নৌকার টিকিট পেতে আওয়ামী লীগেরই চারজন দৌড়ঝাঁপ করছেন।

0
69
নৌকার টিকিট পেতে আওয়ামী লীগেরই চারজন দৌড়ঝাঁপ করছেন।

২০০৮ সালে বিপুল ভোটে জেতা আকরাম হোসেন চৌধুরী জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ মূলত দুটি। সাংসদ হওয়ার পর বদলগাছি উপজেলা শহরের ছোট যমুনা নদীর পাড়ে একটি ব্যক্তিমালিকানার জমি দখল করেন তিনি। সেখানে কেন্দ্রীয় সমবায় হাটবাজার স্থাপনের নামে সরকারি টিআর-কাবিখা প্রকল্প থেকে বরাদ্দ আসে। ওই বরাদ্দের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট করা হয়।তবে ভরাট করা জায়গায় এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনা উঠেছে। এখনো কেন্দ্রীয় সমবায় হাটবাজার আলোর মুখ দেখেনি। এ জন্য বেশ সমালোচিত হন তিনি।

স্ত্রী মায়া চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেও সমালোচিত হন আকরাম হোসেন। অভিযোগ আছে, মায়া চৌধুরী নিয়োগ-বাণিজ্য করেন। এলাকায় ছায়া সাংসদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ জন্য এলাকার মানুষ তাঁকে বলেন ‘বিন্দুমাসি’। বিন্দুমাসি কলকাতার একটি বাংলা ছবির খল চরিত্র।

এসব সমালোচনায় কান দিচ্ছেন না আকরাম চৌধুরী। গত দুবারের মতো এবারও দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। বর্তমানে তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে আছেন। আকরাম চৌধুরী বলেন, দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে। স্ত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী আমার মতোই দলীয় নেতা-কর্মীবান্ধব। যাঁরা যড়যন্ত্র করে আমাকে নির্বাচনে হারিয়েছিলেন, তাঁরাই আমার স্ত্রীর নামে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছিলেন। এই পাঁচ বছর তো আমি সাংসদ নই। আমার স্ত্রীর তো আর কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নই ওঠে না। তাহলে দুটি উপজেলায় দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ-বাণিজ্য করল কারা?’

২০১৪ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন আকরাম হোসেন। আর মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ছলিমউদ্দিন তরফদার। তাঁর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আকরাম। ছলিমউদ্দিনকে তখন দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তাঁকে আওয়ামী লীগ ফিরিয়ে নেয়।

সাংসদ ছলিমউদ্দিন তরফদার এলাকায় পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে ছলিমউদ্দিনও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা ও নিয়োগ-বাণিজ্যের পাশাপাশি দুর্নীতির টাকায় নওগাঁ শহরে প্রাসাদসম বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সাংসদ ছলিমউদ্দিন মনে করেন, এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা সবাই তাঁর সঙ্গে আছেন। আগামী নির্বাচনে দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে। অভিযোগের বিষয়ে ছলিমউদ্দিন তরফদার বলেন, ‘সাবেক সাংসদ আকরাম হোসেন নিয়োগ-বাণিজ্য করেছেন। আমি তাঁর মতো নিয়োগ-বাণিজ্য করিনি। আমার স্ত্রী-সন্তানদের কেউ চেনে না। আকরাম চৌধুরীর স্ত্রীকে সবাই চিনতেন। কী কারণে চিনতেন, তা এলাকার শিশুও জানে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নওগাঁ শহরে বাড়ি করছি, এটা সত্য। ১৯৯৩ সালে জমিটি কিনেছিলাম। একটি আবাসন প্রতিষ্ঠান ওই জমিতে বাড়ি করে দিয়েছে।’

বর্তমান ও সাবেক সাংসদের মধ্যে ভেতরে-ভেতরে বিরোধ আছে। এ সুযোগে মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন আরও দুজন। সাবেক সচিব এনামুল কবীর ও পদ্মা বহুমুখী সেতুর আবাসিক প্রকৌশলী ডি এম মাহবুবউল মান্নাফ। এনামুল কবীর বলেন, আকরাম চৌধুরী ও ছলিমউদ্দিন জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। দলীয় নেতা-কর্মীরা এখন নতুন মুখ দেখতে চান। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

 বিএনপিতে কোন্দল

এখানে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনে জিতে সাংসদ হন বিএনপির আখতার হামিদ সিদ্দিকী। ২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হন। এ কারণে এটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। সেই ভিআইপি প্রার্থীই ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধরাশায়ী হন। তখন জেতেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মানবাধিকারকর্মী আকরাম হোসেন চৌধুরী।

আখতার হামিদ সিদ্দিকী গত বছরের নভেম্বরে মারা যান। এরপর থেকে এখানে নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটছে। বদলগাছি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা, জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আলম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা এ কে এম শফিকুল ইসলাম এবং প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী আছেন এ তালিকায়।

বদলগাছি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বলেন, ‘আমি দলের দুর্দিনে হাল ধরেছি। কাজেই দল আমাকে মনোনয়ন দেবে, এটা বিশ্বাস করি।’ ফজলে হুদার মনোনয়ন পাওয়াটা অনেকটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁকে রাজনীতির মাঠে চ্যালেঞ্জ করছেন অন্তত তিনজন। পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, রবিউল আলম ও এ কে এম শফিকুল ইসলাম। তাঁরা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় আছেন।

এ ছাড়াজাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি আইনজীবী তোফাজ্জল হোসেন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি ওয়াজেদ আলী এ আসনে নির্বাচন করতে চান। জামায়াত বা ধর্মভিত্তিক অন্যান্য দলের তেমন তৎপরতা নেই।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here