পাহাড় ধস এবং তার প্রতিকার

0
105

সম্প্রতি পাহাড়ী এলাকায় একটানা অতি বৃষ্টিতে ব্যাপকভাবে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৫৩ জনের অধিক মানুষের জীবনহানি ঘটেছে। ব্যাপক পাহাড় ধসের কারন কি ও এর প্রতিকারই বা কি, এটা এখন সবার জিজ্ঞাস্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি উজাড় , অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, পরিকল্পিত বনায়ন না করা, রাস্তা করার ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ ও বিজ্ঞান সম্মত ড্রেন/ নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রাখা, যত্রতত্র পাহাড় কেটে বাসস্থান নির্মাণ, আবহাওয়া/জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার দেখা দিচ্ছে। এছাড়া, অতি বৃষ্টি ও ভূমি ক্ষয়ের কারণে পলি জমে প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্ট ছড়া, নালা, খাল-নদী ভরাট হওয়ার প্রেক্ষিতে পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকা, বেলে প্রকৃতির পাহাড়ে বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকায় দীর্ঘ সময় একটানা অতি বৃষ্টির ফলে পানি ভিতরে প্রবেশ করার কারণে ন্যাড়া পাহাড়ের স্থিতিস্থাপকতা/স্থিতিশীলতা যেমন একদিকে বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সহজেই পাহাড়গুলো ভঙ্গুর হচ্ছে। এছাড়া, বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট প্রচন্ড শব্দ তরঙ্গকে লাঘব (Minimize) করার জন্য পর্যাপ্ত গাছ-পালা না থাকায় শব্দ তরঙ্গ সরাসরি ন্যাড়া পাহাড়ে আঘাত হেনে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। পাহাড়ে দশ বছরের অধিক সময় বসবাসের ফলে শব্দ তরঙ্গের কারণে পাহাড়-কম্পন প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। কাজেই, পাহাড় কম্পনের অভিজ্ঞতা যাদের নেই, তাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ারই কথা। উঁচু ভবনের পাশ দিয়ে কোন যুদ্ধ বিমান উড়ে গেলে যেমন শব্দ তরঙ্গের কারনে ভবনের জানালার গ্লাস প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে ভেঙ্গে/ফেটে যায় এমনটাই বৃষ্টির পানি জমে ভঙ্গুর প্রবণ পাহাড়গুলোতে ঘটেছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাহাড়গুলো দেখতে অনেকটা খড়ের গাদার মত। অতি বৃষ্টির পর দেখা যায় খড়ের গাদার ভেতরে কোনরূপ ভেজে না, ভিতরে একেবারে শুকনা থাকে। খড়ের গাদা ঢালু (Slopy) হওয়ার কারণে কোন পানি দাঁড়াতে পারে না। এজন্য, ভিতরে পানি প্রবেশ করতে পারে না। অনুরূপভাবে পাহাড়ে বৃষ্টির পানি নেমে যেতে পারলে পাহাড়ের ভেতরে পানি প্রবেশ করতে পারতো না। বেলে মাটির পাহাড় এত নড়বড়েও হতো না। অতি বজ্রপাতের শব্দ তরঙ্গের কারণে পাহাড়গুলোর ধসের ঘটনাও ঘটত না। উল্লেখ্য, যেসব পাহাড়ে গভীর মূলি ও মাটি ধারণক্ষম শিকড় বিশিষ্ট গাছ যেমন তাল, খেজুর, নারিকেল, গর্জন, গামারী, সেগুন, চাপালিশ আছে সেসব পাহাড়ে কোন ভূমি ক্ষয় ঘটে নাই। বড় ঝাঁকড়াযুক্ত (Canopy) গভীর মূলী গাছ একদিকে যেমন শক্তিশালী শব্দ তরঙ্গকে পাতা-ডালপালার মাধ্যমে শুষে নিচ্ছে, অন্যদিকে ভবনের ছাদে লোহার রডের ফেব্রিকেশনের মতো শিকড়গুলো মাটির বুনটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ধস থেকে পাহাড়কে রক্ষা করে। এ বিষয়টি বোঝার জন্য বড় বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজেই, পাহাড় ধস হতে পারিত্রাণ পাওয়ার জন্য ন্যাড়া পাহাড়গুলোতে ব্যাপকভাবে বড় ঝাঁকড়াযুক্ত (Canopy) এবং গভীর মূলী গাছ দিয়ে ফল বাগান ও বনায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা, এতে পরিবেশ রক্ষাও হবে এবং পুষ্টিকর খাদ্যের যোগানও পাওয়া যাবে। এর ফলে পাহাড়ে বসবাসরত জনগণ জীবনহানি থেকে রক্ষা পাবে এবং তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ঘটবে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে নি:সন্দেহে।

মো: নূরুল ইসলাম
উপ প্রকল্প পরিচালক
বছরব্যপিী ফল .. প্রকল্প
খামারবাড়ি, ঢাকা
০১৭১৫৬২৪৭২৬
Email : nurul7699@yahoo.com

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here