বাংলাদেশের ৮ হাসপাতালে পরমাণু চিকিৎসাসেবা চালু হচ্ছে

0
62
দেশের আটটি হাসপাতালে স্থাপিত হচ্ছে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস)। এর মাধ্যমে জনগণের আরও কাছে পৌঁছবে পরমাণু চিকিৎসাসেবা। থাইরয়েড, কিডনি, লিভার ও বোন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রসার ঘটবে।
দেশে পরমাণু চিকিৎসা সেবার প্রধান অভিভাবক বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। হাসপাতালগুলোতে ইনমাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ সেবা দেয়া হয়। বর্তমানে ১৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরমাণু চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। এর বাইরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (নিনমাস) প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। কিন্তু এগুলোতে রোগীর সংখ্যার তুলনায় নিনমাস ও ইনমাসগুলোর সংখ্যা খুবই কম। একটি রোগ নির্ণয়ের জন্য অনেক চিকিৎসাপ্রার্থীকে ১৫ দিন থেকে দুই মাসও অপেক্ষা করতে হয়।
এই অবস্থায় নতুন করে আটটি হাসপাতালে ইনমাস প্রতিষ্ঠায় ৫৮২ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রাক্কলন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং ওই সময় থেকেই এগুলো থেকে চিকিৎসা পাবেন জনগণ। এগুলো বাস্তবায়িত হলে পরমাণু চিকিৎসা প্রদানকারী হাসপাতালের সংখ্যা দাড়াবে ২৩টিতে।
প্রস্তাবিত আটটি ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপিত হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শের-এ-বাংলা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ এবং পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণায়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পরমাণু চিকিৎসাসেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন ইনমাস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ইনমাস স্থাপনের ফলে স্থানীয় জনগণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাইরয়েড, কিডনি, লিভার ও বোন ক্যানসারসহ অনেক জটিল ও কঠিন রোগের নির্ণয়সেবা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রকল্প বর্ণনা অনুযায়ী, নতুন ইনমাসগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এগুলোতে থাকবে পেট-সিটি, স্পেক্ট-সিটি, স্পেক্ট, বিএমডি, রেডিও ইমিওনাসি আপটেক সিস্টেম, কালার ডপলার মেশিন। স্বয়ংক্রিয় গ্যামা কাউন্টার, থাইরয়েড ক্যামেরা, থাইরয়েড আটেক সিস্টেমের মত আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার দেশের সব বড় হাসপাতাল এবং ৬৪ জেলা হাসপাতালে পরমাণু চিকিৎসাসেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই আটটি ইনমাস স্থাপনের পর নোয়াখালী, রাঙামাটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর এবং পটুয়াখালীর হাসপাতালগুলোতে ইনমাস স্থাপন করা হবে। তবে এ সেবা চালু করার ক্ষেত্রে বড় বাধা দক্ষ জনবল। এ জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতেও মনোযোগ দেয়া হয়েছে।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here