জনগণ কোন দুর্নীতিবাজের সঙ্গে নেই।

0
31
জনগণ কোন দুর্নীতিবাজের সঙ্গে নেই।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদালতের রায় না মেনে বিএনপির কথিত আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, জনগণ কোন দুর্নীতিবাজের সঙ্গে নেই। তারা জনগণের সম্পদ, এতিমের টাকা লুটে খাবে, আর এজন্য আদালত শাস্তি দিয়েছে বলে হুমকি-ধামকি আন্দোলনের হুংকার দিবে। আইন-কানুন না মানাই তাদের চরিত্র। আগামী নির্বাচনে আবারো নৌকায় ভোট দিলে দেশবাসীকে তিনি সুন্দর জীবন উপহার দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা পৌরসভা সদরে পটিয়া হাইস্কুল মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জনগণ কোন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবাজের সঙ্গে নেই। বাংলাদেশ হবে শান্তির দেশ।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র চট্টগ্রাম আজ উন্নয়নের মহাসড়কে উন্নীত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। তারই প্রমাণ সমগ্র চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতিটি এলাকায় আজ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তিনি  আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তার সরকারকে জনগণের সেবায় আবারো নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে। আমার একটাই লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করা। তিনি আরো বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর টানা ২০ বছর বাংলাদেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি সরকার মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের ব্যবস্থা রেখে ক্ষমতা ছাড়ে। আমরা ক্ষমতায় এসে বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ালাম। বর্তমানে আমরা ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষমতা অর্জন করেছি। তারা ক্ষমতায় থেকে মানুষ হত্যা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতন এবং দেশকে অবনতির দিকে শুধু নিয়ে যায়নি বরং বিএনপি হয়ে বিএনপি’র লোককে অপহরণ করে হত্যা করেছে। চট্টগ্রামে বিএনপি’র লোক বিএনপি’র অপর নেতা জামালউদ্দিনকে অর্থের লোভে অপহরণ করেছিলো, ছয়মাস পরে তার হাড়-কংকাল পাওয়া গিয়েছিলো।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের কাছে দেয়া ওয়াদা অনুসারে জাতির পিতার হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়েছে। দেশে শান্তি স্থায়ীরূপ পাবে এই লক্ষ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দেশে যেখানে বিদ্যুত্ নেই সেখানে সোলার প্যানেল বসিয়েছি। কোথাও বিদ্যুেকন্দ্রও নির্মাণ করে দিয়েছি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি ও বেকারত্ব দূরীকরণে বর্তমান সরকারের ব্যাপক সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আজ আর ভিক্ষুকের দেশ বলা যাবে না।

 

শেখ হাসিনা চট্টগ্রামসহ সারাদেশে তার সরকারের উন্নয়নের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও বাংলাদেশের মানুষকে সুখী-সুন্দর জীবন দেবো। বাংলাদেশের মানুষের স্নেহ ভালবাসা পেয়ে বাবা-মা ভাই-বোন হারানোর ব্যথা ভুলেছি। খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা এবং কারাবাস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতিমখানার জন্য বিদেশ থেকে টাকা এসেছে- আপনারা চিন্তা করে দেখেন পবিত্র কোরাআন শরীফে লেখা আছে এতিমের হক কেড়ে নিওনা। আর তারা কোরআন শরীফের নির্দেশ অমান্য করেছে। এতিমের টাকার একটি টাকাও এতিমখানায় যায় নাই। সব নিজেরা আত্মস্যাত্ করেছে। এই মামলা আওয়ামী লীগ সরকার নয়, বরং খালেদা জিয়ার পছন্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দিন এবং সেনাপ্রধান মইনউদ্দিন দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই মামলা রুজু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন আর রায় দিয়েছে আদালত।

 

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার সমালোচনা করে বলেন, এই চট্টগ্রামে স্কুল শিশুর ওপর বোমা মেরে তার দুই চোখ নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে পেট্রোল বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। ২৭ জন পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। বিজিবিকে হত্যা করা হয়েছে। মা, বোন থেকে শুরু করে কোলের শিশু পর্যন্ত কেউ রেহাই পায়নি। তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের ধর্মের মৌলিক শিক্ষা এবং মর্মবাণী মানুষের কাছে তুলে ধরার আহবান জানিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষ খুন করলে কেউ বেহেশতে যেতে পারে না, তাকে দোজকে যেতে হবে, এটা সকলকে বোঝাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে আপনজনকে দূরে রাখতে আপনাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রীর মুচলেকা দিয়েই খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় এসেছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, তিনি ভারতের কাছে গ্যাস রপ্তানি করতে রাজি ছিলেন না। তাঁর কথা ছিল দেশের জন্য ৫০ বছরের জন্য রিজার্ভ রেখে তার পরেই গ্যাস রপ্তানীর কথা ভাবা হবে।

 

বিশালাকৃতির নৌকার র্যাপ্লিকার উপর স্থাপিত দৃষ্টিনন্দন মঞ্চে বিকেলে প্রধনমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী এসে পৌঁছলে সমবেত লাখো জনতা করতালি ও শ্লোগান দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ প্রমুখ।

 

মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিদের জন্য যে ৩০ শতাংশ কোটা আছে, তা বহাল থাকবে। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এ কথাটা ভুললে চলবে না। কাজেই তাঁদেরকে আমাদের সম্মান দিতেই হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here