গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর তিন দিন বাকি।

0
101
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর তিন দিন বাকি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর তিন দিন বাকি। বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যেই সারা দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে গাজীপুরের নির্বাচন। আর প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’। তাই গাজীপুরে দেখা মিলছে বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের। গত কয়েক দিন ধরেই স্থানীয় নেতা কর্মীদের পাশাপাশি তারাও বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

গাজীপুরে প্রচার প্রচারণায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা বলছেন, নীরব ভোটাররাই ২৬ জুনের নির্বাচনে ভোট বিপ্লব ঘটাবে।

প্রায় দেড় মাস নির্বাচনী প্রচার বন্ধ থাকার পর গত সোমবার থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয় গাজীপুরে। ঈদের একদিন পর থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হলে বন্ধ থাকা দেড় মাসে প্রার্থীরা ঘরোয়াভাবে এবং দলীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়েছেন। সোমবার নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আবারও গাজীপুরে কাজ শুরু করেছেন। দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন।

গাজীপুরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রধান দল দুটির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিদিনই ছুটে গেছেন গাজীপুরে। দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারে। পরিকল্পিতভাবে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রচারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবেও সমন্বয় করা হচ্ছে প্রচার কার্যক্রম। শুধু কেন্দ্রীয় নেতারাই নন, দেশের বিভিন্ন এলাকার জনপ্রিয় নেতা ও বিদেশের দলীয় নেতারাও এখন গাজীপুরে।

দল দুটির কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের কণ্ঠে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি গাজীপুরকে সুন্দর বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি থাকছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের কণ্ঠে সরকারের অন্যায় অত্যাচার, নিপীড়নের অভিযোগের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান থাকছে।

খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক গতকাল শুক্রবার থেকে গাজীপুরে এসে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার করছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন প্রচার কাজে। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও পিছিয়ে নেই এ ক্ষেত্রে। ৫৭ টি দল করে তাঁরা নির্বাচনী প্রচারে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রধান দুই প্রার্থীর পক্ষে ১৪ দল ও ২০ দলীয় জোট নেতারাও অংশ নিচ্ছেন।

গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় দেখা হলো সংগীত শিল্পী বেবী নাজনীনের সঙ্গে। বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে আজ ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করেন তিনি। বেবী নাজনীন বলেন, ভোটারদের স্বত:স্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া দেখে আমি মুগ্ধ। ভোটের দিন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত।

টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি বাজারে দেখা হয় জার্মান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদল আহমেদের সঙ্গে। দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে বৃহস্পতিবার দেশে এসেছেন। তিনি বলেন, দলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোট চাইছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গাজীপুরের মানুষ নৌকায় ভোট দেবেন।

সরেজমিনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন:

আজ শনিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে ভোট নিয়ে মানুষের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনেকে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখালেও কারও কারও মধ্যে ছিল কিছুটা সতর্ক ভাব। গাছা এলাকার কয়েকটি দোকানে বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল তাঁরা ভেবে চিন্তে ভোট দেবেন। কেউ কেউ বললেন, উন্নয়ন যিনি করতে পারবেন তাঁকে ভোট দেওয়ার কথা।

রিপনের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন কয়েকজন। তাঁদেরই একজন এরশাদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমাগো এলাকার রাস্তাঘাট খুবই খারাপ।’ রাস্তাঘাট উন্নয়ন যিনি করতে পারবেন তাঁকেই ভোট দেবেন বলে জানালেন এই শ্রমিক।

শাহেদুল আলম নামের আরেক ভোটার বললেন, ভোটের দিন যদি ভোট দিতে পারি তাহলে পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দেব। ভোট না দিতে পারার কোনো আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই ভোটের দিন সকালেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে নীরব ভোটারদের নিয়েই দুই দলের ভাবনা। দুই দলই প্রত্যাশা করছেন নীরব ভোটাররা ভোট দিতে পারলে তাঁদের প্রার্থীই বিজয়ী হবে।

গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলকে বিকেলে পাওয়া গেল কাশিমপুর এলাকায়। সেখানে জনসংযোগ করছিলেন তিনি। রাসেল মনে করেন, নীরব ভোটাররাই তাঁদের দলের শক্তি। এই ভোটারদের উন্নয়নের পক্ষে আনতে জনসংযোগে গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও হাসান উদ্দিন সরকারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক মিলন জনসংযোগ করছিলেন পুবাইল এলাকায়। তিনি বললেন, নীরব ভোটাররা ভোট দিতে পারলে বিএনপির পক্ষে ভোট বিপ্লব হবে।

গাজীপুরে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ১৫ মে। নির্বাচনী প্রচার বেশ জমেও উঠেছিল। কিন্তু ৬ মে তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর ১০ মে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ২৮ জুনের মধ্যে ভোটগ্রহণের সময়ও বেঁধে দেন। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন করে ২৬ জুন ভোটের তারিখ ঘোষণা করে ১৮ জুন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর নির্দেশনা দেয়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here