জনপদে মোটরসাইকেলে চড়ে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ায় মাঝবয়সী এক লোক।

0
87
জনপদে মোটরসাইকেলে চড়ে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ায় মাঝবয়সী এক লোক।
  • একসময় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন নুরুল।
  • পরে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
  • দক্ষিণ চট্টগ্রামে কুখ্যাত ডাকাত হিসেবে পরিচিতি পান নুরুল।
  • নুরুলের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে।
  • পুলিশ নুরুলের হদিস পায় না।

কেউ গাড়িতে উঠছেন, কেউ আবার নামছেন। আবার কেউ বাজারে কেনাকাটা সারছেন। সড়ক, বাজার ও বাসস্টেশন-সব মিলিয়ে বোয়ালখালীর বেংগুরা নামের এই জনপদ পথচারীদের আনাগোনায় সরগরম থাকে। সেই জনপদে মোটরসাইকেলে চড়ে অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ায় মাঝবয়সী এক লোক। এলাকার লোকজন ভয়ে কিছু বলেন না। কারণ, প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অস্ত্রধারী লোকটির নাম মো. নুরুল আবছার (৪০)। বোয়ালখালীর সারোয়াতলী ইউনিয়নের খিতাপচর এলাকার বাসিন্দা মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে তিনি। একসময় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে কুখ্যাত ডাকাত হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদকসহ নয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, প্রায় সময় এলাকায় অস্ত্র হাতে মহড়া দেন আবছার। পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক। মাদক ব্যবসার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গিয়াসউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে তাঁর বাসার সামনে কুপিয়ে ও গুলি করেন আবছার ও তাঁর সহযোগীরা। ওই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি বোয়ালখালী থানায় মামলা হয়। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গিয়াসউদ্দিন এখন চলাফেরা করতে পারেন না। পঙ্গু অবস্থায় আছেন। তিনি গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, আবছার অস্ত্র নিয়ে ঘরে আসেন। তাঁকে হুমকি দেন মামলা তুলে ফেলার জন্য। গিয়াসের বাবা মোহাম্মদ রফিক বলেন, আবছার এবং তাঁর সহযোগীদের হাত থেকে তাঁরা বাঁচতে চান। তাঁদের জীবন দুর্বিষহ করে দিয়েছে এই সন্ত্রাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আবছার সব সময় মোটরসাইকেলে চড়ে এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁর ডান কাঁধে থাকে আগ্নেয়াস্ত্র। বাজারের ওপর দিয়ে অনেক মানুষের সামনে মোটরসাইকেল চড়ে অস্ত্র নিয়ে পশ্চিম খিতাপচরের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। ওই সময় চারদিকে পাহারায় থাকে তাঁর সহযোগীরা। মাঝেমধ্যে ফাঁকা গুলিও ছোড়েন। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আবার পুলিশি উপস্থিতি টের পেলে সটকে পড়েন আবছার ও তাঁর লোকজন।

বেংগুরা বাজারের একজন দোকানি নাম প্রকাশ না করে বলেন, অস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়ান আবছার। তাঁর চলাচল সিনেমার দৃশ্যের মতো। সহযোগীরাও অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘোরেন। তাকিয়ে দেখা ছাড়া লোকজনের আর কী করার আছে? পুলিশকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তো নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সরোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবছারের বিরুদ্ধে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা করেছি। তাতে কোনো লাভ হয়নি। পুলিশ তৎপর হলে তাঁকে গ্রেপ্তার সম্ভব। আসলে আবছার শুধু বোয়ালখালীতে নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী দল নিয়ন্ত্রণ করে।’

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিমাংশু কুমার দাস বলেন, আবছার দুর্ধর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গা ঢাকা দেওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত আছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here