বাংলাদেশ ১-০ তাজিকিস্তান

0
74

এএফসি অনুর্ধ-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বের ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানকে রুখে দিয়ে আনন্দে ভেসেছিল বাংলাদেশের যুবারা। পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ অনেকটাই সহজ, মালদ্বীপ। তাদের অনায়াসেই হারাতে পারবে লাল-সবুজরা, এমনটাই ভেবেছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তাদের ভাবনা ছিল ভুল। জিতেছে বাংলাদেশই ১-০ গোলে। অনেক নাটকীয় ও স্বস্তির জয় ছিল এটা। সুফিলের গোলে সুফল পেল বাংলাদেশ। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (৯০ মিনিট) ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল ‘আলোর দিশারী’ হয়ে গোল করে পথ দেখান নিজ দলকে, পুরো জাতিকে। এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে আপাতত শীর্ষে উঠলো বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এটা বাংলাদেশের প্রথম জয়। ৪ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে মালদ্বীপের এটা প্রথম হার। ১ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে। এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে (‘বি’ গ্রুপ) শক্তিশালী উজবেকিস্তান ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শ্রীলঙ্কাকে। ১ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে উজবেকরা দ্বিতীয় এবং ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে লঙ্কানরা আছে তলানিতে। শ্রীলঙ্কা তাদের প্রথম ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছিল মালদ্বীপের সঙ্গে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী ৬ নবেম্বর, প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। মজার ব্যাপার বাংলাদেশ জিতলেও এএফসি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখেছে মালদ্বীপ ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। সুফিল নাকি আত্মঘাতী গোল করে মালদ্বীপকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট উপহার দেন! এদিকে খেলা দেখার জন্য ক্রীড়া সাংবাদিকদের বাফুফে যে লিংক পাঠিয়েছিল সেই লিংক ওপেন করে খেলা দেখা যায়নি। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের সময়ও (বিপক্ষ তাজিকিস্তান) এমনটা ঘটেছিল। ফলে বাফুফের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্নারে ১৯/৩, শটে ২৭/২, গোলমুখে শটে ৮/০, অফ টার্গেটে শটে ১৯/২, বল নিয়ন্ত্রণে ৮০/২০ শতাংশ। এই ছিল ম্যাচের পরিসংখ্যান। যাতে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। একচেটিয়া আক্রমণ। অতি আত্মবিশ্বাস। কখনও পোস্টে লেগেছে, কখনও গোলরক্ষকের গায়ে, ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছে। কখনও পোস্ট ঘেঁষে বাইরে গেছে। সব খেলোয়াড়ই চেয়েছে প্রতিপক্ষের জালে বল ঢোকাতে। এই ছিল বাংলাদেশের খেলা। এই অতি আত্মবিশ্বাসই ডোবাতে যাচ্ছিল বাংলাদেশকে। শেষে অবতার হয়ে আবির্ভূত হন সুফিল। দুশানভের রিপাবলিকান সেন্ট্রাল স্টেডিয়াম। মাচের তখন ৯০ মিনিট চলছে। মিডফিল্ড থেকে বিপলু আহমেদ বল পাস দেন সতীর্থ জাফর ইকবালকে। জাফর দক্ষতার সঙ্গে মালদ্বীপের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে প্রচ- গতির যে শটটি নেন তা মালদ্বীপের গোলরক্ষকের বুকে লেগে ফেরত আসে। ঠিক দুই মিটার দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সুযোগ সন্ধানী সুফিল। কালবিলম্ব না করে টোকা দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দল ও দেশকে এনে দেন অপার চিত্তসুখের উপলক্ষ (১-০)। এরপর আরও পাঁচ মিনিট সংযুক্ত সময়ের খেলা হয়। টেনশন ছিল এই বুঝি আবার গোল শোধ দিয়ে বসে মালদ্বীপ। কিন্ত তাতে আর সফলকাম হতে পারেনি তারা। খেলা শেষ হলে নাটকীয় ও স্বস্তির এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাহবুব হোসেন রক্সির শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষে তিনি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘জিতলেও আমি খুশি নই। কারণ আমরা আরও বেশি গোলে জিততে পারতাম। কিন্তু আমার খেলোয়াড় অমার্জনীয় কিছু মিস করেছে। তারা প্রত্যেকেই গোল করতে চাচ্ছিল। অতি আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলছিল। এটা মোটেও ভাল নয়। প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও এত কম গোলে জেতাটা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।’

দেড়মাস আগে সাফ অনুর্ধ-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে এই মালদ্বীপকেই ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ, লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে ২০১১ সালে এএফসি অ-১৯ আসরেও তাদের ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এই মালদ্বীপকেই কি না হারাতে বিস্তর ঘাম ঝরাতে হলো তাদের!

তবে সাফের সঙ্গে এএফসি বাছাইয়ের মালদ্বীপ দলে অনেক ফারাক আছে। কেননা মালদ্বীপের এই দলে ৭ জনই নতুন। অন্যদিকে সাফ খেলা বাংলাদেশ দলের ৪ জন বাদ পড়ে নতুন ৪ জন যোগ হয়েছে এএফসির দলে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেই মালদ্বীপ জানিয়ে দিয়েছিল তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াইটা খুব সহজ হবে না। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্র’তে তারা আটকে রাখে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াইটা অব্যাহত থাকে। ৮৯ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশকে গোলমূখ খুলতে দেয়নি মালদ্বীপ। তবে ৯০ মিনিটে গোল আদায় করে ম্যাচে লিড নেয় বাংলাদেশ।

এখন দেখার বিষয় পরের ম্যাচে হট ফেভারিট উজবেকদের সঙ্গে কেমন ফল করে রক্সির শিষ্যরা।

image_pdfimage_printPrint

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here