প্রতারণার মামলায় জামিন পেল ক্রেস্ট সরবরাহকারী ২ আসামি

0
108

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের দেওয়া সম্মাননা ক্রেস্টে সোনা কম দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ধার্য তারিখের এক দিন আগে ক্রেস্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দুজন আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন দুই আসামি ক্রেস্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমিকনের মালিক মীর দাউদ আহমেদ ওরফে নাজিম এবং শান্তিনগরের মেসার্স মহসিনুল হাসানের মালিক মো. মোহসিনুল হাসান। মহানগর হাকিম মো. নুর নবী একজন স্থায়ী জামিনদার ও আইনজীবীর জিম্মায় ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার উপপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, এই মামলার দুই আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। জামিনে থাকা অবস্থায় আদালতে গরহাজির থাকায় চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ জারি হয়। আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। তাই তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হোক।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। তাই জামিন পেতে পারেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বিদেশি বন্ধু ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা হিসেবে দেওয়া ক্রেস্টে নির্ধারিত পরিমাণে সোনা না দেওয়ায় সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১০ জুন প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এনায়েতউল্লাহ খান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন। এতে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমিকনের মালিক মীর দাউদ আহমেদ ওরফে নাজিম ও শান্তিনগরের মেসার্স মহসিনুল হাসানের মালিক মো. মোহসিনুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কার্যাদেশ অনুযায়ী, ক্রেস্টে ২২ দশমিক ৫ গ্রাম সোনা ও ৩০ ভরি রুপা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল৷ ঠিকাদার মীর দাউদ আহমেদ পাঁচ পর্বে মোট ২৮৫টি ক্রেস্ট সরবরাহ করেন৷ কিন্তু তিনি জালিয়াতি, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম সোনা ও রুপা এবং কম মূল্যের অন্য ধাতু দিয়ে নিম্নমানের ক্রেস্ট তৈরি ও সরবরাহ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশ ও বিদেশে সরকার, রাষ্ট্র ও জাতির সুনাম এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন²করেছেন।
মামলায় একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ঠিকাদার মো. মোহসিনুল হাসানের বিরুদ্ধে। তিনি ৬০টি ক্রেস্ট সরবরাহ করেন৷

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here