তাঁরা জানেন, কিন্তু মানেন না

0
39

কানে হেডফোন অথবা মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে অনেকেই নিশ্চিন্ত মনে রেললাইনে হাঁটেন। পেছন থেকে ট্রেনের ধাক্কায় যে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হতে পারে, তা জেনেও অনেকে পাত্তা দেন না বিষয়টাকে। রেলওয়ে ধারা অনুযায়ী রেললাইনে হাঁটার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাও আছে। কিন্তু এরপরও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু থামছে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে ৪১ জন। আর ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাত বছরে রেললাইনে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৭ জন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা গেছে রাজধানী ঢাকায়।

গতকাল সোম ও আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার ক্রসিংয়ে মোট আট ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১৮ জনকে দেখা যায়, মুঠোফোনে কথা বলছে বা কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ‘যারা এভাবে চলে, তাদের বাধা দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য আমাদের জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। মানুষের নিজস্ব সচেতনতা না এলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব না।’

ঝুঁকি নিয়ে এভাবে হাঁটা প্রসঙ্গে বেশির ভাগ মানুষই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তেজগাঁও ক্রসিংয়ে রফিক নামের একজন দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, তিনি সচেতন থাকবেন। কিন্তু কয়েকজন বলেন, প্রয়োজনেই তাঁরা মুঠোফোনে কথা বলেন। এ ছাড়া ট্রেনের সময়সূচি সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আছে। তাই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা চিন্তা করেন না। আবার রফিকের মতো কেউ কেউ সতর্ক থাকবেন বলেন।

 নাজমুল নামের একজন বললেন, মালিবাগ থেকে হেঁটে প্রতিদিন কারওয়ান বাজারে আসেন। রেললাইন ধরেই হাঁটেন। এ সময় ফোন আসে আবার অনেক সময় হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি এটা ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু একা একা হাঁটতে বোর (বিরক্ত) লাগে। এ জন্য গান শুনি।’

তেজগাঁও রেলস্টেশনের সিপাহি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কানে হেডফোন দিয়ে মানুষ চলাচল করতে দেখলে আমরা তাদের সতর্ক করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেন অনেক নিকটে—এমন অবস্থায় কাউকে ঢিল দিয়ে বা লাঠি দিয়ে সতর্ক করলে উল্টো মন্দ কথা শুনতে হয়, আবার অনেকেই তাদের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখপ্রকাশ করে।’

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই দেশের মানুষের মতো কেউ রেললাইনকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে না। এই দেশের মানুষ নিজেরাই সচেতন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেন দূরে থাকলে আওয়াজ বেশি শোনা যায়। কিন্তু যখন কাছে চলে আসে তখন আওয়াজ কম পাওয়া যায়। আর এ সময় কানে হেডফোন থাকলে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here