নতুন গ্যাসক্ষেত্রের খনন কাজ চলছে ভোলায়

0
174

বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ অবশ্যই। বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জনজীবনের জন্য নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। যে দিগন্তজুড়ে সমৃদ্ধির আলো বাতাস প্রবাহিত হবে। বদলে যাবে অনেক কিছু। গড়ে উঠবে নিত্যনতুন স্থাপনা। আশার তরীও যাবে বেয়ে। এই আশাবাদ হচ্ছে নয়া গ্যাসক্ষেত্র প্রাপ্তি। যাতে ধারণার চেয়ে বেশি গ্যাস রয়েছে। মজুদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন কিউবিক (টিএসএফ)। যাতে রয়েছে তিনস্তরে গ্যাস। যদিও কূপ খননের কাজ শেষ হয়নি এখনও। শুরু হয়নি গ্যাসের উদ্গিরণও। অধিক গ্যাসপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে এই কারণে যে, গ্যাসক্ষেত্রটির পাঁচ হাজার পিএসআইয়ের ওপর চাপ রয়েছে। বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে কূপখনন কাজ চলছে। অদ্যাবধি খনন হয়েছে তিন হাজার পাঁচ শ’ মিটার পর্যন্ত। তিন হাজার তিন শ’র পর থেকে দুই শ’ মিটারের মধ্যে তিনস্তরে রয়েছে মজুদ গ্যাস। দ্বীপাঞ্চল ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টগবি ইউনিয়নে। এর কাছাকাছি রয়েছে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র। সাধারণত একটি গ্যাসক্ষেত্রের আয়তন হয় এক বর্গকিলোমিটার। যেহেতু শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন গ্যাসপ্রাপ্তির স্থান তিন কিলোমিটার দূরে, তাই এটি নতুন ক্ষেত্র। বাপেক্স আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। আরও যাচাই-বাছাই করার পর প্রকৃত মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বাপেক্সের মালিকানাধীন গ্যাসকূপ খনন করছে রাশিয়ার কোম্পানি গ্যাসপ্রম। ভোলার নতুন এলাকায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মাত্রার জরিপ করে বাপেক্স। এখন এখানে গ্যাস পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দেয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গত আগস্টে অনুসন্ধান কূপটির খনন কাজ উদ্বোধন করেন।

ভোলার শাহবাজার ক্ষেত্র থেকে ২০০৯ সালের এগারো মে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স। সেখানে থাকা চারটি কূপের মধ্যে তিনটি থেকে প্রতিদিন প্রায় পঁয়ত্রিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। শাহবাজপুরে পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে বাপেক্সের ধারণা। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বেঙ্গল বেসিন এলাকায়। সেখানে যে ভূ-কাঠামোয় গ্যাস পাওয়া গেছে, তা হচ্ছে ‘স্টোটগ্রাফিক স্ট্রাকচার।’ দেশের অন্যসব গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে সুরমা বেসিনে। এই বেসিনের ভূ-কাঠামোর নাম ‘এ্যান্টি ক্রেইন স্ট্রাকচার।’

ভোলায় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের জন্য প্রথমে দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করা হয় ১৯৮৭ সালে। তাতে গ্যাসের অবস্থান চিহ্নিত করার পর প্রথম অনুসন্ধান কূপটি খনন করা হয় ১৯৯৪ সালে। এরপর আরও তিনটি কূপ খনন করা হয়েছে। কূপগুলো থেকে বর্তমানে দুটি বিদ্যুতকেন্দ্র চলছে। সেখানে আরও বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ত্রিমাত্রিক জরিপ করে দেশের দ্বীপ জেলাটিতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনোকল কোম্পানি এক জরিপের ভিত্তিতে শাহবাজপুরে দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদের সম্ভাবনার কথা বলেছেন, এ জন্য কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া মাঝপথে থমকে গেছে। দেখা গেছে, পেট্রোবাংলা গ্যাসপ্রাপ্তির সম্ভাবনার কথা বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল আগে, তা ছিল অসার। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিহীন। কোন ক্ষেত্রেই কাক্সিক্ষত মাত্রায় সাফল্য মেলেনি। এমনকি ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা এলাকাতেও গ্যাস আর মেলেনি। মূলত গ্যাস বিষয়ে যথাযথ অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, দফতর ঘাটতির কারণে এসব ঘোষণাগুলো বায়বীয়তে পরিণত হয়। দেশে গ্যাসের চাহিদা অফুরন্ত হলেও সেভাবে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২০৮টি কূপ খনন করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৫৩টি অনুসন্ধান কূপ রয়েছে, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া গ্যাসকূপ খনন অযথাই অর্থের অপচয় ঘটাবে। বাংলাদেশের কলকারখানাসহ নানা ক্ষেত্রে গ্যাসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। এই চাহিদা মেটাতে কূপ অনুসন্ধান ও খনন জরুরী। দক্ষতা, অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই এক্ষেত্রে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here