মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল : ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি

0
68

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও তাদের নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর ফলে দেশের ভিতরে ও সীমান্ত অতিক্রম করে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল নেমেছে। এর ফলে প্রতিবেশী বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে এক মানবিক সঙ্কট। অর্ধ শতাব্দী ধরে কর্তৃত্ববাদী সামরিক জান্তার শাসনের পর সম্প্রতি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমারে শাসন ব্যবস্থায় কিছুটা অর্জন হয়েছে। ভঙ্গুর এই ক্ষমতার পালাবদল বা অর্জনকে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন খর্ব করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটি অন ফরেন রিলেশন্স-এ দেয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক ব্যুরোর উপ সহকারী মন্ত্রী ডব্লিউ প্যাট্রিক মারফি ও জনস্যখ্যা, শরণার্থী, অভিবাসন বিষয়ক উপ সহকারী মন্ত্রী মার্ক স্টোরেলা।

ওয়াশিংটন ডিসিতে তারা ২৪ শে অক্টোবর কমিটির কাছে দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে। এতে তারা তুলে ধরেছেন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা, এক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা, রাখাইন সঙ্কটে মানবিক চ্যালেঞ্জ, দীর্ঘ মেয়াদি চ্যালেঞ্জসহ অনেক বিষয়। কমিটির চেয়ারম্যান করকার, র‌্যাংকিং সদস্য কার্ডিন সহ উপস্থিত অন্যদের উদ্দেশে তারা বলেন, রাখাইনে ভয়াবহ মানবিক ট্রাজেডি চলছে। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। এর আগে তারা ৫ই অক্টোবর এই কমিটিতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্যাট্রিক মারফি ও মার্ক স্টোরেলা বলেন, এখনও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত আছে। রাখাইনে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট পাচ্ছিই আমরা। এর মধ্যে রয়েছে অগ্নিসংযোগ, শারীরিক ক্ষতি করার হুমকি। সুনাম আছে এমন আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বলছে, নতুন স্যাটেলাইন ইমেজে দেখা গেছে প্রায় ৩০০ গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে ২৫ শে আগস্টের পর। রাখাইনে মোট প্রায় ৪৭০টি মুসলিম গ্রাম আছে। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি এভাবে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছেন তার হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমরা দেখেছি। তারা তাদের সহায় সম্পত্তি সব হারিয়েছেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। তারা চরম অনিরাপদ, আতঙ্কগ্রস্ত। তাদের মর্যাদাহানী করা হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে। তাই তারা দেশ ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এখনও কিছু রোহিঙ্গা আসছেন। তার অর্থ হলো এখনও রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত হয় নি। এ অবস্থায় ১২ই অক্টোবর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এ সঙ্কট নিয়ে দ্বিতীয় দফা সরকারের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি রাখাইনে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তা হলোÑ ১. যারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছেন তাদেরকে ফেরত নেয়া হবে এবং কার্যকর মানবিক সহায়তা দেয়া হবে। ২. বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন করা হবে এবং ৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা হবে। শান্তি স্থাপন করা হবে। বিশ্বব্যাংকের সমর্থনে এসব লক্ষ্য পূরণের জন্য মিয়ানমার তহবিল সৃষ্টির একটি মেকানিজম সৃষ্টি করেছে। রাখাইনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই মেকানিজম বাস্তবায়ন করবে মিয়ানমার। এ উদ্যোগে সভাপতিত্ব করবেন অং সান সুচি। কিন্তু বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মানবিক ও মিডিয়ার প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত। এ সময়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। ওই রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতার কথা তুলে ধরেন প্যাট্রিক মারফি ও মার্ক স্টোরেলা। তারা ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) চালানো হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here