নতুন হ্যামারে আরও গতি পেল পদ্মা সেতু

0
203

দেশবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। এ পর্যন্ত মূল সেতুর ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ডিসেম্বরে পিলারের ওপর আরও ২টি স্প্যান উঠছে। এতে একযোগে দৃশ্যমান হবে ৪৫০ মিটার সেতু। এখন ৩টি হ্যামার পাইল স্থাপনের কাজ করছে। এর আগে ২টি ছিল। শুক্রবার সাড়ে ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার আরেকটি নতুন হ্যামার যুক্ত হয়েছে।

পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয় বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে মানুষের চোখে। ইতিমধ্যে ডানামেলে দাঁড়িয়েছে দুটি পিলারের ওপর ৭এ নম্বর স্প্যানটি। পিলারের ওপর উঠে বসার জন্য সব প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পুরোপুরি প্রস্তুত আরও ৪টি স্প্যান। তার মধ্যে ২টি স্প্যান ডিসেম্বরেই পিলারের ওপর উঠে বসবে।

সে লক্ষ্যে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে আরও চারটি পিলারকে প্রস্তুত করার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন প্রকল্পে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা। ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলার ২টি প্রায় প্রস্তুত। এরপরই ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলার প্রস্তুত হবে। তার ওপরও বসবে আরও ২টি স্প্যান এতে মোট স্প্যান বসবে ৫টি এবং দৃশ্যমান হবে এক কিলোমিটার সেতু। ইতিমধ্যে ৩৭-৩৮ নম্বর পিলারের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছে ৭এ নম্বর স্প্যানটি। যার মাধ্যমে শুভ সূচনা হয় পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান হওয়ার বাস্তবতা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত ছিলেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঐতিহাসিক সেই পদ্মা সেতু বাস্তব দৃশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বিদেশে বসে মোবাইল ভিডিওর মাধ্যমে তা অবলোকন করে আবেগাপ্লুত হয়েছেন। মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করেছেন। পদ্মা সেতুর পিলারের ওপর এবার এক সঙ্গে আরও চারটি স্প্যান বসানোর তোড়জোড় চলছে। এ সময় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। সে অপেক্ষায় পদ্মার দুই তীরের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। লঞ্চে বা ফেরিতে নদী পাড়ি দিতে পদ্মাবক্ষে তাকাতেই চোখ পড়ে যায় পদ্মা সেতুর স্প্যান আর বিশাল কর্মযজ্ঞে। প্রথম স্প্যান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই চলছে আরও স্প্যান বসানোর কাজ। বিশাল বিশাল ক্রেন, আর ভারী ভারী যন্ত্রের ব্যবহারে পদ্মায় চলছে ছন্দের তালে তালে হাইড্রোলিক হ্যামারের হ্যামারিং। এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই আরও ২টি স্প্যান পিলারের ওপর বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলার চারটি নিয়ে মহা-ব্যস্ততায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর  ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান ৭ এ স্থাপন হয়। এখন ৩৮-৩৯-৪০ নম্বর পিলারে বসবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্প্যান। স্প্যানগুলো এখন মাওয়ার কুমারভোগের ওয়ার্কসপে ঘষামাজা চলছে ফাইনাল রং করার জন্য। প্রায় ৩২০০ টন ওজনের স্প্যানটি নিয়ে আসার জন্য নদীর চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে দুটি ড্রেজিং কাজ করছে। ভাসমান ক্রেনটি এখন জাজিরার সিনো হাইডো ঘাটের কাছে নোঙ্গর করা হয়েছে। চ্যানেল চলাচল যোগ্য হলে এটি আসবে ওয়ার্কসপের ঘাটে। পরে ৩৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার এই ভাসমান ক্রেন তুলে নিয়ে বসিয়ে দিবে এই স্প্যান। এ ছাড়া তৃতীয় স্প্যান ৭সি নিয়েও কাজ চলছে। এর পর পরই বসানো হবে তৃতীয় স্প্যানটিও। তাই প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪০ নম্বর পিলার। দ্বিতীয় ধাপের ঢালাই শেষেই এই খাঁচা ৪০ নম্বর পিলারের ওপর বসিয়ে দেওয়া হবে। এরপর হবে ঢালাই। এ ছাড়া ৪১ নম্বর পিলারের পাইলের ভিতরের মাটি সরানো হচ্ছে। এই মাটি সরানো হলেই কংক্রিটিং হবে। ৪২ নম্বরের খুঁটির প্রথম ধাপের ঢালাই হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ধাপের ঢালাইয়ের কাজ চলছে। ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের কাজ শেষ হলে আরও ২টি স্প্যান বসবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই স্প্যানগুলো বসানোর কাজ এগিয়ে চলছে বলে পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। এদিকে, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর এখন নদী শাসনের কাজ চলছে জোরেশোরে। মাওয়া প্রান্তে নদীতে ব্লক ফেলানোর ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নদী শাসনের ট্রায়ালের কাজ চলছে কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটের এলাকায়। ড্রেজিং করছে উচ্চ ক্ষমতার জে ৭ ও জে ৮ নামের দুটি ড্রেজার।   ব্লক ৬ ও ব্লক ১২ এলাকায় চলছে এই ড্রেজিং। নদী শাসনের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই ড্রেজিংয়ের কাজ করছে। আর চ্যানেল ঠিক রাখতে মূল ব্রিজের ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি ড্রেজিং করছে ব্লক ৪ এলাকায়।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here