নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাটা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

0
62
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাটা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নারীদের আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা নিয়ে চলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতাটা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না, নিজেদেরও কাজ করতে হবে, লেখাপড়া শিখতে হবে এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নারীর অধিকার সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর দর্শন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা নারীর অধিকার নারীর অধিকার নিয়ে যতই স্লোগান দিই, যতই বক্তব্য দিই, অধিকার তো আর হেঁটে আসবে না।’ তিনি বলেন, “জাতির পিতা বলতেন, ‘একটা মেয়ে যদি নিজে অর্থ উপার্জন করতে পারে এবং তার হাতে যদি কিছু টাকা থাকে বা আঁচলে যদি কামাই করে ১০ টাকা বেঁধে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে সমাজে-সংসারে এমনিতেই তার অবস্থানটা হবে। কেউ অবহেলা করতে পারবে না।’”

সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটা সমাজে নারী-পুরুষ সবাই মিলে কাজ করতে পারলেই একটা দেশ এগিয়ে যাবে। আর যে লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি, জাতির পিতা আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন তার সুফল প্রতিটা ঘরে পৌঁছাতে হবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখে বড় হবে এবং বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে, তারা যেন সমানভাবে চলতে পারে, সেভাবেই তাদের আমরা গড়ে তুলতে চাই।’

মেয়ের বিয়ের জন্য মা-বাবাকে তাড়াহুড়া না করে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো শিক্ষা প্রদানে মনোনিবেশ করার জন্যও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নারীদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক লেখাপড়া করার ব্যবস্থা, বৃত্তি-উপবৃত্তির শতকরা ৭৫ ভাগ নারীদের জন্য প্রদান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিসহ তাদের জন্য কর্মসংস্থানে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিলেই তাদের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং দায়িত্ব আরো বাড়ে। কিন্তু মেয়েকে যদি লেখাপড়া শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তাহলে সেটাই আমার মনে হয় সমাজ ও পরিবারের জন্য সব থেকে ভালো হয় এবং একটি সুরক্ষার সৃষ্টি করতে পারে। আর বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেলে ছেলের বউ যত না দেখে, তার চেয়ে মেয়েরা বেশি দেখে—এটাও তাদের মনে রাখা উচিত।’ তিনি এও বলেন, ‘মেয়েরাই তো ছেলের বউ হয়, সেটাও তো ঠিক। তাই বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি সবার প্রতিই নারীদের সমানভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত।’

বাংলাদেশের নারীরা এখন পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে বাধা আমাদের নারীদের ছিল সে বাধা অতিক্রম করে তারা এখন এগিয়ে যাচ্ছে।’ রাজনীতি, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, ব্যবসা ও ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের পদচারণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব জায়গায় মেয়েরা কিন্তু তাদের স্থান করে নিয়েছে। একটু সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গেলেই কিন্তু স্থান করা যায়। মেয়েরা যখন কাজ করে, আমি মনে করি খুব ভালোভাবেই কাজ করে। তাদের দক্ষতা অনেক বেশি, কোনো সন্দেহ নেই।’

অনুষ্ঠানে নারীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন জয়িতার হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএন রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর এবং ইউএন রিপ্রেজেন্টেটিভ ইন বাংলাদেশ মিয়া সেপো। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। সূত্র : বাসস।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here