গ্যাঁড়াকলে আটকে আছে মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।

0
24
গ্যাঁড়াকলে আটকে আছে মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।

অধিকতর তদন্তের গ্যাঁড়াকলে আটকে আছে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।

২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন আদালত। এরপর গত প্রায় চার বছরে তদন্ত সংস্থা সিআইডি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ১৬ দফা সময় নিয়েছে। আগামী ২২ জুলাই এ মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য আছে।

১৯৮১ সালের ১ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সামরিক হেফাজতে জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন৷ মঞ্জুর হত্যা মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছেন সিআইডির কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল কাহার আকন্দ।

তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলার সরকারি কৌঁসুলি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অগ্রগতি বলতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রী ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসেছেন। এ বিষয়ে তিনি আদালতকে অবহিত করেছেন। এ ছাড়া আর কোনো অগ্রগতি নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী আসাদুজ্জামান বলেন, কত দিনে তদন্ত শেষ হতে পারে, এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাই বলতে পারবেন। তবে প্রতিবেদন না দিলে পুনরায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার কোনো সুযোগ নেই।

২০১৪ সালে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি তারিখে আবদুল কাহার আকন্দ আদালতে বলেছিলেন, অভিযোগপত্রের কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে৷ নিহত মঞ্জুরের পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় আছেন, তা শনাক্ত করতে পারেননি উল্লেখ করে ওই সময় তিনি আরও তিন মাস সময় নিয়েছিলেন৷

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সংঘটিত সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার সেনা আইনে মঞ্জুরের বিরুদ্ধে সেনাবিদ্রোহের অভিযোগ এনে বিচার করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও জেনারেল মঞ্জুর হত্যার বিচার করেনি।

মঞ্জুর হত্যার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৭ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ, মেজর কাজী এমদাদুল হক, লে. কর্নেল শামসুর রহমান শামস ও লে. কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন। এ চারজনই অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। অপর দুই অভিযুক্ত ব্রিগেডিয়ার আজিজ ও নায়েক সুবেদার আবদুল মালেক অভিযোগপত্র দেওয়ার আগেই মারা যাওয়ায় তাঁদের আসামি করা হয়নি।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে তত্কালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এইচ এম এরশাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়।

মামলাটি দায়ের করার পর ১৯ বছর পর ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটির রায় দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তার কয়েক দিন আগে, ২৯ জানুয়ারি আদালতের বিচারক পরিবর্তন করায় নতুন বিচারক ওই তারিখে রায় না দিয়ে নতুন যুক্তিতর্ক পেশ করার তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল সেই ধার্য তারিখ। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা বিচারাধীন আছে।

জানতে চাইলে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, মামলার অধিকতর তদন্তের কাজ অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এখন সেগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে। এগুলো শেষ হলেই আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here