বড় নদীতেও নিয়ম লঙ্ঘন করে স্পিডবোট ও ছোট ট্রলার চলাচল করছে

0
46
বড় নদীতেও নিয়ম লঙ্ঘন করে স্পিডবোট ও ছোট ট্রলার চলাচল করছে

কীর্তনখোলা, মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার মতো বড় নদীতেও নিয়ম লঙ্ঘন করে স্পিডবোট ও ছোট ট্রলার চলাচল করছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকলেও এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

১৫ মার্চ থেকে খারাপ আবহাওয়ার মৌসুম শুরু হচ্ছে। অথচ বরিশাল, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের বড় নদীগুলোতে এসব নৌযানের চলাচল বন্ধে এখন পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
৭ ও ৮ মার্চ মেঘনা, কীর্তনখোলা ও তেঁতুলিয়া নদী ঘুরে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়াভাবে এ ধরনের প্রচুরসংখ্যক নৌযান চলতে দেখা যায়। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী বড় নদীতে ২০ মিটারের নিচের লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ। ট্রলার চলাচল আরও বিপজ্জনক। কিন্তু বরিশাল নদীবন্দরের ডিসি ঘাট, ভোলার ভাদুরিয়া ঘাট ও ইলিশা ঘাট এবং লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাটে এবং নদীতে প্রচুরসংখ্যক ছোট লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট দেখা যায়।

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১০ হাজার লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করছে, যেগুলো দৈর্ঘ্যে ২০ মিটারের নিচে। এগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক চলাচল করছে বরিশাল, ভোলা ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য এলাকার নদীতে। ১৬ অশ্বশক্তির নিচের নৌযানের নিবন্ধন লাগে না বলে এগুলোর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

৭ মার্চ বিকেলে বরিশাল নদীবন্দর ও আশপাশের এলাকায় তীরে ভেড়ানো অবস্থায় দেখা যায় দুই শতাধিক যাত্রীবাহী ট্রলার ও ছোট লঞ্চ। পরদিন ৮ মার্চ সকাল আটটার দিকে বরিশাল ডিসি ঘাট পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৫০টি স্পিডবোট ঠাসাঠাসি করে ভেড়ানো। এখান থেকে ভোলার ভাদুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যাতায়াত করে প্রতিদিন ৭০টির মতো স্পিডবোট।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী একটি স্পিডবোট আটজনের বেশি যাত্রী ওঠাতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনোটি ১২-১৩ জন যাত্রীও নিচ্ছিল। সেখানে বিআইডব্লিউটিএ বা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

একটি স্পিডবোটে এই প্রতিবেদকসহ ১০ জন যাত্রী ওঠেন। ডেকে আরও একজন যাত্রী ওঠানো হলো। ছিলেন একজন হেলপারও। রবিউল নামের এক যাত্রী আপত্তি জানাতেই স্পিডবোটটির চালক আলতাফ বলেন, কোনো ভয় নেই। কীর্তনখোলা, লাহার হাট খাল হয়ে ঝড়ের বেগে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিল বোটটি। একজন যাত্রী আস্তে চালাতে বললে আলতাফ বলেন, ‘স্পিডবোট স্পিডেই চলার নিয়ম।’ নিয়মিত যাত্রী জাহেদুল ফেরদৌস জানান, মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। গত সেপ্টেম্বর মাসে স্পিডবোট উল্টে একজন চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের চারজন মারা যান। ভাদুরিয়া পৌঁছানোর পরও স্পিডবোটগুলোতে একইভাবে যাত্রী নিতে দেখা যায়। ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে বরিশাল, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের ছোট-বড় অনেক লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছিল। সামান্য দক্ষিণে আরও একটি ঘাট দেখা যায়, এটির নাম লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাট। এখান থেকে যাচ্ছে ট্রলার ও স্পিডবোট। মাইকে যাত্রীদের ডাকা হচ্ছিল। সেখানে দেখা গেল, ইঞ্জিনচালিত অনেকগুলো ছইনৌকা (ছোট ট্রলার) আর স্পিডবোট। ট্রলারে ভালোভাবে বসলে ৩০ জনের বেশি যাত্রী বসা সম্ভব নয়। কিন্তু ওঠানো হচ্ছিল শতাধিক। একটি ট্রলারের চালক মফিজুর রহমানের কাছে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জবাব দেন, আরও ৫০ যাত্রী উঠলেও সমস্যা হবে না।

ওই সময় দুটি স্পিডবোট ছাড়ল। নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী নেওয়া হয়েছে। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি বোটই ফিরে আসে। বেশি ওজন হওয়ায় মাঝনদীতে থেমে গিয়েছিল। ফিরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে দুই চালকই বলেন, সব যাত্রী মোটা। চিকন যাত্রী নিতে হবে। এরপর দুজন করে যাত্রী কমানো হলো।

মেঘনা নদীর ওপারে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাট। ইলিশা ঘাট ও মজু চৌধুরী হাটের ইজারা পেয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন সদস্য ও লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ সদস্য মো. আলমগীর। তিনি কয়েকটি নৌযানের মালিকও। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বড় নদীতে ছোট নৌযান বেপরোয়াভাবে চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৫ মার্চের পর স্পিডবোট চলবে না। তবে ট্রলার চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. নাসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, খারাপ আবহাওয়ার মৌসুমে ছোট নৌযান চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
লক্ষ্মীপুর ও পুরো বরিশাল বিভাগে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মাত্র একজন পরিদর্শক রয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএর একজনও নেই। ফলে নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলা এসব নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো জনবলও নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here