বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা চাইবে

0
76
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ।
ঢাকায় চলমান কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলনে আগামী ৫ নভেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন।
তিনি সিপিওভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবহিত করে সহযোগিতা চাইবেন।
শুক্রবার সিপিএ নির্বাহী কমিটির বৈঠকের এক পর্যায়ে সিপিএ’র চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সিপিএ সম্মেলনের এজেন্ডাগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। মূল এজেন্ডায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি ছিল না। তবে বিষয়টি যেহেতু স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য বড় একটি বিষয় এবং এটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে, এ কারণে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি সম্মেলনে বিশেষ কমপোনেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সিপিএ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে বিষয়টি প্রতিনিধিদের অবহিত করা হবে। সংকট মোকাবেলা করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আমরা তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন চাইব। সিপিএ’র ৪৪টি দেশের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সম্মেলনে আসছেন। রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে আমরা তাদের অবহিত করতে পারলে তারা নিজ নিজ দেশের পার্লামেন্টেও এ সংকট নিয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
স্পিকার বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর ব্যাপারে সিপিসিতে আগত অতিথিরা এ বিষয়ে জানতে চায়, তাদের আগ্রহ আছে, সেজন্য এটি সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনে ওয়ার্কশপ এইচএ ‘হয়াটস ফ্যাক্টরস ফয়েল দি রাইচ অব ডিফারেন্ট কাইন্স অব ন্যাশনালিটিতে’ উত্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে ৫টি বিষয় উল্লেখ করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে বিশ্বজনমত একমত হয়েছে। এটি আর বর্তমানে বাংলাদেশের ইস্যু নেই, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। সুতরাং এ বিষয়টি নিয়ে আমরা সিপিসিতেও আসা সব অতিথির জনমত তৈরি করতে সক্ষম হব এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সিপিএ’র সদস্য দেশগুলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এতে জনমত তৈরি করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে সিপিও চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে সিপিও নির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন সস্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘১ নভেম্বর থেকে সম্মেলন শুরু হয়েছে। সিপিএ’র ১৮০টি ব্রাঞ্চের মধ্যে ১১০টি ব্রাঞ্চের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিনিধিদের আসা অব্যাহত থাকবে। ৫ নভেম্বর সিপিসির (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স ২০১৭) ভাইস প্যাট্রুন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এটি হবে। এর মধ্য দিয়ে সম্মেলনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।’
দুর্নীতি প্রতিরোধে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান সিপিএ’র : দুর্নীতি প্রতিরোধে পার্লামেন্টকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)।
রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনে শুক্রবার সিপিএ স্মল ব্রাঞ্চ আয়োজিত এক সেমিনারে এ সংক্রান্ত তিন দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সেমিনারের মডারেটর জন পটারসন এ তথ্য জানান। সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ‘দ্য রোল অব পার্লামেন্ট ইন কমব্যাটিং করাপশান’ শীর্ষক সেমিনার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সুপারিশের বিষয়গুলো তুলে ধরে জন পটারসন বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সম্প্রদায় থেকে যে কোনো মাত্রায় দুর্নীতি দূর করতে আইন প্রণয়ন ও আইনি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পার্লামেন্টকে অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং দুর্নীতি ও সংস্কৃতির বিপরীতে নীতি প্রণয়নে এমপিদের একমত হতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠান স্থাপন, এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় বিধির কার্যকর অনুসরণ নিশ্চিত করতে পার্লামেন্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ব্রিটেনের আওতাধীন স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র আইল অব ম্যানের হাউস অব কি’র স্পিকার জন বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে এমপি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তাদের প্রতি জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’ এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে তিনি বিভিন্ন ধরনের কমিশন গঠন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি শক্তিশালীকরণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিকালে একটি সংবাদ সম্মেলনে ‘স্মল ব্রাঞ্চের ফিনান্সিয়াল এবং হিউম্যান রিসোর্স চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের মডারেটর ক্রিস স্টিল বলেন, ছোট দেশগুলোর মধ্যে কারিগরি ও মানবসম্পদকে উৎপাদনশীলতায় পরিণত করতে ছোট ও বড় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দাতা সংস্থার সঙ্গে ছোট দেশগুলোকে বৃহত্তর পরিসরে সহায়তা করার প্রয়োজন এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন।
image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here