নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে রামপুর আবাসন প্রকল্প, ঘর বাড়িসহ মৌসুমী ফসল ব্যাপক হ্ময়হ্মতি, আহত ২০

0
17
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে রামপুর আবাসন প্রকল্প, ঘর বাড়িসহ মৌসুমী ফসল ব্যাপক হ্ময়হ্মতি, আহত ২০

কে.এইচ.নজরুল ইসলাম,নরসিংদীঃ

শত বছর ধরে ও কেউ দেখেনি ২ থেকে ৩ কেজি ওজনের শিলা বৃষ্টি।প্রহেলা বৈশাখের  শুরুতেই শিলাবৃষ্টিতে রামপুর আবাসন প্রকল্প, ২শত ঘর -বাড়িসহ মৌসুমী ফসল ব্যাপক হ্ময়হ্মতি,আহত হয়েছে কমপহ্মে ২০ জন।শনিবার(১৪ এপ্রিল)৩ টায় নরসিংদী জেলা মনোহরদী উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে এ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়।দীর্ঘ আদা ঘন্টা কজির কেজি শিলাবৃষ্টিতে ঘর-বাড়ি বোরো ফসল সবজিসহ ব্যাপক হ্ময়হ্মতি হয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার খিদিরপুর, লেবুতলা, চরমান্দালিয়া, কৃষ্ণপুর ও চালাকচর ইউনিয়নে শীলাবৃষ্টিতে বোরো ধান,কলা, আম, জাম, লিচু, পান, কাঁঠাল বিভিন্ন সবজিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।এলাকাবাসী সূত্রে জানাজায়,শত বছরেও ৩ থেকে ৪ কেজি শিলা পড়তে কেউ শুনে- ও-নি দেখে-ও-নি।খিদীরপুর রামপুরের আবাসন প্রকল্পের সাধারন সম্পাদক  আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন,আমাদের আবাসন প্রকল্পের পোরাতন টিন শিলা পড়ে ভেঙ্গে গিয়েছে।আহত হয়েছেন পাশের বাড়ির আশরাফুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২২)।সাগরদী গ্রামের তাজুল ইসলাম বাদল বলেন,আমার থাকার ঘরের টিনের চালে কয়েক কেজি ওজনের শিলা পড়ে মেচে গেছে, ও রান্নাঘর ভেঙ্গে গিয়েছে।এই এলাকার বেশ কয়েকটি ঘর শিলায় ফুটো হয়ে গিয়েছে।আহত হয়েছে কয়েক জন।উপজেলার হ্মতিগস্ত একাধিক গ্রামবাসীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তাদের জীবনে এ ধরণের শিলাবৃষ্টি পড়তে কখনও দেখেনি।এলাকার উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বোরো ফসল,পানের বরজ, লিচু, আমের কুঁড়ি,কাঁঠাল, কলাবাগানসহ বাড়ি ঘরের টিনের চালা ফুটো হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।দুপুর শেষে প্রথমে বাতাস শুরু হয়,পরে তা তীব্র হয় উঠে।হঠাৎ কিছুখন পর`ই শুরু হয় ভারি শিলাবৃষ্টি।এতে করে উপজেলার রামপুর চালাকচরসহ আশপাশ এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে। আহত হয়েছে কমপহ্মে ২০ জন।এদের মধ্যে আহত কয়েক জনকে  উদ্ধার করে মনোহরদী সাস্থ কমপ্লেক্স`য়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন।আহতরা হলেন, লেবুতলা গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী ফিরেজা বেগম(৬০),নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ফুলু মিয়ার মেয়ে নাজমা(২২),লেবুতলা গ্রামের তাজুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪০),বাউলীয়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা বেগম(৫৫) তার ছেলে আসাদ মিয়া(৩২)।চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ি ফিরে যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মনোহরদী উপজেলার লেবুতলা গ্রামে প্রায় ২ কেজি  ওজনের শিলা পাওয়া গেছে।ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বিশেষ করে বোরো ফসলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শহিদ উল্লাহ জানান, মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর, লেবুতলা, চরমান্দালিয়া, কৃষ্ণপুর ও চালাকচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি হয়েছে।এতে করে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন এই ব্যাপক শিলা বৃ্ষ্টিতে ৫ টি ইউনিয়নে ৩৯০০ হেক্টর ফসলী ধানের জমির মধ্যে ১৪৭০ হেক্টর, ২৮০ হেক্টর কলা চাষের মধ্যে ৯০ হেক্টর, ১২০ হেক্টর সবজি ক্ষেতের ৪৯ হেক্টর ও ১৬০ হেক্টর পান বরজের মধ্যে ৩৫ হেক্টর ফসলের  ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here