প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি কি?

0
326

প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারি বিশ্বের ১৮০টি দেশের রাজনীতিক, সেলিব্রিটি ও বিত্তশালী মানুষের অর্থনৈতিক লেনদেন ও মালিকানা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের এক বিশাল ডাটাবেস। যারা কর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেনে (কর দিতে হয় না কিংবা খুবই নিম্ন হারে কর দেওয়া যায় এমন দেশ) বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

ডাটাবেসের ১৩.৪ মিলিয়ন গোপন নথির প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন এসেছে অফশোর আইনি সেবা সংস্থা অ্যাপলবাই এবং কর্পোরেট সেবা সংস্থা এস্টেরা থেকে। গত বছর এস্টেরা আলাদা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দু’টি একসঙ্গে অ্যাপলবাই (সারা বিশ্বে ১০ করপোরেট অফিস রয়েছে) নামে কর্মকাণ্ড চালাত।

অবশিষ্ট গোপন নথির তথ্য এসেছে ১৯৫০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ১৭টি ‘ট্যাক্স হেভেন’ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে। এর বেশিরভাগই ক্যারিবিয়ান এবং আটলান্টিন দীপপুঞ্জ- অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অরুবা, বাহামা, বার্বাডোস, বারমুডা, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, লাবুয়ান, লেবানন, মাল্টা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট, সামোয়া, ত্রিনিদাদ এবং টোবাগো এবং ভানুয়াতু।

গত বছরের ৩ এপ্রিল পানামা পেপার্স ফাঁস হওয়ার দেঢ় বছর পার হওয়ার আগে নতুন এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে সারা বিশ্বে। পানামা পেপারসের মতো এবারও এসব নথি প্রথমে জার্মান দৈনিক সুইডয়চে জাইটংয়ের হাতে আসে। তবে সূত্রের নাম প্রকাশ করেনি গণমাধ্যমটি। পরে সেসব নথি তারা শেয়ার করে বিশ্বের ৯৬টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার সমন্বয়কারী মার্কিনভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) সঙ্গে। বারমুডায় অবস্থিত অ্যাপলবাই নামের এক আইনি সহযোগী সংঘটনের গোপন নথি এসব।

যার মধ্যে ১৩.৪ মিলিয়ন ডকুমেন্টস এখন তদন্ত করে দেখছে ৬৭টি দেশের ৩৮১ জন সাংবাদিক।

সবচেয়ে বেশি নাম যুক্তরাষ্ট্রের
অ্যাপলবাইয়ের সদর দপ্তর বারমুডায়। আইনি সেবা এই সংস্থাটি থেকে ফাঁস হওয়া গোপন নথিগুলো ধারণ করা হয় ১৯৯৩ থেকে ২০১৪ সালের সময়কালের। এই কোম্পানি বিদেশের বিচারব্যবস্থায় কম বা শূন্য করহারে কাজ করতে তাদের গ্রাহকদের সাহায্য করে থাকে। বর্তমানে এটি হয়ে উঠেছে অফশোর আইনি সেবা দানকারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় দশ প্রতিষ্ঠানের একটি। এখান থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ফাঁস হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্লায়েন্ট যুক্তরাষ্ট্রের (৩১১৮০) ঠিকানায়। দ্বিতীয় যুক্তরাজ্যের (১৪,৪৩৪) ও তৃতীয় বারমুডার (১২,০১৭)।

রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা
প্যারাডাইস পেপারসে বিশ্বের কমপক্ষে ৪৭টি দেশের ১২৭ জন রাজনীতিক এবং সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দলিল রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান।

নথি ফাঁসে সবচেয়ে বৃহত্তম
গত বছরের এপ্রিলে ফাঁস হওয়া পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে নথির সংখ্যা ছিল ১১.৫ মিলিয়ন। এদিক দিয়ে প্যারাডাইস পেপার্সের আকার বড়। কেননা এতে নথি আছে ১৩.৪ লাখের বেশি। কিন্তু ডাটাবেসের আকারের হিসেবে প্যারাডাইস পেপারসের (১৪০০ গিগাবাইট) তুলনায় পানামা পেপারস (২৬০০ গিগাবাইট) অনেক বড়।

সূত্র: ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান ও জিও টিভি।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here