জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ হবে আত্মঘাতী।

0
45
জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ হবে আত্মঘাতী।

এ সরকার পরবর্তী সংসদ নির্বাচনও সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মডেলে করবে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দলটি। বিএনপির মতে, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ হবে আত্মঘাতী।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভীর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ফলেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খুলনার মানুষের সমর্থন মিলেছে। আর যারা গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, এমন সুষ্ঠু নির্বাচন দেশে কবে হয়েছে?’

রিজভীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য খুলনার ভোটারদের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা। অবৈধ ক্ষমতার দৌরাত্ম্যে ভোটারদের অধিকার বঞ্চিত করে এখন তাদের তুচ্ছ–তাচ্ছিল্য করছেন প্রধানমন্ত্রী।

রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নতুন মডেলের ‘চমৎকার’ নির্বাচনে খুলনা সিটির অর্ধেকেরও কম ভোটার ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। কেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি হাজার হাজার ভোটার। নির্বাচনের পর লজ্জায় আজও নির্বাচন কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে পারেনি। যে নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্ব মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। যে নির্বাচনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের তদন্ত দাবি করছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো। যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র বাবার সঙ্গে ভোট দিতে পারে, ‘মরা মানুষ’ ভোট দিতে পারে, সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে সিল মারতে পারে, সে নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় এটাই প্রমাণিত হলো যে ভোট ডাকাতির হুকুমদাতা সরকারের শীর্ষ নেতারা।

নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুরোপুরে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা দলীয় মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের যে রকম নিয়ম, তাতে আমাদের হাত-পা বাঁধা।’
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপনাদের পছন্দের লোকজনকে ঢুকিয়ে আপনারা সুষ্ঠু ভোট যাতে না হয় সে জন্য হাত-পা বেঁধে দিয়েছেন। ইসি খুলনাতে সরকারে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে মাত্র। ইসি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্বর্ণালি বাহিনী নন, বরং এখন তারা “খাঁচায় পোরা তোতাপাখি”।’

সরকার তার কর্তৃত্ব সম্প্রসারণ করে ইসিকে কবজায় নিয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভোট সন্ত্রাসের এক অভিনব নতুন মডেলের নির্বাচন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি খারাপ নজির সৃষ্টি করল।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here