দারিদ্র্যতা ও বাল্যবিয়ে কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষাজীবন

0
115

বাল্যবিয়ে ও দারিদ্র্যতার শিকার হয়ে উপজেলায় চলমান জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে ৫৬ শিক্ষার্থী। ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় কার্যত এদের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এবার গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮৪৪ জন পরীক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১৬৪১ জন জেএসসি ও বাকি ২০৩ জন জেডিসি পরীক্ষার্থী। গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় ৫৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন মেয়ে ও ১৬ জন ছেলে। তাদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে জানা গেছে, মেয়েদের প্রায় সবাই বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ায় ফরম পূরণ করা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে তাদের লজ্জা, স্বামীর অনাগ্রহ ও দারিদ্র্যই প্রধানত দায়ী। ছেলেরা মূলত পরিবারের অভাবের কারণে কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। কেউ কেউ নিজ এলাকাতেই আয়-রোজগারে জড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এভাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে ঝড়ে গেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না।

দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, তার বিদ্যালয়ের ২টি মেয়ে বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ায় এবং দারিদ্র্যের কারণে আরো ২টি মেয়ে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে না। এছাড়া ২টি ছেলে পরীক্ষা বাদ দিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে গেছে। জামতলা হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার ও ফাতেমা খাতুন জানায়, ফরম পূরণ করার কয়েক দিন পর তাদের সহপাঠী উর্মি খাতুন ও আকলিমা আক্তারের বিয়ে হয়ে যায়। বর্তমানে তারা স্বামীর বাড়ি আছে। যে কারণে পরীক্ষা দিতে পারছে না। অভাবী হলেও ওরা খুব মেধাবী ছিল। ওদের কারণে আমাদের সবার মন খারাপ। গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয় থেকে এবার ফরম পূরণ করেও ৬টি মেয়ে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জেনেছি এদের প্রত্যেকের বিয়ে হয়ে গেছে।

গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী তানজিলা আক্তার ও যুথি আক্তার জানায়, তানিয়া খাতুন ও রিমি আক্তার নামের তাদের ২ বান্ধবীর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা পরীক্ষা দিতে পারছে না। পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল ওদের।

গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান জানান, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার আগেই অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বাল্যবিয়েসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসির উদ্দিন জানান, আমি এখানে একেবারেই নতুন। বাল্যবিয়ের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। যাদের বাল্যবিয়ের জন্য পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এফিডেভিটের বিয়ে অবৈধ এবং আইনগতভাবে এ বিয়ের কোনো ভিত্তি নেই বলে তিনি জানান।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here