দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ইয়াবা বেচাকেনা হয়

0
62
দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ইয়াবা বেচাকেনা হয়

দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ইয়াবা বেচাকেনা হয়। বছরে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। আজ রোববার সকালে রাজবাড়ী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জানানো হয় এ তথ্য।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। তিনি বলেন, মাদকের সাজা মৃত্যুদণ্ড হতে হবে।

এদিকে সভায় অভিযোগ করা হয়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লি থাকা সত্ত্বেও কোনো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়নি বা মাদকের বড় কোনো চালান জব্দ করা হয়নি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেবেকা খান। এতে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ কামরুন নাহার চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ রাকিব খান, সিভিল সার্জন রহিম বক্স, পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদকের সাজা বাড়ানো উচিত জানিয়ে সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘সম্প্রতি আমি সৌদি আরব গিয়েছিলাম। সেখানে খুনের বদলে খুন ও মাদকের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও মাদকের সাজা মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী আরও বলেন, মাদকের ছোবলে পড়ে দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের সাজা মৃত্যুদণ্ড করার কোনো বিকল্প নেই। ঈদের পর থেকে মাদকের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ইয়াবা বেচাকেনা হয়। বছরে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। শুধু পুলিশ দিয়ে মাদক সমস্যা সমাধান করা যাবে না। মাদক আসার প্রবেশমুখ বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ায় মাদক বিক্রেতারা পালিয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজবাড়ীর ডা. আবুল হোসেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শামীমা আক্তার মুনমুন বলেন, কয়েক মাস আগে বিভাগীয় কমিশনারের ভিডিও কনফারেন্সে জানানো হয়, মাদকের দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে রাজবাড়ী দ্বিতীয় স্থানে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধ ঘোষণার পর সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। কিন্তু রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লি থাকা সত্ত্বেও কোনো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়নি বা মাদকের বড় কোনো চালান জব্দ করা হয়নি।

কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অল্প কিছু ইয়াবা বা অন্য মাদকসহ দু-একজনকে আটক করা হয়। এতে সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকের সঙ্গে যুক্ত রুই-কাতলাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজবাড়ীতে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা না ঘটায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ দেন মানবাধিকারকর্মী আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাজবাড়ীতে এখন পর্যন্ত “বন্দুকযুদ্ধ” হয়নি। এ জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ। আমরা চাই মাদকের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তাদের শাস্তি দেওয়া হোক।’

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ কামরুন নাহার চৌধুরী বলেন, সভায় আলোচিত সব বিষয় রেজুলেশনে ঠিকমতো লেখা হয় না। সবার মতামত সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের কাছে সরাসরি জবাবদিহি চাইতে হবে। বিভিন্ন স্থানের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

সভায় মাদক ছাড়াও ঈদে দৌলতদিয়া ঘাট সচল রাখা, রাজবাড়ীর আঞ্চলিক মহাসড়ক চলাচল উপযোগী করা, বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধ করা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here