নোবেল চুরির তদন্ত নিয়ে সিবিআইকে আদালতের ভর্ৎসনা

0
65

১৪ বছর পার হয়ে গেলেও রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরির কোনো কিনারা করতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলায় সিবিআইকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত নোবেল উদ্ধারে কোনো সূত্র না মেলায় সিবিআইয়ের আইনজীবীর সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি এদিন মন্তব্য করেন যে, রবীন্দ্রনাথের নোবেল সম্মানের সঙ্গে জাতীয় আবেগ জড়িয়ে আছে, অথচ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জাতীয় সম্পদ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। নোবেল চুরির ঘটনা ‘জাতীয়তা বিরোধী’ ঘটনা বলেও এদিন উল্লেখ করেন তিনি। সিবিআইয়ের আইনজীবী অবশ্য এদিন আদালতে জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন।

কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সূত্রের সন্ধান মেলেনি। বিচারপতিরা এদিন সরাসরি সিবিআইকে বলেছেন, সূত্র খুঁজে না পেলে তদন্ত ছেড়ে দিন। শুনানি শেষে এদিন আদালত সিবিআইকে এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদক চুরির তদন্ত করতে সিবিআই ব্যর্থ হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ঘটনার সিআইডি তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থে মামলা দায়ের হয়েছে গত জুলাই মাসে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ২৫শে মার্চ বিশ্বভারতীর রবীন্দ্র ভবন থেকে নোবেল পদক চুরি যায়। ওই দিনই রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিবিআইয়ের হাতে চুরির তদন্ত ভার তুলে দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে ৩রা সেপ্টেম্বর সিবিআই বোলপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রিপোর্র্ট দাখিল করে জানিয়েছিল, চুরির কিনারা হয়নি। পরের বছর ওই আদালতেই সিবিআই একটি আবেদন করে জানিয়েছিল, তারা আবার তদন্ত করতে চায়। আদালত অনুমতি দিক। ২০১০ সালে ওই অনুমতি পাওয়ার পরও সিবিআইয়ের তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, রাজ্য পুলিশ ওই চুরির তদন্ত করবে। এজন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি সিট গঠন করাও হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকারকে সিবিআইয়ের হাত থেকে তদন্তভার রাজ্যের হাতে তুলে দেয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও কোনো উত্তর আসেনি। জানা গেছে, সিবিআই তাতে রাজি হয়নি। সে কারণেই হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here