প্রায় ২২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায়

0
66
প্রায় ২২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায়

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে ৪৪ কিলোমিটার সড়ক পুনর্মেরামত প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায়। অথচ সেই সড়ক এখন ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করার দরপত্র ডাকা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নষ্ট করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বৈরাগীরপুল থেকে নেহালগঞ্জ-চন্দ্রমোহন-টুমচর-কালিশুরী হয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী সড়কটি ৪৪.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে পটুয়াখালী অংশে ১৫.৫০ কিলোমিটার। এই অংশটি কয়েক বছর আগে তৈরি করা হয়েছে। এটি সংস্কারের নামে বাউফল সদর থেকে চন্দ্রপাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সিলকোট করা হবে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা ওই স্থানে ঠিকাদার কাজ করেছে। কয়েকটি জায়গায় পিচ-পাথরের প্রলেপ দিয়ে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার টাকার কাজ শেষ করেছে। সিলকোট করার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে গর্ত। যেসব স্থানে ঢালাই করা হয়েছে, কাজ শেষ করার দুই-তিন দিন পর কোথাও কোথাও তা উঠে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত স্থানে দুই লাখ টাকার কাজও করা হয়নি।

চন্দ্রপাড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই সড়কটি পুনর্মেরামতের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু হবে। অথচ সংস্কারের জন্য পুরো রাস্তা না করে পাঁচ কিলোমিটার করার কোনো মানে হয় না। কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ইটের খোয়া ফেলে পাথর-পিচের ঢালাই দিলেই হতো। তাতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় হতো। এখন হয়তো লাখ লাখ টাকার সংস্কার বাস্তবায়ন দেখানো হচ্ছে। অথচ অনেক স্থানে এখনো গর্ত রয়ে গেছে, এমনকি ঢালাইও উঠে গেছে। এ ছাড়া অল্প কয়েক দিন পরই এ রাস্তা ভেঙে নতুনভাবে করা হবে। এটা উন্নয়ন, না স্রেফ লুটপাট?’ প্রায় একই ধরনের অভিমত ব্যক্তি করেন স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা।

সওজ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ২০১৬ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী অংশের ১৫ কিলোমিটার সড়ক এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ) আওতায় ছিল। এই সড়কের উন্নয়নকাজ একসঙ্গে হয়েছিল।

২০১৭ সালে সড়কটি সওজের আওতায় আসে। এরপর সড়ক সংস্কারের নামে অর্থ লুটপাটের জন্য পটুয়াখালী সওজের সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় হয়। তারা কয়েক কোটি টাকার দরপত্র ডাকার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সড়কটি পুনর্মেরামত করা হবে, এ কারণে সওজের আওতায় নেওয়া হয়। ডিপিপির পর এই মুহূর্তে অধিক ব্যয়ে সংস্কার করা সরকারের টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ ওই সড়কে কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করে না। বর্তমানে যতটুকু সংস্কার হয়েছে এর বেশির ভাগ টাকা লুটপাট হচ্ছে।

এ ছাড়া ডিপিপি অনুমোদন হওয়ার পরপর দরপত্রের মাধ্যমে সড়কটি পুনর্মেরামত করা হবে। এতে পুরো রাস্তা ভেঙে নতুন করা হবে। এর ফলে সংস্কারের নামে টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। এদিকে পাঁচ কিলোমিটার সংস্কারকাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ডিপিপি হয়েছে, এখন অনুমোদন কবে হবে সেটা সময়ের ব্যাপার। পটুয়াখালী জুরিসডিকশনের মধ্যে ওই সড়কের অংশটুকু সচল রাখতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ আরো কম টাকায় সংস্কার করা যেত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন হয়তো লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে কাজ না করার অভিযোগ করত।’

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here