ধরা পড়ল চুয়াত্তরে ‘নিনজা’ চোর

0
41

বয়স হলেই কী, পাকা হাত বলে কথা। দে টান—একদম নিখুঁত নিশানা! হাতটানে মিস নেই। কিন্তু চোরের দশ দিন তো সাধুর এক দিন। ধরা তাঁকে পড়তেই হলো। আর গন্তব্য যথারীতি শ্রীঘর। জাপানের ওসাকা অঞ্চলে মিতসুয়াকি তানিগাওয়া নামের চুয়াত্তুরে বুড়োর চৌর্যবৃত্তির কারিকুরি নিয়ে এ খবর।

নাম তাঁর মিতসুয়াকি তানিগাওয়া। আট বছর ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দাঁও মেরে গেছেন তিনি। এত দিনে তাঁকে ধরতে পেরেছে ওসাকার পুলিশ।
স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য, তানিগাওয়া অদ্ভুত কৌশলে চুরি করতেন। পুরো শরীর কালো পোশাকে ঢেকে সাজতেন নিনজা। দেয়াল বেয়ে উঠে তালা ভেঙে ঢুকতেন বাড়ি বা দোকানে। তারপর মালামাল হাতিয়ে ফিরে আসতেন। তবে তিনি দিনের বেলায় চুরি করতেন না। বাড়ি থেকে বেরোতেন আর দশটা সাধারণ বুড়োর মতো। এরপর পরিত্যক্ত কোনো ভবনে গিয়ে কালো পোশাকে নিনজা সেজে বের হতেন অন্ধকারে। বোঝাই যেত না তাঁর উদ্দেশ্য।

কাওয়াচি পুলিশ স্টেশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নিনজার মতো পুরো শরীর কালো পোশাকে ঢেকে রাখতেন তিনি। পুলিশের হাতে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ থাকলেও এতে আপাদমস্তক কালো পর্দায় রাখা একজন দক্ষ চোর দেখা ছাড়া আর কোনো সূত্র ছিল না। গত মে মাসে ওই চোর ধরার মতো একটি সূত্র পেয়ে যায় পুলিশ। চোরের ঘাড় থেকে কাপড় পড়ে যায়। পুলিশের কাছে চোরের চেহারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুলিশ তখন তানিগাওয়ার চেহারা চিনে ফেলে। এর আগেও চুরি করার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ার তথ্য আছে তাঁর। এরপর থেকে পুলিশ তানিগাওয়াকে হাতেনাতে ধরতে নজরদারি শুরু করে ও ফাঁদ পাতে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা দেখেন, চুরি করতে যাওয়ার সময় দিনের বেলা তানিগাওয়া বুড়ো মানুষের মতো বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি পরিত্যক্ত একটি ভবনে গিয়ে অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। অন্ধকার হলে তিনি বের হন। তখন আর তাঁকে চেনার উপায় থাকে না। তাঁর শরীর পুরোপুরি কালো থাকে। এরপর তিনি রাস্তা এড়িয়ে গলি ও দেয়ালের ওপর দিয়ে বের হন।

তানিগাওয়া এতটাই দক্ষ যে পুলিশ তাঁকে সরাসরি চুরির সময় ধরতে পারেননি। একটি ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানে চুরি করে ভোররাত চারটার দিকে ফেরার পর তাঁকে আটক করে পুলিশ। তানিগাওয়া চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন।

তানিগাওয়া বলেন, কাজ করতে পছন্দ করেন না তিনি। এর চেয়ে চুরি করে দ্রুত কাজ সারা যায়—এমন ভাবনা থেকে চুরি শুরু করেন তিনি।

তানিগাওয়ার বিরুদ্ধে ২৫৪টি চুরির অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গত আট বছরে ৩০ মিলিয়ন ইয়েন (জাপানি মুদ্রা) বা বাংলাদেশি টাকায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার মতো হাতিয়েছেন তিনি।

তানিগাওয়া বলেন, মাত্র ১০ মিনিটেই যেকোনো বাড়িতে কাজ সারতে ওস্তাদ তিনি। মানুষ ঘুমিয়ে গেলে তবে তিনি চুরি করতে ঢোকেন। তিনি নগদ অর্থ ছাড়া তেমন কিছু চুরি করেন না।

পুলিশ বলেছে, তানিগাওয়া খুব পাকা চোর। তিনি বলেছেন, তাঁর চুরির ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাস আছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর বয়সটা এখন বড় বাধা। বয়স কম থাকলে পুলিশ তাঁকে কখনেই ধরতে পারত না। বয়স বেশি হয়ে গেছে বলে তিনি আর চুরি করবেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here