গুরুত্ব হারাচ্ছে টিসিবি

0
551

বাজারে দ্রব্যমূল্যের দৃশ্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চাল, তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল ও সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বন্যার অজুহাত দিয়েছেন। কিন্তু কিছু পণ্য আছে সরবরাহে ঘাটতি না থাকার পরও দাম বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে সিন্ডিকেট। আর এর মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ব্যবসায়ীদের হাতে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পেছনে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দুর্বলতাকেও অনেকে দায়ী করেন। আমরাও মনে করি, টিসিবি ক্রমেই গুরুত্ব হারাচ্ছে। তারা হাতেগোনা কিছু পণ্য মাঝেমধ্যে খোলাবাজারে বিক্রি করে, যা বিদ্যমান বিশাল বাজার ব্যবস্থায় কোনো প্রভাবই ফেলতে পারে না। টিসিবির দুর্বলতার জন্য নিজস্ব তহবিলের অভাবের সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও দায়ী করা হয়। সরকার কেন টিসিবিকে সবল করার পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বাড়ছে বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয়। সরকারি-বেসরকারি সেবার দামও বাড়ছে। সেই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজার অস্থিতিশীল হওয়া মানেই দেশের বেশিরভাগ মানুষের ওপর চাপ পড়া। তাই সরকারকে বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই শুধু নয়, কর্মসংস্থানও বাড়াতে হবে। তখন উৎপাদন বাড়বে, বাড়বে ক্রয়ক্ষমতা। আয় বাড়লেই মূল্যস্ফীতির আঘাত সহনীয় হয়। সব মানুষের আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার সম্পর্ক অতি নিবিড়। একটি পরিবার কীভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করবে তা নির্ভর করে তাদের আয়, চাহিদা এবং দ্রব্যমূল্যের ওপর। প্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের মূল্য যখন সহনীয় পর্যায়ে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তখন তাদের জীবন কাটে স্বস্তিতে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্য যখন সাধারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে যায়, তখন দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে থাকতে হয় অর্ধাহার-অনাহারে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অতিদরিদ্র মানুষকে অর্ধাহার ও অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য করছে।

এখন ন্যায়সঙ্গত দামে কোনো পণ্যই আর পাওয়া যায় না। প্রতিটি পণ্যেই যেন আগুন জ্বলছে। ভবিষ্যতে এ অবস্থার যেন আরও অবনতি না ঘটে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। মনে রাখতে হবে, খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে। বেঁচে থাকার তাগিদে কেউ কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। কাজেই আমরা আশা করব, দৃশ্য ও অদৃশ্যমান সব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিশ্চিত করা হবে সাধারণ ও নিন্মআয়ের মানুষের দুই বেলা আহারের নিরাপত্তা। যেসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাজারকে বারবার কব্জা করে নিচ্ছে, সেগুলোও দূর করতে হবে। সর্বোপরি টিসিবিকে করতে হবে সচল। নতুবা এ প্রতিষ্ঠান রেখে লাভ কী?

সাবরিনা শুভ্রা : গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

shvuraa7@gmail.com

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here