর শেষে গত ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় দেশে ফেরেন। বেগম খালেদা জিয়া দেশে আসলে তার এই সফর চিকিৎসার জন্য হলেও সফরকে ঘিরে শুরু থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ এবং রাজনৈতিক মহলে চলছিল অনেক জল্পনা-কল্পনা। কারণ বিএনপি প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে আসতে পারে আগামী নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই দেশে এসেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা মামলার জামিনও নেন। পরে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গাদের দেখতে আসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এরই প্রেক্ষিতে আগামী ২৮ অক্টোবর শনিবার গুলশান কার্যালয় থেকে সকাল ১০টায় বের হয়ে সড়ক পথে চট্টগ্রাম এসে সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ২৯ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে সড়ক পথে বের হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ওইদিন বিকেল ৪টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজে উপস্থিতি ও রাত্রিযাপন করবেন।

পরদিন ৩০ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজ থেকে বের হয়ে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১১টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে বালুখালী পানবাজার ড্যাব পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্প, বালুখালী-২ রোহিঙ্গা ক্যাম্প, গয়ালমারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করবেন। সেখান থেকে দুপুর ২টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা দেবেন। পরে বিকেল ৪টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজ থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেদিনও চট্টগ্রামে রাত্রিযাপন করার কথা রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের শীর্ষ বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজারে আসবেন তাই আশান্বিত হয়ে সড়ক পথে শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদলসহ বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এ শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে। বেগম জিয়ার কক্সবাজারে আসার চূড়ান্ত তারিখ জানার পর গতকাল উখিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক করেছেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের নিয়েও বৈঠক করেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি  উপজেলা চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের সেনাদের অব্যাহত নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে আসবেন আমাদের প্রিয় নেত্রী। তাই দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর সাথে নিয়ে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে সংবর্ধনা জানানো হবে। তবে এবার দলের নেতা-কর্মীসহ সড়ক পথে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামবে বলে তিনি জানান।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। কক্সবাজারসহ আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও নেত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে আসবেন নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জানান, দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে আসবেন সে-খবরে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। দলের চেয়ারপারসনকে সড়কপথে জনতার স্রোতের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হবে। আমাদের নেতা-কর্মীরা দেশনেত্রী আসার অপোয় প্রহর গুনছেন। বিএনপির মতো একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে অঙ্গসংগঠনগুলো। ওইদিন চেয়ারপারসনকে সম্বর্ধনা জানাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত জনস্রোত নামানোর পরিকল্পনা করছে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদলের নেতাকর্মীরা।

কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ উজ্জল বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যের প্রতীক হলেন বেগম খালেদা জিয়া। সকলেই তার কক্সবাজারে আসার জন্য অপেক্ষা করছে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ মানুষ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও ক্যাম্প পরিদর্শন করতে আসছেন। এটা কোনো দলীয় জনসভা নয় তাই মানবতার নেত্রী হিসেবে সড়কে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তাকে অভ্যর্থনা জানাবে। সেভাবে প্রস্তুতিও চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন কক্সবাজারে আসার দিনে গুলশান থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত জনস্রোত নামবে বলেও মনে করেন তিনি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here