জীবনের শেষ বড়দিনের আবদার

0
199
জ্যাকব স্যামসন আর পাঁচটা দুরন্ত শিশুর মতোই। ৯ বছর বয়সী শিশুটি সারাদিন দুষ্টুমি করতে, কম্পিউটারে গেম খেলতে এবং টিভিতে কার্টুন দেখতে পছন্দ করে। কিন্তু অন্য শিশুদের সাথে তার তফাৎ হলো, অন্যদের চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন আছে—দীর্ঘ আয়ুর প্রত্যাশা আছে।  কিন্তু জ্যাকবের তা নেই। কারণ সে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। আমেরিকার চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা সোজা ভাষায় বলে দিয়েছেন তার আয়ু আছে মাত্র ১ মাস।
চিকিৎসকরা যখন এই খবরটি দেন তখন তার বাবা-মায়ের পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছিল। সেটাই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত। তারা প্রথমে সিদ্ধান্ত নেন জ্যাকবকে কিছুই বুঝতে দেবেন না। কিন্তু পরমুহূর্তে তাদের মনে হলো, সেটা করলে সন্তানের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেন—তাকে জানিয়ে দেয়া হবে তার কি অসুখ হয়েছে এবং সে কতদিন বাঁচবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করলেন তারা। সব শোনার পর একটুও বিচলিত হলো না শিশুটি। সে হাসিমুখে নিজের নিয়তি মেনে নিল। একমাস পর সে আর এই পৃথিবীর আলো দেখবে না সেটাও জেনে গেল। তার কাছে জানতে চাওয়া হলো শেষ এই কয়েকটা দিন সে কিভাবে কাটাতে চায়। উত্তরে জ্যাকব এবার বড়দিনে সবার কাছ থেকে অনেক অনেক কার্ড উপহার পেতে চায়।
কিন্তু বড়দিন আসতে এখনো এক মাসের বেশি বাকি। ততদিন হয়তো জ্যাকব থাকবে না। তাই তার বাবা-মা জ্যাকবের জন্য বড়দিন ‘এগিয়ে আনার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বাবা সিএনএনকে তার সন্তানের এই আবদারের কথা জানিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন সবাই যেন তার জন্য বড়দিনের আগাম কার্ড পাঠায়। সবার পাঠানো কার্ডের লেখাগুলো সে পড়ে দেখতে চায়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত সময়টা সে এভাবে কাটাতে চায়।
গত মাসের ১১ তারিখ জ্যাকবকে পোর্টল্যান্ডের বারবারা বুশ চিলড্রেন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন তার ক্যান্সার যে স্তরে পৌঁছেছে তার চিকিত্সা অসম্ভব। মাত্র এক মাস আছে তার আয়ু। সন্তানের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে বড়দিনের আনন্দ উপহার দিতে ‘ফার্স্ট ফরোয়ার্ড’ করে তাদের বড়দিন সামনে আনতে হচ্ছে। তার জন্য এ মাসেই নিজেদের বাড়িতে বড়দিনের আয়োজন করা হবে। কৃত্রিম তুষার, ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে বাড়ি সাজানো হবে। সাজানো হবে সান্তা ক্লজও। তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সারা বিশ্ব থেকে শতাধিক কার্ড এসেছে। আশা করছেন, আরো আসবে।
সিএনএন তার পাঠকদের জন্য জ্যাকবের কাছে কার্ড পাঠানোর ঠিকানাও প্রকাশ করেছে: Jacob Thompson, c/o Maine Medical Center, 22 Bramhall Street, Portland, ME 04102, USA.
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here