তনু হত্যা : পরিবারের ৫ সদস্যকে সিআইডি দফতরে তলব

0
69

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ২০ মাস পর তার পরিবারের ৫ সদস্যকে ঢাকার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দফতরে তলব করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় পরিবারের পাঁচ সদস্য তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হবেন।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, বারবার জিজ্ঞাসাবাদের নামে সময়ক্ষেপণ ও আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। সোমবার কুমিল্লা সিআইডি অফিস থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে, আমি, আমার স্বামী, দুই ছেলে ও তনুর চাচাতো বোন লাইজুকে নিয়ে ঢাকায় সিআইডি অফিসে যেতে। মেয়ে হত্যার বিচারের আশায় যেখানে বলে সেখানেই যাব। তিনি বলেন, আমি শুরুতে যাদের নাম বলেছি, বারবার এক কথাই বলে আসছি।

যাদের ধরতে বলেছি, তাদের ধরলেই সব কিছু খোলাসা হয়ে যাবে। এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ জানান, তনু হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিআইডি কাজ করে যাচ্ছে।

তবে তনুর পরিবারের ঢাকায় যাওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত বছরের ২০ মার্চ রাতে লাশ উদ্ধারের পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছেন কুমিল্লা সিআইডি। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করে প্রতিবেদন দেয়ায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় দেখা দেয়।

শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এমন তথ্যও তারা নিশ্চিত হয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা কিংবা ফলাফল কী এ নিয়ে মুখ খুলছে না সিআইডি।

তাই দীর্ঘ ২০ মাসেও তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় মেয়ে হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে তনুর পরিবারসহ সচেতন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here