প্রতিবছর ১ কোটি ৩৩ লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে কিডনি রোগে

0
145

কিডনি রোগ এখন বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা। একুইট কিডনি ইনজুরিতে (একেআই) প্রতিবছর ১ কোটি ৩৩ লাখ লোক আক্রান্ত হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে এর পরিমাণ ১ কোটি ১৩ লাখ।

এর মধ্যে বছরে ১৭ লাখ মারা যায়। বাংলাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়।

শনিবার কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ১৩ম জাতীয় সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান ও যুক্তরাজ্যের রয়াল লন্ডন হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. স্ট্যানলি ফ্যান।

অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ক্রনিক কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। এজন্য যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতা জরুরি। কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

তিনি বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত লবণ পরিত্যাগ করা এবং হরহামেশা ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা।

ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় ও ভেজাল খাবারসহ ধূমপান বর্জন করা জরুরি। বছরে অন্তত একবার কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেন তিনি। সেমিনারে বক্তারা জানান, ডায়াবেটিসের কারণে ৪০ শতাংশ ও উচ্চরক্তচাপের কারণে ২০ শতাংশ এবং ক্রনিক নেফ্রাইটিসের কারণে ২০-৩০ শতাংশ রোগী কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে ৮০ লাখ লোক ডায়াবেটিসে এবং ২ কোটি লোক উচ্চরক্তচাপে ভুগছে।

কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল- প্রথমদিকে এর কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যখন উপসর্গ ধরা পড়ে ততক্ষণে কিডনির প্রায় ৭৫ ভাগই বিকল হয়ে পড়ে।

অথচ জনসাধারণকে সচেতন করা গেলে এবং শুরুতে শনাক্ত করা সম্ভব হলে এ রোগ প্রতিরোধ অনেকাংশেই সম্ভব। এ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও নেপালের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

কিডনি রোগ শনাক্তে হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা, কিডনি ফেইলর হলে হেমো ডায়ালাইসিস, ঘরে বসে ডায়ালাইসিস (সিএপিডি), এভি ফিস্টুলা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আজ ও আগামীকাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিনশ’র মতো বাংলাদেশি চিকিৎসক অংশ নেবেন।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here